নীল তিমি...সতর্কবার্তা না বিজ্ঞাপন!!!

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

নীল তিমি...সতর্কবার্তা না বিজ্ঞাপন!!!

মো. জাহাঙ্গীর আলম ৭:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৭

নীল তিমি...সতর্কবার্তা না বিজ্ঞাপন!!!

পুরানো কৌতুক গ্রামের চেয়ারম্যান সাকো পারাপারের সময় দেখে অপর প্রান্তে পাগল চুপচাপ দাঁড়ানো। আতঙ্কগ্রস্ত চেয়ারম্যান অনবরত বলতে থাকে, এই পাগল সাকো নাড়াবি না, একদম নাড়াবি না, আল্লার দোহাই লাগে নাড়াবি না। চেয়ারম্যানের চেঁচামেচিতে বিরক্ত পাগল সাকো ধরে দিল ঝাঁকি। এর পর চেয়ারম্যান সাহেবের ভাগ্যে কি ঘটেছিল তা আর জানা যায়নি।

তবে আমাদের অবস্থাও ঐ চেয়ারম্যানের মত, কিশোর কিশোরীরা চুপচাপ পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত কোথাও কোনো সমস্যা নেই। হঠাৎ আমরা চিৎকার শুরু করলাম বাচ্চারা ‘ব্লু হোয়েল’ খেলবা না, একদম খেলবা না। অতঃপর কিশোর কিশোরীরা নীল তিমির সন্ধানে নামলো। আফসোস; একটু খোঁজ করলে জানা যাবে অধিকাংশ অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়রা আমাদের কাছেই ‘ব্লু হোয়েলের’ নাম প্রথম শুনেছে।

এই পাগলামির শুরুটা যেখান থেকে অর্থাৎ ‘অপূর্বা বর্ধণের আত্মহত্যা’, এই সংবাদের কোথাও কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয়নি যে, তার আত্মহত্যার মূল কারণ ‘ব্লু হোয়েল’। তার মুঠোফোন ঘেঁটে কোথাও নীল তিমির নাম নিশানা পাওয়া যায়নি। অথচ এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে এক শ্রেণির বিশেষজ্ঞ! গেমের আদ্যপান্ত ব্যাখ্যা করে সাবধান বানীর নামে গুজবের প্রচারণা চালাচ্ছে। এমনকি ইদানিং বিটিআরসির নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুদেবার্তাও পাঠানোও হচ্ছে।

অন্যদিকে বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। এই গেম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই নেই। ভাল মাপের প্রযুক্তি জ্ঞান না থাকলে ‘ব্লু হোয়েল’ খেলা সম্ভব না। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে পৌঁছানো তো অনেক দূরের কথা।

ভীতির কথা হল আমরা বিষয়টাকে হালকা করে দেখলেও অপরাধীরা কিন্তু এই সুযোগটা চিনতে ভুল করবে না। দেখা যাবে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে ‘ব্লু হোয়েল’ এর উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। আবার এমনও হতে পারে কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আত্মহত্যা করে দোষ চাপিয়ে দিল ব্লু হোয়েলের উপর। দুই ক্ষেত্রেই আসল অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। যা কখনোই কাম্য নয়।

আমরা একটা ব্যাপার সবসময় ভুলে যাই শিশুকিশোররা সবসময় নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি অধিক কৌতুহল দেখায়। শিশুকিশোর বলছি কেন, সব মানুষেরই নিষিদ্ধের প্রতি টানটা একটু বেশি। একারণেই যেকোনো বিষয়ে পরিমিতিবোধ থাকাটা জরুরি। যেকোন সামাজিক গর্হিত বিষয়ে জনসাধারণকে সাবধান বাণী শোনানোর আগে লক্ষ্য রাখা উচিৎ এই সাবধান বাণী না আবার বিজ্ঞাপন হয়ে যায়। দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের উচিৎ এসব বিষয়ে শুরুতেই অবস্থান পরিষ্কার করা যাতে কেউ গুজব ছড়াতে না পারে।

লেখক : সহকারী প্রধান, পরিকল্পনা কমিশন।

মো. জাহাঙ্গীর আলম এর আরও লেখা

বিসিএস বিভ্রাট

নীল তিমি...সতর্কবার্তা না বিজ্ঞাপন!!!

'রাষ্ট্রহীন এক জাতির গল্প'

বন্ধু দিবসের উল্টো পিঠ

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।