শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য ‘সফট ফারনিশিং’

ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য ‘সফট ফারনিশিং’

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯

শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য ‘সফট ফারনিশিং’

নিজের বাড়ি হলে আপনি যা খুশি তাই করতে পারেন। ভাড়া বাসায় আমরা অনেক কিছু চাইলেও পারি না। তবে ভাড়া বাসার রঙ দেয়াল, মেঝেতে খুব বড় চেঞ্জ না এনেও শুধু সফট ফারনিশিং-এর কিছু স্টাইল দিয়ে। বলা হয়ে থাকে সফট ফারনিশিংই ঘরকে ঘর বানায়! সফট ফারনিশিং দিয়ে রুচিশীলভাবে ঘরের লুক চেঞ্জ করা যায় কীভাবে আজ সেটা জেনে নিন। অত চিন্তা না করে আসুন সফট ফারনিশিং কী, সেটা আগে একটু জেনে নেই।

সফট ফারনিশিং: সহজ ভাষায় সফট ম্যাটেরিয়ালে তৈরি ইনটেরিওর ডেকোরেশনের আইটেম, তা যাই হোক না কেনো, সবই সফট ফারনিশিং। এর মাঝে ম্যাট্রেস, বেড কভার, পিলো কভার, কুশন, সোফা কভার, জানালার পর্দা, টেবিল রানার, থ্রো রাগ, ফ্লোর রাগ, কার্পেট সবই।

সফট ফারনিশিং দিয়ে নিজে হয়ে উঠুন ক্রিয়েটিভ:

.পুরনো ফার্নিচারে নতুন লুক দিতে চাইলে

.ঘরের মুড চেঞ্জ করতে চাইলে

.অকেশন বা গেস্টের জন্য স্পেশাল কিছু করতে চাইলে

.কম বাজেটে ম্যাক্সিমাম ডেকোরেশন করার ইচ্ছা থাকলে

বেড যত দামিই কিনুন না কেন? আরাম কিন্তু আসে সফট ফারনিশিং থেকেই। এমনকি বেড, সোফা সেট ছাড়া মেঝেতেও সুন্দর রাগ, শতরঞ্চি, তোশক কাভার ফেলে খুব আরামে জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়। ঘরের জন্য কাঠের ফার্নিচারের চেয়ে সফট ফারনিশিংটাই কিন্তু তাই বেশি ইম্পরট্যান্ট!

আসুন স্টাইলিং-এর সময় কি মাথায় রাখবেন তা জেনে নেই:

১. কুশন: কুশন এমন ভার্সেটাইল একটা জিনিস যে এটা মেঝে, সোফা, বেড যেখানেই রাখবেন ভালো লাগবে। কিন্তু কুশনের ডিজাইন ঘরের থিমের সাথে যাচ্ছে কিনা মাথায় রাখতে হবে।

মডার্ন মনোক্রোম থিমে সাজানো ঘরে ধুম করে আড়ং-এর কাঁথা স্টিচ-এর কুশন কাভার যেমন বসবে না তেমনি ট্র্যাডিশনাল টোন-এ সাজানো ঘরে ‘বি এ রেবেল’ প্রিন্ট করা পপ আর্ট-এর কুশন ঢোকানো যাবে না। সামাঞ্জাস্য এবং থিম ধরে রাখবেন। নিজের মাথায় যেটা ভালো লাগবে সেটাকেই ঘরে নিয়ে আসবেন না।

বেডের মাথার দিকে দুই সাইজের কুশন (বড় এবং ছোট) লেয়ার করে রাখতে পারেন, ড্রয়িং রুমের কোনায় ছোট একটা শতরঞ্চি ফেলে তার উপর বাছা বাছা ডিজাইনের দুটো কুশন ফেলে দিতে পারেন কোনো অকেশনে।

ঘর কমফোর্টেবল আর ইনভাইটিং করার জন্য কুশনের ব্যবহার যেকোনোভাবে করবেন, দেখবেন ভারী কিং সাইজ বেড বা ডিভান, সোফা, চেয়ার এসব না কিনেও আপনার ঘরে আরাম করে বসা, হেলান দিয়ে শুয়ে থাকার জায়গার অভাব হবে না।

২. বেড কভার: উৎসবের ঘর সাজানোর সময় সেই গাবদা শিট বেডে বিছিয়ে ভাবেন, কেনো আমার বাসাটা দেখতে একটু মডার্ন না?

বেড কাভার চুজ করার সময় ফুল-ফল-লতা-পাতা এড়িয়ে যান। এটা শাড়ি পাঞ্জাবি না যে যত ডিজাইন যত সেলাই তত ভালো দেখাবে। সেলাই করা বেড শিটে আরাম করে বসা বা ঘুমানো অসম্ভব! একটা কিম্ভূতকিমাকার বেড শিট বিছিয়ে নিজের দামি ফার্নিচার-এর সৌন্দর্যও নষ্ট করার কোনো মানে হয় না!

মনোক্রম (এক রঙের বিভিন্ন শেড টোন)এ ঘর সাজানোর ট্রাই করুন। বেড শিট আর কাঁথা ব্ল্যাঙ্কেট একরকম রঙের শেড-এ বাছুন। ঘরের সাথেও যাবে, ফার্নিচার-এর দিকেও চোখটা যাবে, আর সবদিক থেকে আরামদায়কও হবে।

৩. রাগ/ফ্লোর কাভার: ভাড়া বাসায় জমিদার বাড়ির স্টাইলে ফেক ইরানি ডিজাইন করা কার্পেট দিয়ে রুমটার দম বন্ধ করার কথা ভুলেও ভাববেন না। এর চেয়ে ঘরে নিয়ে আসুন একরঙা ছোট ছোট রাগ(ম্যাট), টেবিলের নিচে দিন। বা ছোট থ্রো রাগ সোফায় ফেলে রাখুন। আজকাল নকল ফার-এর থ্রো রাগ বেশ চলছে। ইজিলি এসব ছোট রাগ এদিক ওদিক সরানো যায়, চেঞ্জ করা যায়।

ইসি/