ডাক্তার বনাম রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড

ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ডাক্তার বনাম রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড

প্রকৌ. কেএম তারিকুজ্জামান (ভাষ্কর) ৪:৪২ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০১৯

ডাক্তার বনাম রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড

ফেসবুকে এখন তুমুল আলোচনা ডাক্তার বনাম রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড। আর ডাক্তার মানে আমাদের দেশি ডাক্তার, আমাদেরই ভাই-ব্রাদার, বন্ধু-বান্ধব। প্রকারান্তরে বিদেশি ডাক্তাররা হয়ে উঠেছেন দেবতুল্য আর দেশি ডাক্তাররা একেকজন সাক্ষাৎ ভিলেন। বিষয়টাকে উস্কে দিয়েছেন আমাদের দলনেতা (ক্রিকেট দলের) টার্নড জননেতা মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বাঙালি বড়ই আবেগপ্রবণ জাতি। নিজে মানি না মানি আরেকজনের অপরাধ ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে, মাথা ঝাঁকিয়ে, গলা উঁচিয়ে প্রতিবাদী, বিদ্রোহী হয়ে ওঠা আমাদের মজ্জাগত। এখনতো আবার ফেসবুক হওয়াতে মহাসুবিধা। আড্ডা বসার বালাই নেই, রাতে ঘুম আসছে না, লেখো লম্বা স্ট্যাটাস, অফিসে কাজ নেই, লেখো একটা পোস্ট।

আমরা বড়ই বিচিত্র কিসিমের জাতি। সকাল-বিকেল নামাজ পড়ে কপালে কড়া ফেলি, হালাল-হারাম খাদ্য নিয়ে সদা সতর্ক থাকি, আবার ঘুষের টাকার ভেতর জাল টাকা পেলে দেশ রসাতলে গেল বলে সবার গুষ্টি উদ্ধার করি।

আমার এক বন্ধু সরকারি চাকরি করতেন। ছাত্রজীবন থেকে দেখে এসেছি নীতির প্রশ্নে তিনি আপসহীন এক প্রতিবাদী কণ্ঠ। বিশেষ পছন্দ এ কারণেই। সরকারি চাকরি জীবনে একদিন আমাকে বললেন, বন্ধু যে টাকা পাই তাতে সংসার চলে না, উপরি না নিলে ভদ্রভাবে থাকা সম্ভব না। সরকারি চাকরিতে সৎ থাকার সংজ্ঞা হলো ফাইল আটকিয়ে টাকা না খাওয়া। ফিক্সড কমিশন যেটা আসে সেটা নেয়া দোষের কিছু না। বুঝলাম ডারউইনের বিবর্তনবাদের মতো পরিবর্তন শুধু মানুষের দৈহিক গঠনে না, মানসিক চিন্তা চেতনাতেও কি প্রবল ভূমিকা রাখে। এখন সেই বন্ধুই ব্যবসায় নেমে সারাদিন অভিযোগ করেন সরকারি অফিসে ঘুষের ঠেলায় ঠিকমতো কাজ শেষ করা যায় না, আবার লাভও থাকে না।

আমার টিমের একজনের কাছে শোনা। রোজার মাসে তার দেশের বাড়িতে জমিজমা সংক্রান্ত একটা মামলায় স্থানীয় থানার ওসির সাথে দেখা করতে গেছেন। কথাবার্তা বলার পর রীতি অনুযায়ী বাদামি রঙের খামটা ওসির হাতে দিতে যেতেই ওসি সাহেব হৈ হৈ করে উঠলেন। বললেন, করেন কি, করেন কি? আমার কলিগ ভাবলেন, ঘুষ সাধাতে বাধ সেধেছেন ওসি। পরক্ষণেই বলে উঠলেন, আমি অজু করে এসেছি জোহরের নামাজটা পড়ব বলে। আমি ওটা হাতে নিতে পারবো না এখন। আপনি এক কাজ করুন, খামটা আমার ড্রয়ারে রেখে দিন। এই বলে ড্রয়ারটা খুলে দিলেন।

ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি দুর্নীতিবাজ মানেই হয় প্রকৌশলী না হয় পুলিশ। ডাক্তারদের ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই একটা শ্রদ্ধাজাগানো ভালোলাগা কাজ করত। মানবসেবার চরমব্রত নিয়ে একেকজন ডাক্তার হন। ডাক্তারদের ব্যাপারে খুব একটা খারাপ কথা শুনতাম না তখন। বরং কে কত বড় ডাক্তার, কত মরণাপন্ন রোগীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে এনেছেন সেটাই লোকমুখে ফিরত।

এরপর আমাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করলো। ব্যক্তিগতভাবে আমরা যতটা স্বচ্ছল হলাম, সমষ্টিগতভাবে রাষ্ট্র সেভাবে উন্নত হলো না। আর হবেই বা কি করে, রাষ্ট্রের টাকা দুর্নীতি করে নিজের পকেটে পুরলে কিছু পকেট ভারী হয় ঠিকই কিন্তু আম আদমির সুযোগ-সুবিধা আগের মতোই রয়ে যায়।

সরকারি হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই, নিত্যনতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আয়ত্তের জন্য ডাক্তারদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। থাকার মধ্যে আছে ঘুষের টাকায় ভারী পকেট। এদের একটা বড় অংশ আর কিছু সৎ অবস্থাপন্ন এবার উচ্চশিক্ষায় বিদেশযাত্রার মতো উচ্চচিকিৎসায় বিদেশ পাড়ি জমানো শুরু করলেন।

আমাদের পাশের দেশগুলো, যেমন, ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় তখন শুরু হয়েছে নতুনধারার পর্যটনশিল্প- মেডিক্যাল ট্যুরিজম। ঝা চকচকে হাসপাতাল, বরফ শুভ্র এপ্রোন-টাই পড়া ডাক্তার, চিকন কটির সদা হাস্যোজ্জ্বল সুন্দরী নার্স। বুর্জোয়াশ্রেণি প্রাণ বাঁচাতে ব্যবসার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছে ততদিনে। আমরাও কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে, হাসিমুখে সেই চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরছি। চিত্রনাট্য বড়ই মজবুত, কোনো সমস্যা নেই, ভিলেনের আগমন তখনও হয়নি।

সমস্যা শুরু হলো যখন হটাৎ একরাতে ধরুন আপনার বুকে ব্যথা। ভরসা ওই সরকারি হাসপাতাল। অথবা সদ্য গজিয়ে ওঠা কোনো বেসরকারি ‘বি’ গ্রেডের হাসপাতাল। ইদানিং অবশ্য কিছু বেসরকারি ‘এ’ গ্রেডের কর্পোরেট হাসপাতাল চালু হয়েছে।

সরকারি হাসপাতাল মানে আর যেকোনো সরকারি কার্যালয়ের মতোই, বরং কোনো অংশে একটু বেশিই খারাপ। বাসায় চুরি হলে থানায় না গেলেও চলে, শরীরে রোগ বাঁধলে হাসপাতালে না যেয়ে তো উপায় নেই। তাই নিয়ত সরবরাহ এবং চাহিদার যে অসাম্য অবস্থা, সরকারি হাসপাতালের প্রতিটা ইঞ্চি আপনাকে যেন সেই বার্তাই জানান দেয়। ধারণক্ষমতার তিনগুণ রোগী আর চাহিদার অর্ধেক ডাক্তার, নার্স আর ক্লিনিক্যাল স্টাফ দিয়ে চলছে বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতালের কার্যক্রম। এর ওপর চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধপত্র এসবের অপ্রতুলতাতো আছেই।

ভুলে গেলে চলবে না, চিকিৎসা একটা সমন্বিত ব্যবস্থা। চিকিৎসা ব্যবস্থার একটা বড় অংশজুড়ে আছেন ডাক্তার এবং তারাই প্রধান অনুষঙ্গ কিন্তু একমাত্র নন। সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই যুৎসই গণস্বাস্থ্য পলিসি, সমন্বিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, মানসম্পন্ন চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন ডাক্তার, নার্স ও ক্লিনিক্যাল স্টাফের নিশ্চয়তা।

উল্লেখ্য, ক্ষেত্রগুলোর একটা অংশই শুধু ডাক্তাররা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন কিছুটা। যেমন ধরুন রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদনপ্রাপ্ত একটা মানহীন মেডিক্যাল কলেজ থেকে টাকা দিয়ে পাস করা ততোধিক মানহীন ডাক্তার যে বেরুলো, এই ডাক্তারের অকর্মণ্যতার দায়ভার দিনশেষে কার? আর এটাসহ বাদবাকি ক্ষেত্রগুলো নিশ্চিত করতে যে দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা আর পেশাদারি প্রজ্ঞা দরকার সেটা আমাদের শত শত ব্যবসায়ী টার্নড, দলনেতা টার্নড জননেতারা যে নিষ্ঠাহীনভাবে করে চলেছেন, বুকে হাত রেখে এই কথা কি কেউ বলতে পারবেন?

যারা বিদেশে চিকিৎসার জয়গান গেয়ে ঢালাওভাবে দেশি ডাক্তারদের তুলোধুনো করছেন তাদের জ্ঞাতার্থে আমার তিনটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আমার বাবার পার্কিনসন্স রোগ ছিল আর শেষ বয়সে হালকা স্ট্রোক হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হলো। দেশের সব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারই দেখানো হলো। কিন্তু ওই যে, ‘থোড় বড়ি খাড়া আর খাড়া বড়ি থোড়’। যোগাযোগ করলাম ব্যাংককে। ব্যাংকক হাসপাতাল বললো, ঘাড়ে স্পাইনাল কর্ডে একটা সার্জারি করলে সব ঠিক হয়ে যাবে। সার্জারির কথা শুনে গেলাম ঘাবড়ে। দ্বিতীয় মত নিতে যোগাযোগ করলাম বুমরুনগ্রাড আর সিঙ্গাপুরের রাফলস। দুই হাসপাতালই সার্জারি রুল আউট করলো বয়সের কারণ দেখিয়ে। অবশেষে গেলাম বুমরুনগ্রাড। প্রফেসর সাহেব আমেরিকা ফেরত, মার্সিডিজ হাঁকান। সপ্তাহখানেক হাসপাতালে থেকে ৬ ডিজিটের ঘরে যে বিল আসলো তার এক তৃতীয়াংশই ডাক্তার সাহেবের কনসালটেশন ফি।

কনসালটেশনের একটা বড় অংশ ছিল প্রতিদিন দুই বেলা কেবিনে এসে বাবাকে দেখে যাওয়া আর বলা, ‘হেলো প্রফেসর, ইউ আর ডুইং ভেরি গুড, সুন ইউ উইল রান লাইক এ হর্স’। উল্লেখ্য, ঘোড়ার মত দৌড়ানোতো দূরের কথা পরবর্তীতে বাবা মানুষের মতো ঠিকমত হাঁটতেও পারেননি। কিন্তু আমরা পরম সন্তুষ্ট থাই প্রফেসরের ওপর, এত বড় ডাক্তার, এত সময় দিচ্ছেন, হাসিমুখে কথা বলছেন, আশার আলো উপচে পড়ছে, রোগী ভালো না হয়ে যাবে কোথায়? এদিকে যে বিলের ব্যারোমিটারের পারদ তরতর করে গগণমুখী তা তখনও বুঝিনি। তারপরও কোনো অভিযোগ নেই, তিনিতো আমাদের ডাকেননি। আমরাই খোঁজ-খবর নিয়ে তার কাছে গিয়েছি। আর সান্ত্বনা এটুকু সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করেছি। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশে দীন মোহাম্মদের মগবাজারের দীনহীন নোংরা চেম্বারে ৫০০ টাকায় ৫ মিনিট তার গোমড়ামুখ দর্শনে ফলাফল একই হলেও সন্তুষ্টি শূন্যের কোঠায়। আর দীন মোহাম্মদকে দোষ দেই কি করে, তিনি সারাদিনে যে কয়জন রোগী দেখেন ওই কেতাদুরস্ত থাই প্রফেসর সারা মাসেও অত রোগী দেখেন কিনা সন্দেহ। এখানেও সেই চিরায়ত চাহিদা ও সরবরাহের অসম বণ্টন দায়ী। যদিও এ সহজ বিষয়টা আমাদের জটিল আবেগী মন সহজে মানতে চায় না।

আমার আম্মার ব্লাড ক্যান্সার হলো। দেশ না বিদেশ এ দোটানায় পড়লাম। অবশেষে আর্থিক সঙ্গতি আর পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে দেশেই চিকিৎসা শুরু হলো। দামি হাসপাতাল, ডাক্তার সাহেব বহুদিন মধ্যপ্রাচ্যের একটি টারশিয়ারি হাসপাতালের (যে হাসপাতালে আমাদের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নিয়মিত রোগী) সিনিয়র কনসালটেন্ট ছিলেন। তবুও ভরসা পাই না। কিছুদিন পর অফিসের কাজে সিঙ্গাপুর গেলাম। আম্মার কাগজপত্র নিয়ে রাফলসে এক কনসালটেন্টকে দেখালাম। তিনি দুইটি কেমো পরামর্শ দিলেন যার একটি অপেক্ষাকৃত নতুন, সন্দেহ পোষণ করলেন বাংলাদেশে ডাক্তাররা জানেন কিনা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ডাক্তার আগেই একই রেজিমেন ফলো করেছিলেন, আম্মা সুস্থ হয়ে উঠলেন। কয়েক বছর পর আম্মা তখন আমার বোনের কাছে কানাডায়, ক্যানসার প্রত্যাবর্তন করলো। এক জার্মান-কানাডিয়ান ডাক্তার দেখানো হলো। ভদ্রলোক বাংলাদেশের চিকিৎসার কাগজপত্র দেখে খুশি, বললেন একদম আধুনিক আর যথাযথ চিকিৎসা হয়েছে। বস্তুত যেই কেমোর কথা সিঙ্গাপুরে ডাক্তার বলেছিলেন এ ভদ্রলোক পূর্ব জার্মানিতে থাকার সময় সেটার আবিষ্কারের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনিও একই ওষুধ এবং একই রেজিমেন ফলো করলেন।

আমার রেটিনায় হটাৎ সমস্যা দেখা দিল। পরিচিত এক মেডিসিনের সিনিয়র কনসালটেন্ট পরামর্শ দিলেন, চোখের ব্যাপার, হয় ইন্ডিয়া না হয় সিঙ্গাপুরে দেখাও। আমি দেশি ডাক্তারের সাথে কথা বলে আস্বস্ত হলাম। বেশভূষায় অতি সাধারণ, কোনো চাকচিক্য নেই কিন্তু চরম আত্মবিশ্বাসী মনে হলো কথাবার্তায়। পরবর্তীতে বার বার আক্রান্ত হওয়ায় চেন্নাই গেলাম। একই পরামর্শ পেলাম এবং বলল তোমার দেশে একদম ঠিক চিকিৎসা হচ্ছে, ওখানেই করাও। এরপরও আক্রান্ত হলাম, এবার সিঙ্গাপুর গেলাম। একই ফলাফল, একই পরামর্শ। দেশে ঠিকঠাক মতোই চিকিৎসা হচ্ছে, দেশেই করাও।

ছোটবেলায় কান ধরেছিলাম বড় হয়ে আর যাই হই, দুইটা কাজ কখনোই করবো না। এক হলো, স্কুল কিংবা কলেজের মাস্টারি আর আরেকটা হলো ডাক্তারি। এই দুই পেশার মানুষদের দেখলে আমার মায়া হতো, দিন নেই, রাত নেই হয় টিউশনি করো অথবা রোগী দেখো। এইটা কোনো লাইফ হলো! পক্ষান্তরে বাবা আইইবি রাজশাহীর টানা প্রায় ১৫ বছর সভাপতি থাকার সুবাদে বিভিন্ন সরকারি অফিসের প্রকৌশলীদের দেখতাম ভুড়ি ফুলিয়ে কিরকম দুইটার পরে তাস পিটাতো। ড্রাইভারকুলের সাথে আমার আবার বিশেষ খাতির ছিল। তাদের কাছে শুনতাম কার ঘুষ খাওয়ার বহর কত। ব্যতিক্রম যে ছিল না তা না, আমি নিশ্চিত সব পেশাতেই আছে। এমনকি আমাদের চক্ষুশূল ডাক্তারদের মধ্যেও আছে। ইঞ্জিনিয়ারদের সুবিধা, কোনোমতে চার বছর মাথাগুঁজে (করাতি হলে আরেকটু বেশি) ব্যাচেলর ডিগ্রি নাও, তারপর কোনোমতে একটা সরকারি চাকরি জুটাও। ব্যাস, এরপর কমিশন আসতেই থাকবে। চাইকি আমার বন্ধুর মতো সৎ অফিসারের তকমা লাগিয়েও ঘোরা যাবে। আমার এক শ্রদ্ধেয় বড় ভাই, ফেসবুকে লিখেছেন ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে নাকি রড-সিমেন্টের দোকানদারদের ভুলেও দেখা হয় না। নির্মাণকাজে কোন রড, কোন সিমেন্ট ব্যবহার হবে তা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের নাকি কোনো মাথাব্যথাই নেই। কথা সত্য, তাইতো রডের বদলে বাঁশ দিলেও কেউ কিছু বলে না। পক্ষান্তরে ডাক্তাররা নাকি ওষুধ কোম্পানির সাথে দহরম-মহরম সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলেছেন। আমার চেয়ে তার অবশ্য ভালো জানার কথা, নির্মাণাদেশের পার্সেন্টেজ হিসাবে গতিঅর্থ (speedmoney) আসলে এসব ঝামেলার কি দরকার! অথচ ডাক্তারদের বেলায় দেখুন কত ঝামেলা, ১৫-২০ বছরের আগে ৩/৪টা ডিগ্রি শেষ করা যায় না, শুধু এমবিবিএস দিয়েতো আর বিশেষজ্ঞ হওয়া যায় না। তারপর আছে, রাত জেগে রোগী দেখা, ওষুধ কোম্পানি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমিশন। সে মহা হ্যাপা। সেই তুলনায় আমরা প্রকৌশলী কিংবা পুলিশ ভাইরা অনেক আরামে আছি।

তবে একটা ব্যাপার, শুনতে অমানবিক মনে হলেও, তুলনামূলক বিচারে একজন ডাক্তারের দুর্নীতি বা অনিয়মের তুলনায় একজন প্রকৌশলীর দুর্নীতি বা অনিয়মের অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। শুধু ডাক্তাররা গ্রাহক (এই ক্ষেত্রে রোগী) মোকাবেলা সরাসরি করেন এবং আমাদের জীবন মরণ যেহেতু এই পেশার সাথে জড়িত, তাই বদনামটা এই পেশায় বেশি হয় বলে আমার মনে হয়।

আমার মতো ফেবু বিপ্লবী ভাইদের প্রতি আহ্বান, আসুন সমস্যার মূলে আঘাত হানার চেষ্টা করি। যার যার দায়িত্ব পালন করি এবং অপরকে পালন করতে উদ্বুদ্ধ করি। এর বদলে আমাদের তৈরি কিছু কালটের অকালকুষ্মণ্ডতার গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে বেশিদূর এগুতে পারবো না।

বি.দ্র. এই লেখার বক্তব্য একান্তই আমার নিজস্ব চিন্তাভাবনা প্রসূত। এর পেছনে কোনো ডাক্তারের কোনোরূপ ইন্ধন নেই। এই লেখা পড়ে কারো চেতনানুভূতিতে আঘাত লাগলে দয়া করে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন।