অনিয়মের অভিযোগে সড়কের কাজ বন্ধ, দুর্ভোগ

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ৪ মাঘ ১৪২৬

অনিয়মের অভিযোগে সড়কের কাজ বন্ধ, দুর্ভোগ

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ ৬:০৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৪, ২০২০

অনিয়মের অভিযোগে সড়কের কাজ বন্ধ, দুর্ভোগ

নওগাঁর রাণীনগর থেকে আবাদপুকুর হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তার প্রশস্তকরন ও সংস্কার কাজ শুরু হয় গতবছর। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয়েছে জনদুর্ভোগের।

২২ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ৭ কিলোমিটার রাস্তায় বালি ও ইটের খোয়া দেয়া হলেও তাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও তা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

এই অনিয়মের দায়ে কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ২২ কিলোমিটার এ রাস্তার মেরামতের জন্য একনেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় শত কোটি টাকা। গত বছরের শুরুতে দরপত্রের মাধ্যমে ৩ টি সেতু, ২৩ টি কালভার্ট নির্মাণ ও সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হলেও বর্তমানে কাজের কোন অগ্রগতি নেই।

২৩ টি কালভার্টের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫৪ কোটি টাকা, আর ৩টি সেতুর জন্য বরাদ্দ ৪১ কোটি টাকা। ওয়াহিদ কন্সটাকশন ও স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের শুরু থেকেই নানা কারণে কাজ বন্ধ হয়েছে বহুবার। ২২ কিলোমিটারের মধ্যে খানপুকুর থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত মাত্র ৭ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেট তুলে ইট ও বালু বিছানো হয়েছে।

একাজেও দেওয়া হয়েছে পুরনো পাথর। রাস্তাটি প্রশস্ত করে মোট ১৮ ফুট করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

হাতে গোনা কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও বাকিগুলো নির্মাণের কোন প্রস্তুতি নেই। স্থানীয়রা বলছেন, পুরো সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দক। কোন রোগী এই সড়ক দিয়ে চলাচল করলে আরো বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান উপজেলা খাদ্যগুদামে নিতে পারছে না। সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই চলাচল করতে চরম দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ও প্রকল্পের সহকারি প্রকৌশলী হুমায়ন কবীর বলেন, বিভিন্ন কারণে সড়কের কাজ বহুবার বন্ধ রাখা হয়েছিল আবার কাজ শুরু করা হয়েছে। কাজের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে।

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সড়কটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ১০ ভাগ কাজ হয়েছে যা বর্তমানে ৬০ ভাগ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে বর্তমানে কাজের কোন অগ্রগতি নেই।

তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর নিদের্শনা প্রদান করে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এই কর্মকর্তার দাবী যেটুকু কাজ হয়েছে তাতে কোন অনিয়ম হয়নি।

স্থানীয় সাংসদ ইসরাফিল আলম বলেন, কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদারের জন্যই সরকারের মেগা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নির্মাণ কাজ পিছিয়ে পড়ছে। তেমনিভাবে প্রভাবশালী ঠিকাদারের গাফিলতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণেই আজ সড়কটির বেহাল দশা। তাই প্রভাবশালী এসব ঠিকাদারদের কাজগুলো মনিটরিং-এর জন্য মনিটরিং দল ও টার্সফোর্স গঠন করা দরকার। এই রাস্তার মোট কাজের সামান্য কিছু কাজ হলেও তাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলেও দাবী করেন এই স্থানীয় সংসদ সদস্য।

বিএআর/এসএস

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও