বারেক সাহেব ও ‘জিতে রাহো তেলাপোকা’

ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫

বারেক সাহেব ও ‘জিতে রাহো তেলাপোকা’

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮

বারেক সাহেব ও ‘জিতে রাহো তেলাপোকা’

ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে বসে বিরক্তিকর প্রহর গুনছেন বারেক সাহেব। রাস্তার দু’ধারে সারি-সারি যত ব্যানার আর ব্যানার এবং ফেস্টুন। আওয়ামী লীগ আজ তাদের নেত্রীকে সংবর্ধনা দিবে। ব্যানারে-ফেস্টুনে নেত্রীর সাফল্য আর অর্জনের যত বয়ান। বসে বসে প্রহর গুনছেন আর মাথায ঘুরপাক খাচ্ছে যত এলেবেলে ভাবনা।

এই বয়সে এসে ক্যারিয়ার সুইচ করাটা কঠিন। অথচ তাও ভাবতে হচ্ছে ইদানিং। এক সময় কারবারিগিরি বাদ দিয়ে রাজনীতিতে ঢুকেছিলেন। সংসদেও গেছেন। ব্যবসায়ের পালে তাতে হাওয়াও লেগেছে বেশ। ফুলেছে-ফেপেছে! বেড়েছে ব্যাংকের ব্যালেন্সটাও বেশ। কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, ‘যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ!’ সবকিছু কেমন যেন উল্টে-পাল্টে যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নাকি এবার নির্বাচনের পরপরই দুর্নীতির শিকড় ধরে টানাটানি শুরু করবেন। লিস্টও নাকি চুড়ান্ত হচ্ছে। ভাবা যায়! রাজনীতির দোকান দিয়ে ব্যবসা করার দিন বোধহয় শেষ হয়ে আসছে বাংলাদেশে! 

বারেক সাহেব চোখ-কান খোলা মানুষ, নইলে এতদূর আসতে পারতেন না। বাতাসে তিনি কি সব যেন আলামতের গন্ধ পান। একদিন যারা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংকের মালিক হয়েছেন, ব্যাংক-কে বাবার তালুক মনে করে ডুবিয়েছেন-ভাসিয়েছেন। সেসব রাঘব-বোয়ালদের কেউ-কেউ যে এরই মধ্যে চৌদ্দশিকের ভিতরে তা বারেক সাহেবের নজর এড়ায় না। টিভি খুললে মাঝে-সাঝেই চোখে পড়ে নামজাদা সব সাহেবজাদাদের দুদক অফিসে দৌড়া-দৌড়ি। না আর ভাবা যায় না!

একদিন বাংলাদেশে ক্ষিদা ছিল, ছিল না কাপড়, ছিল সন্ত্রাস। এইতো সেদিনও মাথাচাড়া দিচ্ছিল উগ্রমৌলবাদ আর সমাজে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল মাদক কারবারিরা। অথচ মাত্র দশটি বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের বাজারেও আছে অন্তত একটা ফলের দোকান। গ্রামের মানুষটিও এখন চেনে আঙুর আর স্ট্রবেরি। গুলিস্তানের এক সময়কার জমজমাট পুরাতন কাপড়ের নিক্সন মার্কেট এখন শুধুই গল্প। মৌলবাদ কচুকাটা আর চিড়ে-চ্যাপ্টা মাদক কারবারিরা। 

জ্যামটা ছাড়তেই প্রাডোর এস্কেলেটারে জোরে চাপ দেয় বারেক সাহেবের ড্রাইভার। ঝাকি দিয়ে ছুটতে শুরু করে গাড়ি। মুহুর্তেই মাথা খুলে যায় বারেক সাহেবের। সিদ্ধান্তও নেয়া হয়ে যায় মুহূর্তেই। ‘তেলাপোকা- হ্যাঁ তেলাপোকাই হয়ে যেতে হবে’।

যা কামিয়েছেন তাই যথেষ্ট। এটুকু ছেলেপুলের জন্য রেখে যেতে পারলেই চলবে। তেলাপোকা হয়ে যেতে পারলেই রক্ষা। চিপায় লুকিযে থাকবেন। খুব দরকার না হলে উকিটাও দিবেন না। টিকিটাও তার দেখবে না কেউ। মনটাই ভাল হয়ে যায় বারেক সাহেবের।

যদিও বলা যায় না এই প্রধানমন্ত্রী চাইলে তেলাপোকাকেও হয়ত প্যাকেট করে চালান করে দিতে পারবেন। তবুও তেলাপোকাই জিন্দাবাদ। ‘জিতে রাহো তেলাপোকা!’

এফএম

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।