বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী বাংলাদেশ

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী বাংলাদেশ

ড. মোহাম্মদ হাসান খান ১২:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০১৮

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী বাংলাদেশ

একটি দুঃসহ ভোরের কথা বলছি। একটি দুঃসহ সুবেহ সাদিকের গল্প বলছি। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫। ফজরের আজান হচ্ছে। আসসালাতু খায়রুম মিনান নাউম। একজন মুসলমান আজান শুনে নামাজ পড়তে যাবে। অথচ সেদিনের সেনা ঘাতকেরা গেল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলো। দশ বছরের রাসেল ও চার বছরের সুকান্ত বাবুও বাদ গেল না।

ওইদিন শুধু একজন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি। হত্যা করা হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতার মূল চেতনা, সংস্কৃতি ও সংবিধানকে। দেশ স্বাধীন হয়ে ১০০ বছর এগিয়ে ছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার মাধ্যমে পেছাল আরও ১০০ বছর। শুধু তাই নয়, ইনডেমনিটি অ্যাক্ট জারি করে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথও বন্ধ করা হয়।

ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই থামেনি, জাতীয় ৪ নেতাকেও হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে আসতে দেয়া হয়নি। শুরু হয় বিদেশে তাদের রিফিউজি (শরণার্থী) জীবন। ভারত তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়। ১৯৮১ সালে তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়া ভারতের চাপের মুখে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ঢুকতে দেন।

পঁচাত্তরের পর বাংলাদেশকে অনেক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সাক্ষী হতে হয়। ক্ষমতার পালাবদলে এদেশে পাকিস্তানি দোসররাও সরকার গঠনে সুযোগ পায়। রাজকারদের গাড়িতে উড়ে স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা। বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিতে চলে ইতিহাস বিকৃতির উৎসব। কিন্তু, অপচেষ্টাকারীরা জানে না, ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু, আদর্শের কোনো মৃত্যু নেই। আদর্শই ব্যক্তিকে জীবিত রাখে যুগ যুগ ধরে।

১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়া ক্ষমতা গ্রহণের পর ইচ্ছা করলে ১৫ আগস্টের ঘাতকদের বিচার করতে পারতেন। কিন্তু, তিনি তা করেননি, ঘাতকদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকুরি দেয়া হয়, রাজাকার আলবদর বাহিনীর প্রধান গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর তাকে দমিয়ে রাখার জন্য শাসকগোষ্ঠী কম চেষ্টা করেনি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করে তারা আবার চেয়েছিল এই বাংলাদেশ যেন আলো না দেখে। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বাঙালি জাতির আরেক আলোকবর্তিকা। যিনি আজ এদেশ তথা বাঙালিকে নিয়ে গেছেন মহাকাশে ও বিশ্বের বুকে এক নক্ষত্র হিসেবে।

হাজার বছরের পরাধীন জাতিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এনে দিয়েছিলেন স্বাধীনতা। তিনি এদেশের মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন। তার বিনিময়ে স্বাধীন দেশে কেউ তার রক্ত ঝরাবে, এটি ছিল তার কাছে সম্পূর্ণ অকল্পনীয় বিষয়। যার কারণে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েও অবাধে সাধারণ মানুষের সাথে মিশেছেন, সর্বত্র যাতায়াত করেছেন নির্দ্বিধায়। তার পরিবারের মানুষজনও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল নিতে চাইতেন না। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ কামালসহ পরিবারের কেউ-ই চাকচিক্য পছন্দ করতেন না। শিশু শেখ রাসেল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির সামনের সড়কে একা একা সাইকেল চালাতো।

বরেণ্য সাংবাদিক এবিএম মূসা স্মৃতিকথায় লিখেছেন, শেখ রাসেল স্কুলে যাওয়ার সময়েও তার সাথে কোনো নিরাপত্তা বাহিনী থাকত না। কেবল শিশু রাসেল নয়, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাই এভাবে চলাফেরা করতেন। রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি বঙ্গভবনে থাকেননি। অনেক শুভাকাঙ্খী তাকে নিরাপত্তার জন্য বঙ্গভবনে যেতে বললেও তিনি যাননি। তিনি মনে করতেন, বঙ্গভবনে থাকলে তার সাথে সাধারণ মানুষের দূরত্ব তৈরি হবে। স্বভাবতই তিনি জনগণ থেকে দূর থাকতে চাননি।

১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন মেজর জেনারেল সুজান সিং উবান। তার লেখা ‘ফ্যান্টমস অব চিটাগং’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, ‘এবারও আমি লক্ষ্য করলাম, তার বাসায় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। সব রকমের মানুষ সময়-অসময়ে যখন-তখন এসে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার চাইতো। তার সঙ্গে দেখা করতে আসা লোকদের কোনো বাছ-বিচার নেই। এ কথা তুলতেই তিনি বললেন, “আমি জাতির জনক, দিন বা রাতে কোনো সময়েই তো আমি আমার দরজা বন্ধ করে দিতে পারি না।” বঙ্গবন্ধুর এমন সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিয়েছিল পঁচাত্তরের ঘাতকরা। ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগ বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এ কথা বঙ্গবন্ধুকে জানালেও তিনি গুরুত্ব দেননি।

জওহরলাল নেহরুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা আর এন কাও ১৯৮৯ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে সানডের সংখ্যায় লিখেছেন, ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে আমি নিজে ঢাকায় এসে মুজিবকে এ ষড়যন্ত্রের খবর দিই। কিন্তু মুজিব সেটি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘ওরা আমার সন্তান। আমার কোনো ক্ষতি ওরা করবে না।’

শুধু তাই নয়, ১৯৭৫ সালের মার্চে কাও তার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ঢাকা পাঠান। শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সাজোয়া ও গোলন্দাজ অংশের দুটি ইউনিটে তার বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। এবারও বঙ্গবন্ধু এ সতর্কবার্তায় কান দেননি। কারণ তিনি ভেবেছিলেন, যাদের জন্য তিনি প্রাণ বাজি রেখেছিলেন, যাদেরকে তিনি সন্তান হিসেবে জানেন তারা তাকে কেন হত্যা করবে!

বঙ্গবন্ধু সবাইকে মহানুভবতা ও ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেছিলেন। এটিই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার দায়’ রচনায় আবদুল মান্নান তথ্য-প্রমাণসহ দেখিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন এমন অনেকেই পঁচাত্তরে সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীতে উচ্চ পদে কর্মরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে এদের অনেকে ষড়যন্ত্র টের পেলেও তারা তা বঙ্গবন্ধুকে অবহিত করেননি। ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট রাত আটটায় বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডির নিজ বাসায় ফিরেছিলেন। তার সহকারী এ এফ এম মুহিতুল ইসলামের তথ্যমতে, সেদিন বঙ্গবন্ধুর পরিবার রাত ১২টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে ঘাতকরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের গুলিতে প্রথম শহীদ হন শেখ কামাল। সর্বশেষ ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয় মাত্র দশ বছর বয়সী শেখ রাসেলকে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মুহূর্তটি বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বর্ণনা দিয়েছিলেন মুহিতুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শেখ কামালকে হত্যার পর হত্যাকারীরা বেপরোয়া গুলি চালিয়ে বাড়ির উপরের দিকে যাচ্ছিল। উপরে উঠেই শুরু হয় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। চারিদিকে তখন শুধু গুলির শব্দ। উপরে তো তাণ্ডবলীলা চলছে। চারিদিকে একটা বীভৎস অবস্থা। ঠিক সে মুহূর্তে উপর থেকে চিৎকার শুরু করলো যে পাইছি পাইছি। এরপরে বঙ্গবন্ধুর একটা কণ্ঠ শুনলাম। তিনি বললেন, তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাস? এরপরে ব্রাশফায়ার। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ আমরা আর শুনতে পাইনি।’

১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণিত অধ্যায় লেখা হলো। সপরিবারে নিহত হলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন তারা শুধু জাতির জনককে হত্যা করেনি, একই সাথে হত্যা করতে চেয়েছিল বাঙালির সংস্কৃতি ও বাংলাদেশকে। তারা বাংলাদেশকে এবং বাঙালির কণ্ঠ রোধ করতে চেয়েছিল। তাদের প্রকৃত লক্ষ্য ছিল, বাঙালি জাতি এবং বাংলাদেশকে অভিভাবকহীন করা। বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তান তৈরি করা। তখন বাঙালি বুঝেনি ‘পিতা’ হারানোর বেদনা এতো দুঃসহ হবে। পুরো বাঙালি জাতি যেন পিতৃহীন হয়ে গেল।

ওই সময় বিদেশে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তারা প্রাণে বেঁচে গেলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যায় যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন তারা সবাই বঙ্গবন্ধুর কাছে আস্থাভাজন ছিলেন। খন্দকার মোশতাকরা এই আস্থার সুযোগ নিয়েই বেঈমানি করেছিলেন। ফলে বাংলাদেশের আকাশ থেকে সবচেয়ে বড় নক্ষত্রটি অকালে বিদায় নিলেন।

অন্যদিকে তার মৃত্যুর পর দেশের অগ্রগতি থমকে দাঁড়িয়ে উন্নয়নের চাকা পেছনে ঘুরতে লাগল। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর আরেক নির্মম ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। কারাগারের অভ্যন্তরের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হলো জাতীয় চার নেতাকে। ঘাতকদের কাছে এ চার নেতার অপরাধ ছিল ঘাতকদের দেয়া কোনো পদ তারা গ্রহণ করেননি। তারা প্রকৃত অর্থেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ছিলেন। মৃত্যুকে বেছে নিলেও তারা ঘাতক নরপশুদের সাথে কোনো আপস করেননি। জিয়াউর রহমানকেও বঙ্গবন্ধু স্নেহ করতেন। জাতির জনকের বাসায় তার অবাধ যাতায়াত ছিল। বঙ্গবন্ধু তার জন্য উপ-সেনাপ্রধান পদ পর্যন্ত তৈরি করেছিলেন।

১৫ আগস্টের অন্যতম ঘাতক ফারুক রহমান অ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। ১৯৭৫ সালের ২০ মার্চ ফারুক জিয়াউর রহমানকে মুজিব হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা শোনান। জবাবে জিয়াউর রহমান ফারুক রহমানকে বলেছিলেন, ‘তোমরা করতে চাইলে করতে পার। কিন্তু আমি তাতে যোগ দিতে পারব না।’

গোলাম মুরশিদ তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘দেশের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করার প্রায় পাঁচ মাস আগে থেকেই ষড়যন্ত্রের কথা জিয়া জানতেন। কিন্তু সেনাপ্রধান অথবা রাষ্ট্রপতি কাউকেই তিনি এ কথা জানাননি। এটা তার পবিত্র দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতা। সেদিক দিয়ে বিচার করলে মুজিব হত্যার পরোক্ষ দায় তিনি এড়াতে পারেন না।’

অথচ জিয়া এ বিষয়টি দায়িত্ববান কাউকে জানালেও ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনার সাক্ষী হতে হত না বিশ্ববাসীকে। খন্দকার মোশতাকরা যেমন বিশ্বাসঘাতক ছিলেন, জিয়াউর রহমানও তেমনি ছিলেন।

স্বাধীনতার চার দশক পর জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করতে সমর্থ হয়েছেন। আদালত ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১২ খুনির মৃত্যু দণ্ডাদেশ দেন। এর মধ্যে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি কার্যকর হয়। এখনো ৬ খুনি পলাতক রয়েছে। এদেরকে যদি দেশে এনে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা যায় তবে বাঙালির কিছুটা হলেও দায়মুক্তি হবে। জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার এই আবেদন রইল।

১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট আকাশবাণীতে শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত হওয়ার সংবাদ পর্যালোচনায় বলা হয়, ‘যিশু মারা গেছেন। এখন লক্ষ লক্ষ লোক ক্রস ধারণ করে তাকে স্মরণ করছেন। মূলত একদিন মুজিবই হবেন যিশুর মতো।’

আসলেই তিনি ৭৫-এর যিশু। আকাশবাণীর এ ভবিষ্যৎ বাণীই সত্যি হয়েছে। মুজিব হত্যার পর ঘাতকরা চেয়েছিল কেউ যেন তার নাম উচ্চারণ না করে। কিন্তু তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি। বরং আজ ঘরে ঘরে শ্রদ্ধার সাথে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা হচ্ছে। হাজার অপচেষ্টাও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মানুষের মন থেকে মুছে দিতে পারেনি।

আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। পুরো জাতি এখন শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশ গঠনের কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন বাস্তবায়নের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

এ শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তার স্মরণে কিছু ভাল কাজ করতে প্রতিটি সচেতন নাগরিককে অনুরোধ জানাই। তবেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রকৃত অর্থে শ্রদ্ধা জানানো হবে। আসুন আজ আমরা শপথ নেই পিতা, আমরা তোমার আদর্শকে ভুলি নাই তোমাকে ভুলবো না, তোমার আদর্শে স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে এগিয়ে যাব।

পরিশেষে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার পিতার উদারতা, দক্ষতা নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন। দেশের অভ্যন্তরের শত্রুদের সম্পর্কেও তিনি সচেতন থাকবেন এই প্রত্যাশা করছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর খুব নিকটজনের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অসচেতন ছিলেন। আমরা আশা করব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই ভুল করবেন না। আমরা চাই মুজিব থেকে যেমন হাসিনা, তেমনি হাসিনা থেকে জয়। বাংলাদেশ এই চক্রে আবর্তিত হোক। বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। কোনো স্বাধীনতা-বিরোধী চক্র, ইতিহাস বিকৃতিকারী যেন আর কখনও ক্ষমতায় আসতে না পারে, কোনো অশুভ শক্তি যেন এ দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত না করতে পারে সেজন্য আমাদেরকেও সচেতন থাকতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করলেই বাংলাদেশ একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে।

জয় বাংলা।


লেখক: রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট। সদস্য, আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা।
E-Mail: mhk381975@gmail.com

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।