‘কত দামে কী- কী কিনলাম‘ পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

‘কত দামে কী- কী কিনলাম‘ পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’

মোহাম্মদ আলী ২:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

‘কত দামে কী- কী কিনলাম‘ পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’

বাংলা সাহিত্যের পথিকৃত স্বর্গত: বঙ্কিম চন্দ্র বাবু যারই উদ্দেশে উক্তিটি করুন না কেন, কিন্তু আজ দেশ ও সমাজের চারদিক তাকিয়ে কেন জানি তার ওই কথাটিই ঘুরে-ফিরে মাথায় মধুমক্ষির মতো ভন ভন করছে।

তিরিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলার স্বাধীনতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন যা মূর্তকরণে ঐতিহাসিক দায় নিয়ে একদিন এগিয়ে এসেছিল তৎকালীন গোটা ছাত্র সমাজ, যার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকায় নেতৃত্ব দিয়েছিল তারই হাতে গড়া ছাত্রলীগ এবং আরো দু’একটি ছাত্র সংগঠন। সে সংগ্রামী সেনাদের আজ দেশের জাতীয় রাজনীতিতে দু'একটি অতি-চেনা মুখ যাদের অসহায় নীরব এবং নির্বাকপ্রায় হয়ে বিচরণ করতে দেখা যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- তোফায়েল, আমির হোসেন আমু, আ স ম আব্দুর রব, নুরে আলম সিদ্দিকী, রাশেদ খান মেনন, মতিয়া চৌধুরী, হাসানুল হক ইনু প্রমুখ।

তাদের ক্ষীণ কণ্ঠ আজ কেউ শোনে বলে মনে হয় না; তৃণমূল পর্যায়ে ছিটে-ফোটা যে দু'চারজন জীবিত তারা আজ সবাই প্রায় তলানিতে, তাদের কণ্ঠ অনুচ্চ এবং খানিকটা নানামুখী বিচ্যুতি যে এর জন্য দায়ী তা সাহস করে বলা যেতে পারে বৈকি।

যাই হোক, একদিন বাংলার মাটিতে ঝড় উঠেছিল... উঠেছিল বাউল বাতাস আর সে বাতাসে ভেঙে-চুড়ে তছনছ হয়ে গিয়েছিল উপনিবেশিক শক্তি ও শাসক গোষ্ঠীর তখতে-তাউস; পূর্ব দিগন্তে উদয় হয়েছিল স্বাধীনতার লাল সূর্য, আর সে সূর্যসন্তানদের অগ্র সৈনিক ছিল সেদিন এই ছাত্র-যু্বকেরাই।

কিন্তু আজ আবার কী হয়ে গেল? আদর্শিক বিভক্তি তো থাকবেই, সেটাই তো প্রগতিমুখী চিন্তা-চেতনা ও সমাজের অন্তর্গত ডায়নামিজম! এ বিভক্তি তো পূর্বেও ছিল, কিন্তু তাতে তো এতটা পারস্পরিক হানাহানি, টানাটানি ও রক্তারক্তি ছিল না। ছিল না কোনো বিত্ত-বৈভব, লোভ-লালসা কিংবা প্রাপ্তির উদগ্র বাসনা! আজ এ সূর্য-সারথিরা উল্টোরথে চড়ে বসল কেন? কেন আজ এক দল আর এক দলকে বলছে: তোরা আমাদের শত শত কর্মী মেরেছিস; আর একদল বলছে: তোরা তো আমাদের হাজার-হাজার নেতাকর্মী হত্যা করেছিস! আর এসব দেখে-শুনে মনে হওয়াটাই তো স্বাভাবিক যে, ছাত্ররাজনীতি আজ সত্যিই তার সঠিক দিশা হারিয়ে অবক্ষয়ের এক অন্ধ গলিতে ঘুরপাক খাচ্ছে।

যে জনগণ একদিন শ্রদ্ধা ও অহংকার মিশ্রিত আবেগ ও দৃষ্টি নিয়ে যে ছাত্র নেতৃত্বের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতো সেই দৃষ্টিতে আজ ভীতি, শঙ্কা ও ঘৃণার বিচ্ছুরণ কেন? এসব দৃষ্টে, আজ আবার মনে পরে গেল কবি কামিনী রায়ের সেই বিখ্যাত কবিতার প্রায়শঃ উক্তি:

‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলই দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও’

এখন তো সে গৌরবের দাবিদার-
বায়ান্ন'র রফিক-জব্বার,
এখন তো সে আত্তাহূতির দাবিদার
শুধু নিঃশঙ্ক-নির্ভীক একজন আবরার

লেখক: সংস্কৃতি কর্মী

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 

মুক্তকথা: আরও পড়ুন

আরও