বগুড়া ইয়ূথ কয়্যার, আমার হৃদয়ের তার (৬ষ্ঠ পর্ব)

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বগুড়া ইয়ূথ কয়্যার, আমার হৃদয়ের তার (৬ষ্ঠ পর্ব)

লে. কর্ণেল শহীদ আহমেদ (অব.) ১:২৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৮

বগুড়া ইয়ূথ কয়্যার, আমার হৃদয়ের তার (৬ষ্ঠ পর্ব)

নতুন সিলমোহর বারবার দেখছিলাম আমরা। আমাদের নতুন একটি গোষ্ঠী জন্ম নিল। সে মুহূর্তে ধারণা ছিল না যে, এর অবয়ব কেমন দাঁড়াবে। টিপু ভাই, লেবু, আমি, প্রদীপ রায় (বাবলু), রণজিত পাল ছাড়া এখনও অন্যদের সাথে কথা হয়নি। ওরা কি আসবে? যদি না আসে?

প্রথমে আমাদের দরকার হলো একটা পরিচালনা কমিটি করা। কিন্তু কে হবেন সভাপতি, কে হবেন সাধারণ সম্পাদক, অন্যান্য দায়িত্ব কে নেবে? আমি তো ধরেই নিলাম যে, টিপু ভাই হবেন সভাপতি। কিন্তু উনি নারাজ। বললেন, সংগঠন চালাতে গেলে কিছু পৃষ্ঠপোষক ব্যক্তির দরকার হয়— যাদের মোটামুটি ক্ষমতা, টাকাপয়সা আর বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করার মতো সময় আছে। আমরা তো পারফর্ম করব, তাই আমরা একটু পেছনের সারিতে থাকলেই ভালো।

বেশ তা না হয় বুঝলাম, কিন্তু তাহলে কাকে সভাপতি করা হবে? কোথায় হবে আমাদের ঠিকানা? মহাচিন্তার ব্যপার!

একদিন টিপু ভাই বললেন, আমাদের মহিলা এমপি আয়েশা আশরাফকে প্রস্তাব দিয়ে দেখি, কী বলিস?

আমি বললাম, উনি এসব ব্যপার বুঝবেন কি?

- বুঝুক না বুঝুক, মহিলার উৎসাহ আছে। কবিতা লেখেন। কবিতার বইও ছাপিয়েছেন। মহিলা এমপি হয়েছেন। প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন সহজেই। সভাপতি পদের অফার কি আর ফেলে দেবেন? চল, বলে দেখি।

যে কথা সেই কাজ। পরদিন দুজনে মিলে গেলাম তার বাড়ি। উনাকে আগেই চিনতাম। তার মেয়ে লিলি আমার ক্লাসমেট ছিল। স্বামী আশরাফ আলী পেশায় কন্ট্রাক্টর হলেও দুষ্টু ছেলেমেয়েরা তাকে একটি বিশেষ নামে চিনত। তাছাড়া আমার বন্ধু বল্টুর আত্মীয় বলে ওর সাথে কয়েকবার আয়েশা আশরাফের জলেশ্বরীতলার বাসায় গেছি। তাকে খালা বলতাম। সেদিন খালা বাড়িতেই ছিলেন। আমাদের প্রস্তাব শুনে রাজি হতে দেরি করলেন না। বললেন, আমি তো অত সময় করতে পারব না। তবু সব কাজে তোমাদের সাথে থাকব, ইনশাল্লাহ।

অতএব আমাদের কমিটি গঠন করতে সুবিধা হলো। প্রথম কমিটি গঠন হলো এভাবে—

সভাপতি : বেগম আয়েশা আশরাফ

সাধারণ সম্পাদক : তওফিকুল আলম টিপু

সহ-সাধারণ সম্পাদক : শহীদ আহমেদ নটু

আতিকুল আলম লেবু

সদস্য : প্রদীপ রায়

রণজিত পাল

পরবর্তীকালে এই কমিটির সাথে আরও অনেকে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এসব আনুষ্ঠানিক কমিটি কখনো ছাপার অক্ষরে কোথাও সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি-না আমার জানা নেই। তবে সে প্রশ্নের চেয়ে আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কাজের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা। তাই সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, কোন প্রতিদানের আশা না করেই।

বেগম আয়েশা আশরাফ তেমন উচ্চশিক্ষিত ছিলেন না। তবে তিনি সহজ-সরল মানুষ ছিলেন এবং বয়সের তুলনায় যথেষ্ট পরিশ্রম করতে পারতেন। আমাদের সাথে তিনি পাড়ায় পাড়ায় টিকেট বিক্রির জন্য ঘুরেছেন, বিভিন্ন সরকারি অফিসে আমাদের সংগঠনের জন্য দেন-দরবার করতেন, সর্বোপরি দারুণ উৎসাহী মানুষ ছিলেন।

একবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বগুড়া সফরে এলে তিনি সার্কিট হাউসে দেখা করে একটাই দাবি জানালেন, ‘আমার বগুড়া ইয়ূথ কয়্যারের জন্য ফান্ড, অফিস ইত্যাদি দিতে হবে।’ প্রেসিডেন্ট তার দাবি কিছুটা হলেও মেনেছিলেন। তখনকার জেলা প্রশাসকের সমাজকল্যাণ ফান্ড থেকে কিছু নগদ সহায়তার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সেই সহায়তার মাধ্যমে আমার যতদূর মনে পড়ে, একটা হারমোনিয়াম ও কয়েকটি বাদ্যযন্ত্র কেনা হয়েছিল।

এই মানুষটি এখন আর বেঁচে নেই। তার কথা ভুললে অন্যায় করা হবে। ল্যাবরেটরিতে অক্সিজেন তৈরি করতে ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড বা ‘প্রভাবক’ দরকার হয়। বেগম আয়েশা আশরাফ বগুড়া ইয়ূথ কয়্যারের শৈশবকালে সেই প্রভাবকের কাজ করেছিলেন।

(চলবে)
আরও পড়ুন...
বগুড়া ইয়ূথ কয়্যার, আমার হৃদয়ের তার (১ম পর্ব)
বগুড়া ইয়ূথ কয়্যার, আমার হৃদয়ের তার (২য় পর্ব)

বগুড়া ইয়ূথ কয়্যার, আমার হৃদয়ের তার (৩য় পর্ব)
বগুড়া ইয়ূথ কয়্যার, আমার হৃদয়ের তার (৪র্থ পর্ব)
বগুড়া ইয়ূথ কয়্যার, আমার হৃদয়ের তার (৫ম পর্ব)

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।