মাদক সম্রাটদের মৃত্যুদণ্ডের আইন, দেরিতে হলেও অভিনন্দন

ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

মাদক সম্রাটদের মৃত্যুদণ্ডের আইন, দেরিতে হলেও অভিনন্দন

এখলাসুর রহমান ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৮

print
মাদক সম্রাটদের মৃত্যুদণ্ডের আইন, দেরিতে হলেও অভিনন্দন

মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেও ইয়াবা ঢুকছে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে। চলছে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী খুন ও গ্রেফতার। আবার সেই সাথে চলছে মাদকের অনুপ্রবেশ। মাদক বিক্রির অভিযোগ এলো মসজিদে, গ্রেফতার হলো মসজিদের ইমাম। এসব মাদক অনুপ্রবেশ বন্ধ না করতে পারলে কী সুফলের মুখ দেখবে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান?

মাদক নির্মূল, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা ছাড়া কেউ সমর্থন না করবে না। প্রশ্নের উদয় হচ্ছে, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে নয়, অভিযানের প্রক্রিয়া নিয়ে। বর্তমানে ক্ষমতায় ১৪ দলীয় জোটের সরকার। ১৪ দলের কোন সভায় মাদকবিরোধী অভিযানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে?

নিয়মতান্ত্রিক প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি মন্ত্রিসভায় এমন কথা বলেছিলেন? জাতীয় সংসদে কি এটা এজেন্ডা হয়েছিল?

বিভিন্ন বক্তৃতায় সবাই অনবরত বলে যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এটা কি নিজেদের দায়মুক্তি থেকে সব দায় প্রধানমন্ত্রীর দিকে ঠেলে দেয়া নয়?

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী যখন নিজে একা কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না, তখনই তিনি সেটা মন্ত্রিপরিষদের সভায় উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। কিন্তু, এই মাদকবিরোধী অভিযানের দায় ১৪ দল, মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারও দিকেই যাচ্ছে না।

১৪ দলের শরিক নেতাদেরকেও বলতে শোনা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরাপরাধ মানুষ হত্যা কাম্য নয়। মন্ত্রীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ অভিযান।

বন্দুকযুদ্ধে নিহত একরামুলের স্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার নিরাপরাধ স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেছেন। র‍্যাব বলছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করছে। র‍্যাবের অভিযানে নিহতের পরিবার নিরাপরাধ দাবি করে হত্যার বিচারও দাবি করছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

একরামুল হত্যার পর সংবাদপত্রের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তার নিরাপরাধ থাকার বিষয়টি। সর্বশেষ নিহতের পরিবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের সাথে তার স্ত্রী-কন্যার এক অডিও রেকর্ড প্রকাশ পেয়েছে। বাবার বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় ব্যাকুল কন্যা তাকে ফোন করেছে। একরামুল বলেছে মেজর সাহেব আমাকে যেতে বলেছেন একটু কাজে। কাজ সেরেই চলে আসব। পরে ফোন দেন তার স্ত্রী। ফোন রিসিভ হয় কিন্তু একরামুল কথা বলে না। শোনা যায় গুলির শব্দ। কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন— মা, সারা দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানকে যখন দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা স্বাগত জানিয়েছেন। ঠিক তখনই আপনার এই সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা একাত্তরের দোসররা। তারা ইয়াবাবিরোধী অভিযানের দোহাই দিয়ে আপনার সন্তানকে হত্যা করেছে।

২৭ মে গভীর রাতে টেকনাফে এমনি একটি ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে আজন্ম আওয়ামী লীগ পরিবারের অহংকার টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পরপর তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর একরামকে হত্যা করা হয়েছে। মাগো এমন চলতে থাকলে আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশ নিঃশেষ হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। মা, আপনার যেই সন্তান আজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে টেকনাফ যুবলীগকে মডেল ইউনিটে পরিণত করেছিল। আপনার সেই সন্তান একরামুল হক কী ইয়াবার মতো মরণনেশার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে? যার চাল-চুলো নেই, থাকার জন্য বাড়ি নেই। পরিবার ও সন্তানদের লেখাপড়া চালানোর জন্য যাকে নির্ভর করতে হয় ভাইদের ওপর, বন্ধুদের ওপর। আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে জনগণকে সেবা করতে গিয়ে দেনার দায়ে যার সব শেষ, তাকে বানানো হলো ইয়াবা গডফাদার! হায় সেলুকাস!

মাগো, আমি আমার কান্না রুখতে পারছি না। একরামের মৃত্যুতে আমার হৃদয়ে ক্ষণে ক্ষণে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ হত্যা মানতে পারছি না। মা, এখনো সময়, লাগাম টেনে ধর তাদের। যারা প্রকৃত মুজিব আদর্শের সৈনিকদের হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে।

কী ভয়ংকর কথা! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দল আওয়ামী লীগের শাসনামলেই মুজিব আদর্শের সৈনিকদের হত্যার অভিযোগ! তবে কি মাদক অনুপ্রবেশের মতো প্রশাসনেও মিত্রবেশী ঘাতকরা দলবেঁধে ঢুকে পড়েছে? সাতক্ষীরায় মাদকব্যবসায়ী হিসেবে হত্যা করা হলো একজন কৃষককে। এ পর্যন্ত যে শতাধিক জনকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হলো, সেখানে কয়জন মাদকব্যবসায়ী ছিল আর কয়জন ভুয়া মাদকব্যবসায়ী এগুলো পরিষ্কার করতে হবে।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, ভুয়া পুলিশ, ভুয়া সাংবাদিক, ভুয়া ডাক্তার ও ভুয়া প্রতিরোধ যোদ্ধা (১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী) এসব শুনে আসছি বহু আগে হতেই। এখন নতুন সংযোজন হলো ভুয়া মাদকব্যবসায়ী ও ভুয়া বন্দুকযুদ্ধ। এই ভুয়া বন্দুকযুদ্ধে যারা ভুয়া মাদকব্যবসায়ীদের ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে লাশের সঙ্গে পিস্তল ও ইয়াবা রেখে বলছে বন্দুকযুদ্ধে খুন, তারা কি তবে ভুয়া র‍্যাব কিংবা ভুয়া পুলিশ?

এত ভুয়ার বিচার করবে কে? নাকি ওরা নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের র‍্যাব? ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত অডিও নিয়ে দেশজুড়ে যখন তোলপাড় তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, একরামুলের পরিবার এখনো অভিযোগ করেনি। সারাদেশের মানুষ যে একরামুল হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে তাদের কাছে কি একরামুলের পরিবার অভিযোগ করেছে। একজন স্বামীহারা শোকার্ত স্ত্রী ও দুটি অবুঝ কিশোরীর কি উচিত ছিল পিতৃশোক ভুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করতে আসা?

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরে বলেছেন, একরামুলের বিষয়টা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কিন্তু, এ দেখায় কী হবে? আয়েশা বেগম কি ফিরে পাবে তার স্বামীকে? দুটি ছোট্ট মেয়ে কি ফিরে পাবে তার বাবাকে?

এই বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে কী বললো এদেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা? বিবৃতিতে তারা বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রকাশ করে ভয়ভীতি থেকে মানুষকে মুক্ত করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের যৌক্তিকতা রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, সারাদেশে যে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে তার যৌক্তিকতা আমরা অনুধাবন করি। দেশে খুব কম পরিবার আছেন যারা মাদকের ভয়াবহতা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছেন। তাই সঙ্গত কারণে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনও এই অভিযান প্রত্যাশিত ছিল।

কিন্তু, বন্দুকযুদ্ধে নিহত অভিহিত করে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন বলেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

সংবিধানে প্রদত্ত জীবনের অধিকার এভাবে কেড়ে নেয়া যায় না বলেও মন্তব্য করা হয়।

‘গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় কিছু নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘টেকনাফে নিহত পৌর কমিশনার একরাম এর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার পূর্ব অভিযোগের কথা জানা যায়নি। তাকে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন পৌরমেয়র। তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে হত্যাপূর্ব ফোনালাপ সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করেছেন।’

পৌর কমিশনার একরাম হত্যার ঘটনার বিষয়ে বলা হয়, ‘কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজে তা অকল্পনীয়।’

সারাদেশ এই বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে প্রতিবাদের ঝড়। তবে কি মাদকবিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কোনো গোপন শক্তি কৌশলে কমিশনার একরামুলকে হত্যা করিয়েছে?

গোয়েন্দা বিভাগের কোন কর্মকর্তা তাকে ডেকে নিলেন? সেদিন রাতে একরামুল কি সত্যিই টিএনও অফিস ও হ্ণীলায় গিয়েছিলেন? এসব তত্ত্ব ও তথ্যের সুস্পষ্ট তদন্ত হোক। আব্দুর রহমান বদি দেশ ছেড়ে গেলেন? এই যাওয়া কি সত্যিই ওমরাহ হজ না অন্য কিছু? ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর শুরু করেছিল অপারেশন ক্লিনহার্ট। এ অভিযানে গাজীপুরের নিরাপরাধ ও নিরীহ ছাত্র রোবেলকে হত্যা করা হয়। এতে কি তৎকালীন সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছিল না অনুজ্জ্বল হয়েছিল?

২০০৪ সালের ২৬ মার্চ হতে শুরু হয় র‍্যাবের কার্যক্রম। তখনকার র্যা বও বিতর্কিত হয় সেদিন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোমতেই সমর্থন যোগ্য নয়। ২০১২ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির তালাশ অনুষ্ঠানে নিহত একরামুলকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলেছে। ২০১৪ সালের যুগান্তর পত্রিকায় ৫১ জন ব্যক্তিকে রোহিঙ্গা বান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে। এই ৫১ জনের মধ্যে একরামুল ১ জন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই ৫১ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছিল। ১৫, নভেম্বর ২০১৪ যুগান্তর পত্রিকায় লিখেছিল— রোহিঙ্গাদের ভোটার বানাতে সহায়তা করছেন বাংলাদেশেরই ৫১ প্রভাবশালী ব্যক্তি। রাজনৈতিক স্বার্থসহ নানা কারণে এরা অসংখ্য রোহিঙ্গাকে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়েছেন। এদের মধ্যে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং দালাল শ্রেণীর লোকজন আছে। রোহিঙ্গাবান্ধব ওই ৫১ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। চিঠির সঙ্গে ৫১ জনের নাম ও ঠিকানাসহ প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে।

একরামুলকে কোন অভিযোগে হত্যা করা হলো? রোহিঙ্গা বান্ধব ৫১ জনের একজন হওয়ার অভিযোগে? নাকি ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে? সাদা পোশাকে যারা তাকে ডেকে নিয়েছিল তারা কারা? কার নির্দেশে তারা গিয়েছিল? এগুলো খুঁজে বের করতে হবে? আর খুনিরা কেনই বা মোবাইল কল অন রাখল। অডিও শুনে বুঝা গেল, কমিশনার একরামুলের স্ত্রী অপর একজনকে বলছেন, তুমি কে? আমি কমিশনারের মিসেস বলছি। আমি কমিশনারের সাথে কথা বলতে চাই। এতে বুঝা যায় ফোনটা অন্য একজন রিসিভ করেছে। এরপর ফোনকল খোলা থাকল আর গুলির আওয়াজ, আর্তনাদ ও গালাগাল শোনা গেল। আরও শোনা গেল ধর, শুয়োরের বাচ্চারে ধর। তবে কি একরামুল তখন পালাতে চেয়েছিল? এ রকম একটি ডেকে নিয়ে হত্যাকে র‍্যাব কেন বন্দুকযুদ্ধে হত্যা বলল। তবে কি সেটা ভুয়া বন্দুকযুদ্ধই ছিল?

আব্দুর রহমান বদিও একরামুলকে সৎ লোক বললেল। তবে কি মাদকবিরোধী অভিযানে নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এটা আলোচনায় এনে এ অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এটা একটি শক্ত নেটওয়ার্কের চাল? দেশ যখন একরামুলের স্ত্রীর অডিও নিয়ে উত্তপ্ত। সে সময়েও বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অডিও! কিসের অডিও আমি শুনিনি! দেশজুড়ে আলোচিত হওয়া বিষয়টি নিয়ে ফখরুলের কেন এই অজ্ঞতা?

বিচারবহির্ভূত এই হত্যার বিরুদ্ধে তারা কেন কোনো সমাবেশ করল না? শাহবাগে সমাবেশ করতে এসে পুলিশি বাধাপ্রাপ্ত হলো গণজাগরণ মঞ্চ। এমন একটি বাধা সবার আগে বিএনপি কেন পেতে চাইল না? বিরোধী দল দাবিদার জাতীয় পার্টিওতো এমনটি করতে পারতো। নাকি তারাও ভুয়া বিরোধী দল?

নিহত কমিশনারের স্ত্রী আয়েশা বিবিসিকে বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে র‍্যাব-৭ এর গাড়ি দেখে তাদের বললাম, আপনারা কেন আমার স্বামীকে খুন করছেন? তখন ওনারা বলেছেন, ওপর থেকে অর্ডার এসেছে। আল্লাহর কাছে বিচার দেন। আমরা কাজ করার মানুষ। আমরা শুধু অর্ডার পালন করছি।’

আমি একটি ছোট্ট শহরে এক চানাচুর বিক্রেতাকে মসজিদের সামনে বিলাপ করতে দেখেছিলাম। সে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে বিচার দিচ্ছিল। একজন প্রভাবশালী লোক তার ফেরি দোকানটি ভেঙেছিল ও তাকে মারধর করেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলল, চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দাও অথবা থানায় যাও। চানাচুরওয়ালা বলেছিল, এর বিচার কে করবে? মানুষ যখন আশা হারিয়ে ফেলে তখনই আল্লাহ, ভগবান কিংবা ঈশ্বরের কাছে বিচার প্রার্থী হয়।

বাংলাদেশ কি সেই জায়গাতেই চলে গেল? কী মনে হয় র্যা ব ৭ এর কথায়? নাকি এটাও ভুয়া র‍্যাব? অসম্ভব কী? খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্টিকার ওয়ালা ভুয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাও তো দেখেছি আমরা। ভুয়া ডাক্তার, ভুয়া পুলিশ, ভুয়া শিক্ষক (ভুয়া সার্টিফিকেটধারী), ভুয়া পীর, ভুয়া সাধু, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, ভুয়া প্রতিরোধ যোদ্ধা, ভুয়া দেশপ্রেমিক, ভুয়া আলেম ও ভুয়া নেত্রী প্রেমিকের সাথে এবার যোগ হলো ভুয়া বন্দুকযুদ্ধ ও ভুয়া মাদকব্যবসায়ী। এত ভুয়ার বিচার করবে কে? সম্প্রতি মাদক সম্রাটদের মৃত্যুদণ্ডের আইন পাশের প্রক্রিয়ার কথা শোনা গেল।

সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য বেগম পিনু খানের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, এ আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতাকারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ক্ষমতায়িত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। ২০১৭ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ সকল সংস্থা ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৮৩ জন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩৬টি মামলা দায়ের করেছে। ২০১৮ সালে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩৪০টি মামলায় ৩৫ হাজার ১১২ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। জেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে সহযোগিতা করে অবৈধ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে।

বিগত দিনের এত এত মামলা, গ্রেফতারে কি কোনো লাভ হলো? ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩৬টি মামলার আসামি কতজন? আসামিরা কি মামলাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাদকব্যবসা করেনি? করেছে বলেইতো ক্রসফায়ারের উপস্থিতি। মাদক সম্রাটদের মৃত্যুদণ্ডের আইন সরকারের শেষদিকে না হয়ে যদি আরও আগে হতো দেশের অনেকটা উপকার হতো।

গাঁওগেরাম পর্যন্ত তখন হয়তো এতটা মাদকের ছড়াছড়ি হতো না। তবু দেরিতে হলেও এ আইনকে অভিনন্দন। আর প্রত্যাশা এ আইন যেন কেবলই কাগজে-কলমে না থেকে সত্যিকার অর্থেই দেশকে মাদক গডফাদারমুক্ত করে।

এখলাসুর রহমান: লেখক ও কলামিস্ট।

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.


আলোচিত সংবাদ