শেখ হাসিনার যুগান্তকারী আবিষ্কার ও একটি মডেল ছাত্রলীগ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯ | ৭ চৈত্র ১৪২৫

শেখ হাসিনার যুগান্তকারী আবিষ্কার ও একটি মডেল ছাত্রলীগ

শফিকুল আলম রেজা ৮:১৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

শেখ হাসিনার যুগান্তকারী আবিষ্কার ও একটি মডেল ছাত্রলীগ

বিজয়ের মাসে স্মরণ করছি ত্রিশ লক্ষ শহীদকে, যাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত আজ লাল-সবুজের পতাকা। বিশেষভাবে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের শহীদ উনিশ হাজার নেতাকর্মীর আত্মত্যাগকে। ছাত্রলীগ বরাবরই হাঁটছে বাংলাদেশমুখি, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ফিল্টার ধরে বাংলাদেশমুখি এই হেঁটে চলায় বাধা এসেছে অসংখ্যবার। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি যাত্রা শুরুর সময় থেকেই ছাত্রলীগের বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিটি পদক্ষেপ বাংলাদেশের স্বাধীনতার দ্বার উন্মোচনে বঙ্গবন্ধুর প্রধান ভ্যানগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।

এই নিবন্ধে আলোচনা করব দেশরত্ন শেখ হাসিনার যুগান্তকারী আবিষ্কার ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী বুদ্ধিদীপ্ত ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো নিয়ে।

৩১ জুলাই ২০১৮। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা সাময়িক এক ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীর নাম ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার এই ঘোষণার পরেই আমাদের আনন্দের শুরু। আমরা যারা শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রাজপথে থাকতে চেয়েছি, আমাদের জন্য এটা পরম পাওয়া। সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ধারণ করেন একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের রক্ত, তার পিতামহ ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সত্তরের নির্বাচিত গণ-পরিষদ সদস্য।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও ধারণ করেন একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের রক্ত, তার মাতামহ স্বাধীনতা পরবর্তী মাদারীপুরের আওয়ামী রাজনীতির অন্যতম কাণ্ডারি, তার মা ছিলেন ছাত্রলীগের গর্বিত কর্মী। এই যে আওয়ামী রক্তের ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বেছে নেওয়া, এটাও একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার।

যে ক্রান্তিলগ্নে বড় ভাই শোভন-রাব্বানীর হাতে ছাত্রলীগের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে পুরো ঢাকা অচল করে দিয়েছে ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মীরা। আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা চালিয়েছে মুখোশপরা শিবির-ছাত্রদলের কর্মীরা। খুব দ্রুততার সঙ্গে অহিংসপন্থায় সেই দুর্যোগ মোকাবেলা করেছেন ছাত্রলীগের দুই কাণ্ডারি শোভন-রাব্বানী।

তাদের আহবানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় সেই যাত্রায় গভীর ষড়যন্ত্রের হাত থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। এই কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড শোভন-রাব্বানীর।

এখানেই থেমে নেই ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড, একাদশ সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা মনোনীত আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নির্বাচন পরিচালনার অন্যতম কারিগর শোভন-রাব্বানীর ছাত্রলীগ। প্রতিটি আসনে সমন্বয়ক কমিটি করে নির্বাচন পরিচালনায় গতিশীলতা আনয়ন, এবং ডিজিটাল প্রচারণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সবচেয়ে বড় যে অর্জন, তা হলো গণমাধ্যমের নোংরা শিরোনামের খবরে আর ছাত্রলীগকে খুঁজে পাওয়া যায় না। একটা সময় যে গণমাধ্যমগুলো ছাত্রলীগ সম্পর্কে নেগেটিভ সংবাদ প্রচার করত অবলীলায়, আজ তারাই ইতিবাচক ছাত্রলীগকে তুলে ধরছে। ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভনের বিনয় ও ভদ্রতার কথা এখন সর্বজনবিদিত, আর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তো নিজেই ইতিবাচক ছাত্রলীগের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। এটা আমাদের পরম পাওয়া, আমাদের অভিভাবক হিসেবে গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির দুই কাণ্ডারিকে আমরা পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পথে অবিচল থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও উন্নয়মূলক সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে শোভন-রাব্বানী কমিটির কোনো বিকল্প নেই।

স্যোশাল মিডিয়াতে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও দলের স্বার্থে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচারের প্রধান ভূমিকা পালন করার কৃতিত্বও শোভন-রাব্বানীর। সবচেয়ে বড় কথা, ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত রেখে ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতির একটি রোল-মডেলে পরিণত করার যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছাত্রলীগ গ্রহণ করেছে তাতে একজন নগন্য কর্মী হিসেবে আমিও অংশীদার।

সর্বোপরি বলা যায়, ছাত্রলীগের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার পেছনে বর্তমান কমিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রধান ভূমিকা পালন করছে, আজ ইতিবাচক ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে আনন্দিত সাধারণ মানুষ।

আমরা বিশ্বাস করি, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই সংগঠনকে আমরা আরো জনমুখী করে গড়ে তুলবো। আমাদের শীর্ষ দুই নেতা শোভন-রাব্বানী আমাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে যে আলোর পথে নিয়ে চলেছেন অবিরত, আমরা তা অব্যাহত রাখবো। সংগঠন অন্তপ্রাণ হিসেবে ছাত্রলীগের কাছে এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা। জয় বাঙলাম, জয় বঙ্গবন্ধু; জয়তু শেখ হাসিনা। জয় হোক ছাত্রলীগের।    

লেখক: সাবেক-তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।