‘তুমি আমার মা, তুমিই আমার বাবা’ 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫

‘তুমি আমার মা, তুমিই আমার বাবা’ 

ডা. ফারহানা মোবিন ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৮

print
‘তুমি আমার মা, তুমিই আমার বাবা’ 

আমার মা, আমার পথ চলার শক্তি।

এই মানুষটা ভীষণ মেধাবী ছাত্রী ছিল। SSC তে Rajshahi Board থেকে মেধা তালিকায় মেয়েদের মধ্যে stand করেছিল। Class five আর Eight এ বৃত্তি পেয়েছিল। ছোট্ট বেলা থেকেই Scholarship পেয়ে লেখাপড়া করতো।

অদ্ভুত সুন্দর লেখালেখি করতো। অনেক magazine এ ছাপা হয়েছে তার লেখা। খুব সুন্দর ছবি আঁকতো।

মেধা তালিকায় ছিল আমার মায়ের অনেক পুরস্কার।

ভীষণ মেধাবী এই মানুষটাকে জোর করে বিয়ে দিয়েছিল আমার নানা। আমার নানার ধারণা ছিল, মেয়েদের বেশি লেখাপড়া করার দরকার নেই।

অথচ আমার নানা ছিলেন চিকিৎসক। সেই সময়ের অনেক মানুষের এই ধরনের ধারণা ছিল। তখন মানুষ জন মনে করতো, মেয়েদের খুব বেশি লেখাপড়া দরকার নেই।

ভীষণ মেধাবী আর বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আমার মাকে, আমার নানা SSC এর গণ্ডি পেরানোর আগেই বিয়ে দিয়েছিল।

আমার নানার বাড়িতে একজন বৃদ্ধ শিক্ষক ছিলেন।

তিনি আমার মা, খালা আর আমার মামাদের পড়াতেন।

আমার আম্মা অনেকবার আরো একজন শিক্ষক চেয়েছিল। আমার নানা রাজি হননি। আমার আব্বুর বাসায় এসে আমার আম্মার SSC এর result হলো।

পুরো রাজশাহী বিভাগ থেকে মেয়েদের মধ্যে দশম stand করেছিল।

আমার আম্মা খুব সুন্দর কবিতা আবৃত্তি করতো।

এই মানুষটা কলেজে ভর্তি হলো। সরকার থেকে Scholarship পেলো। কিন্তু আমার পিতার অবহেলা, আমার দাদীর সেবা যত্ন আর পারিবারিক কাজের বোঝা বহন করতে যেয়ে, আমার মা তার কেরিয়ার গড়তে পারেনি।

আমার বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মা, আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে যেয়ে, নিজেকে তিল তিল করে শেষ করে দিয়েছে। আমার মা রাজশাহীর হেলেনাবাদ school থেকে সবসময় first হতো।

তার নানাবিধ প্রতিভার জন্য, school আর পাড়া প্রতিবেশি সবাই তাকে চিনতো।

আব্বু যখন মারা যায়, তখন এই মানুষটার বয়স ছিল ৩৪ বছর।

আমরা তিন ভাই বোন তখন অনেক ছোট।

ছোট বেলায় মাঝে মাঝে গভীর রাতে ঘুম ভাঙলে দেখতাম, আমার মা আমাদের বই খাতা পুরো ডাইনিং টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নোট লিখছে। সারাদিন বাসার কাজ করতো। আর গভীর রাত জেগে আমাদের ভালো রেজাল্ট এর জন্য পরিশ্রম করত।

শক্ত হাতে আমার মা, আমাদেরকে তার মমতার আঁচল দিয়ে জড়িয়ে রেখেছিল। আব্বু মারা যাবার অভাব আমাদেরকে বুঝতে না দেয়ার জন্য, আমার মা দিয়েছে সীমাহীন বিসর্জন।

আম্মা,

তুমি যদি পাশে না থাকতে, তাহলে আমরা তিন ভাই বোন খড়কুটোর মতো পানিতে ভেসে যেতাম।

আমার সবটুকু পরিশ্রম দিয়ে চেষ্টা করবো, তোমার ইচ্ছে পূরণ করার। আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘায়ু দান করুন।

তুমি আমাদের মা, তুমিই আমাদের বাবা।

তোমাকে হাজারো সালাম।

ডা. ফারহানা মোবিন
ই-মেইল: farhanamobin31@yahoo.com

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.


আলোচিত সংবাদ