ছাড়পত্রের আশায় নাতির মৃতদেহ আগলে আছেন বাংলাদেশের সখিনা  

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

ছাড়পত্রের আশায় নাতির মৃতদেহ আগলে আছেন বাংলাদেশের সখিনা  

পরিবর্তন ডেস্ক ১:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৮

ছাড়পত্রের আশায় নাতির মৃতদেহ আগলে আছেন বাংলাদেশের সখিনা  

ভারতের একটি হাসপাতালে নাতির মৃতদেহ আগলে বসে আছেন বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায়। এই শীতে শরীরে একটা চাদর পর্যন্ত নেই। এভাবেই তিন দিন পার করেছেন জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। নানি সখিনা খাতুন জানেন না ২৩ বছরের নাতির দেহ নিয়ে কবে দেশে ফিরতে পারবেন।

পঞ্চগড় জেলার গোয়ালগছ গ্রামের বাসিন্দা সখিনা খাতুন। তিনি বসে আছেন একটা সরকারি কাগজের জন্য। সেটা হাতে পেলেই দেশে নিয়ে আসতে পারবেন নাতি শাহাদাত হোসেনের মৃতদেহ।

জানা যায়, গত বছর ১১ সেপ্টেম্বর অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ফুলবাড়ি সীমান্ত থেকে শাহাদাতকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে তাকে রাজগঞ্জ থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে দীর্ঘদিন সংশোধনাগারে ছিলেন শাহাদাত।

মাঝেমধ্যে পরিবারের লোকেরা দেখাও করে আসতেন।

দেশটির পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, গত মঙ্গলবার জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহাদাত। দ্রুত তাকে জেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন পাঠানো হয় জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সেখানেই শাহাদাত বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান।

খবর পেয়ে দ্রুত ভারতে যান শাহাদতের নানি সখিনা খাতুন। ময়নাতদন্তের পরে মৃতদেহ নিয়ে ফুলবাড়ি সীমান্তে পৌঁছেও যান তিনি।

কিন্তু বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাগজ এসে না পৌঁছানোয় মৃতদেহ নিয়ে আসতে পারছেন না। নাতির মৃতদেহ নিয়ে জলপাইগুড়ি হাসপাতালেই সেই থেকে অপেক্ষা করছেন তিনি।

সখিনা বলেন, ‘তিন দিন হয়ে গেল, এখনও নাতির মৃতদেহ নিয়ে বাংলাদেশ যেতে পারলাম না। ওর স্ত্রী, সন্তানরা অপেক্ষায়। জানি না কবে দেশে ফিরতে পারব।’

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের তরফে করণীয় সব কাজই হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা শাহাদতের মৃত্যুর কথা জানেন। ঢাকাকেও সবটা জানানো আছে। এরপরে ওই যুবকের পরিবারকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তবেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

তবে, এ বিষয়টি জানেন না নানি সখিনা। তিনি নাতির দেহ নিয়ে হাসপাতালেই কাগজের অপেক্ষায় বসে আছেন।

বিএইচ/এএসটি