রাষ্ট্রকেই শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

ঢাকা, রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫

রাষ্ট্রকেই শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

ফারজানা টুসি ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৬

print
রাষ্ট্রকেই শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ৪৬৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর বাইরে প্রতিদিন আরো কত শিশু ও নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। সব ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে আসে না। কেউ কেউ লোকলজ্জার ভয়ে চুপ থাকে। আগের তুলনায় বর্তমানে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। সবগুলোর প্রতিবাদ হয় না, যে দু’একটি ঘটনার প্রতিবাদ হচ্ছে তাতে তেমন কোনো ফল হচ্ছে না। আমাদের সমাজে নারী ও শিশুরা এভাবে যৌন বিকৃতির শিকার হওয়ার পেছনে জাতির কি কোনো দায় নেই? এসব বন্ধ করার উপায় কী?- এ বিষয়ে মুক্তকথায় মতামত জানিয়েছেন অনেকে।

ইত্তেহাদ ফেরদৌস সজীব বলেন, ‘সর্বপ্রথম রাষ্ট্রকেই শিশু ধর্ষণের বিষয়ে কঠিন এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রতিবাদই নয়, পাশাপাশি এ বিষয়ে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা চাই— ধর্ষণের কালো থাবা থেকে মুক্ত থাকুক আমাদের কোমলমতি শিশুরা।’

সমীর বলেন, দেশের বিচারের ধীর গতি ও কলুষিত রাজনীতি এর জন্য দায়ী। কোনো ইভটিজারকে থানায় নিয়ে গেলে তার রাজনৈতিক পরিচয় কি তা জানা হয়, তার অপরাধের সঠিক বিচার হয় না। যদি বিচার ও রায় কার্যকর দ্রুতগতিতে হতো, তবে নিশ্চয়ই অমানুষের হৃদয় কাঁপতো। পাশবিকতার মাত্রা কমে আসতো। শিশুরা ধর্ষিতা হয়! কথাটি ভাবতেই নিজেকে মানুষ মনে হয় না। নারীরা ধর্ষিতা হন, নির্যাতনের শিকার হন! এর জন্য আমরা শুধু আহাজারি শুনি আর আশ্বস্ত করি প্রতিবাদ না।

রাজনীতির কূটচালে কথায় কথায় 'বন্দুকযুদ্ধ' 'ক্রসফায়ারের' দেশে কতজন ধর্ষকের বুকে বুলেট বিঁধেছে? রাষ্ট্রের কাছে এর কোনো জবাব নেই।  যতক্ষণ বিচার, রায় এমনকি দৃষ্টান্তমূলক সাজাটা হাতেনাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না; ততক্ষণ পৌরুষ্যত্ব ঠাণ্ডা হবে না।

নূর উদ্দীন মনে করেন, আধুনিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ। চলনে-বলনে পোশাকে-আশাকে এসেছে পরিবর্তন তারই ধারাবাহিকতাই বেড়েছে সামাজিক অপরাধ। নারী ও শিশু ধর্ষণ বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রুখে দিতে হবে এসব অপকর্ম। বিচার হতে হবে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে।

মো. জিয়াউর রহমান আকাশ বলেছেন, মানুষের ভেতরে এখন আর মনুষত্ব্য নাই। নিউজগুলো যখন দেখি অবাক হই। একটাই প্রশ্ন মনের মধ্যে ভাসে কোন জামানায় আছি? আমার মতে, সরকারকে কঠোর হতে হবে। সাজা দিতে হবে জনসম্মুখে। পাশাপাশি জনসমাজকে সচেতন হতে হবে। ভয় লজ্জাকে ভুলে প্রতিবাদ করতে হবে।

আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ তাহেরের মতে, আইনের সঠিক প্রয়োগ করে এই মামলাগুলো দ্রুত বিচার আইনের আওতায় নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ধর্ষকদের বিচার করতে হবে। সেই সাথে সবাইকে এসব ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। আর ৩০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করা, সৌদি আরবের মতো আইন থাকলে এই সব কাজ করার সাহস পেতো না।

মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম হৃদয় বলেন, সবাইকে সচেতন হতে হবে।

জয়নাল আবেদীন মনে করেন, শিশু রাজন এবং রবিউলের খুনিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে একই দিন আলাদা দুটো আদালতে। দেশের ইতিহাসের খুবই দ্রুততম সময়ে মামলাগুলোর বিচার এবং রায় ঘোষণা হয়। এরপরে কী থেমে গেছে শিশু হত্যাকাণ্ড? মোটেও না। বরং রবিউলের কায়দায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় নারায়ণগঞ্জের এক হতভাগা শিশু শ্রমিক। তাহলে বিচার শুরু কিংবা দ্রুত রায় ঘোষণার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। রায় ঘোষণা হলেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না- সেই ধারণা বদলে দেওয়ার জন্য রাজন-রবিউল হত্যা মামলা যথেষ্ঠ। যদি বিচারের মতো দ্রুতগতিটা রায় কার্যকরের ক্ষেত্রেও হতো, তবে নিশ্চয়ই অমানুষের হৃদয় কাঁপতো। পাশবিকতার মাত্রা কমে আসতো। শিশুরা ধর্ষিতা হয়! কথাটি ভাবতেই নিজেকে মানুষ মনে হয় না। নারীরা ধর্ষিতা হন, নির্যাতনের শিকার হন! এর জন্য শুধু পুরুষ বা পৌরুষ দায়ী নয়; একইসঙ্গে রাষ্ট্রও অপরাধী। আজ পর্যন্ত কয়টা পুরুষত্ব কাটা পড়েছে রাষ্ট্রের হাতে? রাজনীতির কূটচালে কথায় কথায় 'বন্দুকযুদ্ধ', 'ক্রসফায়ারের' দেশে কতজন ধর্ষকের বুকে বুলেট বিঁধেছে? রাষ্ট্রের কাছে এর কোনো জবাবনেই। যতক্ষণ বিচার, রায় এমনকি দৃষ্টান্তমূলক সাজাটা হাতেনাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না; ততক্ষণ পৌরুষ্যত্ব ঠাণ্ডা হবে না। ধর্ষিতার আর্তনাদ যে রাষ্ট্রকে কাঁপাতে পারে না, সেখানে আমরা অতি নগণ্য কিছু মানুষের গলাবাজি বৃথাই। তার চেয়ে বরং চেষ্টা করি নিজেরাই বদলে যাওয়ার, বদলে দেওয়ার, মানুষ হওয়ার। আমরা মানুষ না হয়ে কেবলমাত্র পুরুষ হয়ে থাকলে আটষট্টি হাজার বর্গমাইলের গোটা বাংলাদেশ হয়ে উঠবে একখণ্ড পার্বতীপুর!

এস আলম হৃদয় বলেন, ‘আমার প্রশ্ন ঐসব নরপশুর কাছে, এইসব কাজ করার আগে একবার ভাবা দরকার আমার ঘরে বোন আছে, আমার মেয়ে শিশু আছে।’

বিরিশিরি থেকে মাহোমি বলেন, ইন্ডিয়ান চ্যানেল ও পর্ন সাইটগুলো বন্ধ হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে৷

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.



আলোচিত সংবাদ