এমপ্যাথি- সুখী ও সফল জীবনের জন্য

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

এমপ্যাথি- সুখী ও সফল জীবনের জন্য

তামান্না তাবাসসুম ৮:২৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০১৯

এমপ্যাথি- সুখী ও সফল জীবনের জন্য

Empathy এর বাংলা হল ‘সমানুভূতি’। এটা সিমপ্যাথি বা সহানুভূতি থেকে আলাদা। সহানুভূতির মধ্যে একটা করুনার ঘ্রাণ থাকে। আর সমানুভূতি হলো অন্যের অনুভূতিকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারা।

ধরুন আপনি রাস্তায় একজন প্রতিবন্ধী মানুষ দেখলেন, আপনার তার জন্য মায়া লাগলো, আহারে মানুষটা কত অসহায়। অথবা তাকে দেখে আপনার মনে হলো এই সীমাবদ্ধতাগুলো যদি আপনার নিজের মধ্যে থাকতো? ভাবতেই আপনার অন্তরটা কেঁপে উঠলো। সুস্থভাবে বেঁচে আছেন এ জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতায় আপনার মন ভরে উঠলো।

এই যে একজন প্রতিবন্ধীর জায়গায় নিজেকে বসিয়ে আপনার মন কেঁপে উঠল এটাই ‘এমপ্যাথি’।

ধরুন আপনার ভার্সিটির কোনো বন্ধু তার লেখাপড়ায় ঠিক ভাবে মন বসাতে পারছে না পারিবারিক কলহের জন্য, তার মা-বাবার ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। এটা দেখে তার প্রতি আপনার সহানুভূতি হল। আপনি তাকে সান্ত্বনা দিতে গেলেন বা আপনার কিউরিসিটি থেকে কিছু প্রশ্ন করতে গেলেন।

কিন্তু আপনি যদি তার জায়গায় নিজেকে বসিয়ে একবার চিন্তা করেন যে সে কি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তখন দেখবেন তার সাথে আপনার কথাবার্তার ধরণ পাল্টে যাবে। আপনি বুঝতে পারবেন সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে আপনি যে কথাগুলো বলতে যাচ্ছিলেন তাতে আসলে তার কাঁটা ঘায়ে আরো নুনের ছিটা দেয়া হতো।

এমপ্যাথি আপনাকে একটা ঘটনা ডিফারেন্ট পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখতে শেখায়।

আপনি যখন একজন শিক্ষক, আপনি আপনার মত লেকচার দিয়ে ক্লাস থেকে বের হয়ে আসলেন, ছাত্ররা কেন ঠিকমত লেখাপড়া করছে না, আপনার ক্লাসে মনোযোগ দিচ্ছে না এই নিয়ে আপনি খুবই বিরক্ত। একবার ঠাণ্ডা মাথায় যদি আপনি আপনার ছাত্রদের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে ভাবেন, তখন দেখবেন আপনি অনেক কিছু জানেন তাই আপনার কাছে যে জিনিস খুব সহজ তাদের কাছে সেটা ততটাই কঠিন। তাদের ভেঙে ভেঙে সহজ করে বোঝাতে হবে, মজার উদাহরণ দিয়ে পড়াতে হবে যাতে তারা বোরফিল না করে।

আপনি যখন নববিবাহিত জুটির আদিখ্যেতা দেখে বিরক্ত। ভাবছেন এত ঘোরাঘুরি করে সারাদিন ফেসবুকে ছবি দেয়ার কি আছে? কিন্তু তাদের দিক থেকে ব্যাপারটা দেখলে আপনি বুঝবেন যে আপনার ১৫ বছর ধরে সংসার করা মন আর তাদের সদ্যবিবাহিত মন এক না।

আপনি যখন আপনার বাড়ি বয়জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বেশি কথা বলে দেখে বিরক্ত হচ্ছেন। একটু খেয়াল করলে দেখবেন আপনি সারাদিনে এর চেয়ে দ্বিগুণ কথা বলেন আপনার বন্ধুদের সাথে। আর তার আপনিসহ আরো দুই একজন ছাড়া আর কোনো কথা বলার মানুষ নাই, তাই এত বেশি বলে মনে হচ্ছে।

এভাবে আপনি সহজে উত্তেজিত হওয়া থেকে বেঁচে যাবেন। মনে হিংসা, বিরক্তি কম আসবে। ফলে সুস্থ থাকবেন।

আপনার বন্ধুর সংখ্যা বাড়বে, বিপদে-আপদে তাদের পাশে পাবেন।

নিজে ভালো থাকা আর অন্যদের ভালো রাখা দুটোই হবে।

প্রফেশনাল লাইফে শাইন করতে এমপ্যাথি একটা গুরুত্বপূর্ণ কমিউনিকেশন স্কিল।

আপনি যখন মার্কেটিং-এ আছেন, তখন কাস্টমারদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে বুঝতে চেষ্টা করবেন তারা আসলে এই প্রোডাক্ট থেকে কি চায়। তখন সেভাবে আপনি আপনার প্রোডাক্টের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট করতে পারবেন।

বেশি ভাড়া নিয়ে বাসের কন্ডাক্টরের সাথে তর্ক করার সময় একটু সেন্স থাকলেই আপনি বুঝতে পারবেন এই ভাড়া কোম্পানি বাড়িয়েছে এখানে তার কোন হাত নেই। কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির সাথে যাচ্ছে তাই ব্যবহারের আগে যদি একটু ভাবেন এটা তার চাকরি, সার্ভিসের এই ত্রুটির জন্য সে সরাসরি দায়ী না। তখন কিন্তু আপনার মুখ একটু হলেও সংযত হবে।

আপনি যদি মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে চান, যদি চান আপনার অনেক বন্ধু হোক, পরিবার আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক থাকুক, আপনার মধ্যে যদি এমপ্যাথি স্কিলটি থাকে তাহলে খুব সহজেই আপনি সবার পছন্দনীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পারবেন। চলুন এমপ্যাথি চর্চা করি, একটি সুন্দর পৃথিবীর জন্য।

লেখক- তামান্না তাবাসসুম, শিক্ষার্থী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়,
[email protected]

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 

মুক্তকথা: আরও পড়ুন

আরও