ফ্রিজ কেনার আগে যা জানা জরুরি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

ফ্রিজ কেনার আগে যা জানা জরুরি

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৮

print
ফ্রিজ কেনার আগে যা জানা জরুরি

রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ আধুনিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। প্রতি বছর ঈদুল আযহার আগে ফ্রিজের বিক্রি বাড়ে। এবারও অনেকেই নতুন ফ্রিজ কিনবেন। তাই শুধু বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত না হয়ে জানা উচিত ভাল ফ্রিজের বৈশিষ্ট।

রেফ্রিজারেটর কেনার ক্ষেত্রে জেনে নিতে হবে এর কম্প্রেসার, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ক্ষমতা, ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও ভেতরের জায়গা সম্পর্কে।

দাম একটু বেশি হলেও গুরুত্ব প্রদান করা প্রয়োজন এসব বিষয়ের ওপর। এক্ষেত্রে সাধ্যের মধ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফ্রিজ কেনা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। একটি ভালো ফ্রিজ যেমন খাবার সতেজ রাখে অনেকদিন যাবৎ, ঠিক তেমনি বজায় রাখে ঘরের ভেতরের শান্তি।

আজ পাঠকদের জন্য ফ্রিজ কেনার আগে যেসব জিনিস জানা জরুরি, তা তুলে ধরা হলো—

কম্প্রেসার

একটি ফ্রিজের কার্যক্ষমতা নির্ভর করে এর কম্প্রেসারের ওপর। কম্প্রেসার যত উন্নতমানের হবে ফ্রিজ তত দ্রুত শীতল হবে। বর্তমানে সবচেয়ে উন্নতমানের কমপ্রেসারগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে ইনভার্টার প্রযুক্তি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ক্ষমতা

ফ্রিজ যত বিদ্যুৎ স্বাশ্রয়ী হবে খরচ তত কমবে। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে ফ্রিজের বিদ্যুৎ সাশ্রয় ক্ষমতার ওপর। সাধারণত ডিজিটাল ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজগুলো খুবই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়। ডিজিটাল ইনভার্টার প্রযুক্তির রেফ্রিজারেটরের মূল্য একটু বেশি হলেও পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিল কমাতে সহায়তা করে।

আকার ও মডেল

ফ্রিজ কেনার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে ফ্রিজটির ধারণ ক্ষমতার ওপর। অনেক ফ্রিজ আছে যেগুলো বাইরে থেকে বড় মনে হলেও ভেতরে যায়গা থাকে খুবই কম। ফ্রিজের ধারণ ক্ষমতা কম হলে অনেক বাজার এক সঙ্গে স্টোর করা সম্ভব হয় না। মডেলের ক্ষেত্রে দেখা উচিত ফ্রিজটি ফ্রস্ট নাকি নন ফ্রস্ট। ফ্রস্ট ফ্রিজের কম্পার্টমেন্টে বরফ জমে যায়, যা পরিষ্কার করা কষ্টসাধ্য। তাই নন ফ্রস্ট বা বরফ জমে না এমন রেফ্রিজারেটর কেনা ভাল।

খাবার সতেজ রাখতে পারার সক্ষমতা

ফ্রিজের কাজ কেবল খাবার সংরক্ষণ করা নয় সতেজ রাখাও। ফ্রিজের ভেতরের আর্দ্রতা এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রিজের ভেতরের আর্দ্রতা ও পরিবেশের সঙ্গে নির্ভর করে খাবারের সতেজতা। আধুনিক ফ্রিজগুলো প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম।

ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা

ফ্রিজ কেনার সময় যতটা বেশি ওয়ারেন্টি নেয়া যায়, তত ভাল। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানি কম্প্রেসারের ভিন্নতার ওপর ১০ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি প্রদান করছে।

দেশীয় ওয়ালটন, যমুনা ছাড়াও বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ড কোম্পানির ফ্রিজ বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যায়। বলা হয়, বাংলাদেশে দুই ধরনের রেফ্রিজারেটর পাওয়া যায়। ফ্রিজ ও ফ্রিজার।

বিশ্বখ্যাত স্যামসাং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের টুইন কুলিং রেফ্রিজারেটরে ফ্রিজ এবং ফ্রিজার দুটিই আছে। রয়েছে টুইন কুলিং প্লাস প্রযুক্তি, যা ডুয়াল এভাপরেটরের মাধ্যমে ফ্রিজের মধ্যে ৭০ শতাংশ আর্দ্রতা ধরে রাখে। এতে খাবার থাকে সতেজ।

আরও আছে ৫ ইন ১ স্মার্ট কনভার্টিবল প্রযুক্তি, যা ফ্রিজারকে ৫টি অপশনের মাধ্যমে ফ্রিজে রুপান্তর করতে পারে। রেফ্রিজারেটরগুলোর ডিজিটাল ইনভার্টার কম্প্রেসারে ১০ বছরের ওয়ারেন্টির সঙ্গে থাকছে ২ বছরের পার্টস ওয়ারেন্টি। ফ্রিজগুলোর সর্বনিম্ন ধারণ ক্ষমতা ৩২১ লিটার।

এফএ/আইএম

 
.


আলোচিত সংবাদ