উদ্বিগ্নের নিরাপত্তা, নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫

উদ্বিগ্নের নিরাপত্তা, নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন!

মো. বেলাল চৌধুরী ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৯, ২০১৮

উদ্বিগ্নের নিরাপত্তা, নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন!

উদ্বেগ বিশ্বব্যাপী! নিরাপত্তা এখন বিশ্ব-সংকট! অচ্ছেদ্য নিরাপত্তার ছেদ ঘটছে। দুশ্চিন্তা আরো বাড়ছে। ২০০১ এর ৯/১১ বিমান হাইজ্যাক ও সন্ত্রাসী আক্রমণ বা মার্চ ২০১৪ এ রহস্যময় হারিয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ান ফ্লাইট৩৭০। এ সবি হয়েছে নিরাপত্তা ছেদ করে। এটা বুঝেই বিশ্বে এখন ‘নিরাপত্তা’ অগ্রাধিকার। বেনাপোল কাস্টম হাউসও কাজ করছে।

কথায় বলে, "When you gamble with safety,

.......you bet your LIFE...❗️,,,,

জীবন নিয়ে জুয়া চলে না। তাই সেফটি সর্বাগ্রে! চলছে অগ্রাধিকার গবেষণা। আসছে সব উদ্ভাবনী প্রযুক্তি। নানারকম বিলাসী সরঞ্জাম। এর বহুল ব্যবহৃত একটি মেটাল ডিটেক্টর। হস্তচালিতটি।

কাস্টমস কিভাবে এর ব্যবহার করে এটি বোঝার জন্য এয়ারপোর্টে ঘটে যাওয়া ঘটনার দৃষ্টান্ত আসতে পারে।

জ্যাকি স্রফের সনি টিভির সিআইডি সিরিয়াল বা মাসুদ রানার কোনো কাহিনী নয়। ঢাকা এয়ারপোর্টের আগমনী হলের একটি ঘটনা।

এপ্রিল ২০১৬ সালের কথা। বৈশাখের এক পড়ন্ত বিকেলে ইকে-৫৮২ বিমানযোগে হাবিব আবার ঢাকায় নামেন। বেশভুষায় চৌকস গোয়েন্দারও সন্দেহের উদ্রেক হবে না। এমনই লেবাস ও লেহাজ! সফেদ পাঞ্জাবি, লম্বা শ্মশ্রুমণ্ডিত, নিষ্পাপ অবয়বের ধার্মিক দর্শনময় চট্টগ্রামের হাবিবুর রহমান।

প্রথম দেখায় এক্কেবারে সমীহ জাগানিয়া ব্যক্তিত্ব। বোর্ডিং ব্রিজ থেকে তার মতিগতি সন্দেহজনক। গোপন নজরদারি চলছে হাবিবের ওপর।

বিমানবন্দর কাস্টমসের সিসি ক্যামেরায়। হাবভাবে চোরভাব দৃশ্যমান। কপাল খারাপ বলতে হবে হাবিবের। না হলে হাজার লোকের ভিড়ে কেবল সে-ই নজরদারিতে। কর্মকর্তা বললেন, নিছক সন্দেহ থেকে হুজুরের পিছু লাগা। ‘যদি লাইগ্যা যায়’ টাইপের।

যায় আর কই! তলব হলেন কাস্টমস হলে। স্বর্ণ আছে কিনা জিজ্ঞাসাবাদে পুরাই অস্বীকার। হুজুরের শরীর তল্লাশি হবে। কী দিয়ে তল্লাশি হবে! আর্চওয়ে কাজ করছে না। আনা হলো হস্তচালিত মেটাল ডিটেক্টর। একি! এটাওতো কাজ করছে না। চায়নিজ ব্রান্ড!

বলা হলো, আমেরিকান বা Garrett ব্রান্ড আছে কি-না। পাওয়া গেল, এবার যথারীতি ধরা পড়লো হাবীবের ব্যাগের ভেতরে, অন্যান্য স্থানের লুকানো স্বর্ণ। একইভাবে পেটের ভেতর ১২টি স্বর্ণবার লুকিয়ে পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে আরেক চোরাকারবারি রোমান তালুকদার।

যন্ত্র ও যন্ত্রচালক ঠিক থাকলে সাফল্য নিশ্চিত। সফলভাবেই কাজে লাগিয়েছেন কর্মকর্তা। একটি উৎকৃষ্ট ব্রান্ডের নিরাপত্তা যন্ত্র কাজে লেগে এল চমৎকার উদঘাটন। এভাবে দেশব্যাপী কাজ করছে বাংলাদেশ কাস্টমস। বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর, চেকপোস্ট, ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন। এভাবে কাজ করছে বেনাপোলের কাস্টম চেকপোস্টে।

বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হুমকি ও নিরাপত্তা প্রাধান্য পাওয়ায় কাস্টমসের দায়িত্ব বেড়ে গেছে। বেনাপোলও এগুচ্ছে। ফলে ম্যানুয়াল ও আর্চওয়ের পাহারার পাশাপাশি এবার যোগ হলো মেটাল ডিটেক্টর। আজ এই একই ব্রান্ডের Barrett দুটো ব্রান্ডেড মেটাল ডিটেক্টর বেনাপোল কাস্টম হাউসের নিরাপত্তা বহরে যোগ হলো।

রাজস্ব সংগ্রহের পাশাপাশি চোরাচালান দমন ও রোধে সক্রিয় আমরা। যাত্রীর বিরক্তি শূন্যের মাত্রায় রেখে আমাদের এ প্রচেষ্টা।

‘জীবন’ পরখ করে দেখার কোনো বিষয় নয়। কোনো চান্সও নয়। পূর্ণ আস্বাদনযোগ্য এ জীবনকে নিরাপদ রাখাই আমাদের অগ্রাধিকার। দুর্বৃত্তের ক্ষতিকর অস্ত্র বা ধাতব শরীর বা ব্যাগে বহনরোধ করা আমাদের দায়িত্ব। এজন্যে আমরা কাজ করছি। দুটো স্ক্যানিং মেশিন, দুটো আর্চওয়ের সাথে আরো দুটো আর্চওয়ে ও দশটি মেটাল ডিটেক্টর সংযোজন হবে।

নিরাপত্তা ও এবিষয়ক সচেতনতা সর্বপর্যারের কর্মকর্তাদের মধ্যে সংক্রমিত হওয়া উচিত। তাই, এমন সংযোজন স্মরণীয় করে রাখা যেতে পারে, অভিমত সহকর্মীদের। সবাই মিলিত হলাম ক্লাব হাউসে। সহকারী কমিশনার শেখ মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ও তার চব্বিশ জনের টিমের হাতে তুলে দেয়া হলো ধাতব উদঘাটক যন্ত্র Barrett ব্রান্ডের দুটো মেটাল ডিটেক্টর।

জীবনের হুমকি, প্রাণনাশের ধমকি, সন্ত্রাস, হাইজ্যাক, দুর্ঘটনা! জীবনের নানামুখী সংকট। নিরাপত্তা সংকটের মিছিলে আমরা।

বাংলা হোক সদাচারের লীলাভূমি! আমাদের আগামী হোক কুসুমাস্তীর্ণ! সচেতনতা হোক ‘নিরাপত্তা’! নিরাপদ স্বাস্থ্য, নিরাপদ জীবন, নিরাপদ জনপদ, নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ পণ্য, নিরাপদ বন্দর। বেনাপোল কাস্টম হাউস হোক সচেতনতার উর্বর স্বপ্নক্ষেত্র।                                      

নিরাপদ বাণিজ্য-সংস্থান,

প্রত্যয়ে বেনাপোল অবিরাম।

রোধকরী চোরাচালান,

রক্ষা করি দেশের সম্মান।

লেখক : বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।