‘শুদ্ধি অভিযানে’ সন্তোষ ১৪ দলে

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

‘শুদ্ধি অভিযানে’ সন্তোষ ১৪ দলে

সালাহ উদ্দিন জসিম ৮:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

‘শুদ্ধি অভিযানে’ সন্তোষ ১৪ দলে

সরকারের চলমান ‘শুদ্ধি অভিযান’কে স্বাগত জানিয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের বিভিন্ন শরীক দলগুলো। বঙ্গবন্ধু কন্যার এই দৃঢ় সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগি ও প্রশংসনীয় বলে জানিয়েছেন তারা। চলমান এ অভিযানের বিষয়ে ক্ষমতাসীন ১৪ দলের শরীক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

১৪ দলের শরীক নেতারা বলছেন, ‘সরকার ও জোটের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে আমরা বহুদিন আগ থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে আসছিলাম। অনেক পরে হলেও এটি হচ্ছে, তাও কম নয়। তবে শুধু চুনোপুটি না ধরে রাঘব বোয়ালদেরও ধরতে হবে।’

১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শনসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেন সরকার ও দলের প্রধান শেখ হাসিনা। সে বৈঠকের পর ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদককে অপসারণ করা হয়। এরপর হুট করেই ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বেশ কিছু ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মদ, জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

সে রাতে গুলশানের বাসা থেকে ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবের সভাপতি ও যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাজধানীর নিকেতনে জি কে শামীমের অফিসে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, নগদ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর চেক এবং মাদকসহ শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রসহ নানা ক্লাবে হানা দেয় র‌্যাব। সেখান থেকে অনেককেই গ্রেফতারও করে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব মাধ্যমই সরব। আলোচনা আর সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয় ক্যাসিনো আর নগদ টাকা! এ নিয়ে কেউ পক্ষে, কেউ কেউ বিপক্ষেও কথা বলেন।

তবে শুক্রবার এই অভিযানের বিষয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী তার কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেনে, ‘ছাত্রলীগের পর যুবলীগ ধরেছি, একে একে সবাইকে ধরবো। জানি এটি কঠিন কাজ, বাধা আসবে, কিন্তু আমি করবোই।’

শনিবার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই এই অভিযান চলছে, এটি অব্যাহত থাকবে।

চলমান এই শুদ্ধি অভিযানে সবার মতো সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ১৪ দলের শরীক নেতারাও। তারা চান, এটি যেন অব্যাহত থাকে। প্রকৃত অপরাধীরা যেন আইনের আওতায় আসে। কোনো নিরাপরাধ যেনো আবার এর শিকার না হয়। একই সঙ্গে রাঘববোয়ালরা যেনো ছুটে না যায়।

সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও ১৪ দলের শরীক বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, নানা সময়ে সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও ১৪ দলের শীর্ষনেতা শেখ হাসিনা। বর্তমানে নিজ দলের অপরাধীদের ধরার এ অভিযানের জন্যও তার প্রসংশা করা উচিত। তাকে রাজনৈতিক সাপোর্ট দেয়া উচিত। সরকার প্রসংশনীয় কাজ করছেন।’

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ একাংশের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান। তিনিও সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হচ্ছে- পুলিশের নাকের ডগায় এতদিন এগুলো চললো কিভাবে?’। এসময় ‘চুনোপুটি না ধরে রাগব বোয়ালদের ধরতে হবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

ক্ষমতাসীন ১৪ দলের অন্যতম শরীক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এই সরকারের সাবেক মন্ত্রী। তিনি ফকিরেরপুল ইয়াংমেনস ক্লাবের চেয়ারম্যান। অভিযান শুরুর পর তাকে নিয়ে বেশ সমালোচনাও আসছে। তবে এই অভিযান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই মেননের। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে ক্লাবটি চালু হওয়ার সময় একবারই আমি গিয়েছি। এরপর আমার সঙ্গে ওই ক্লাবের আর কোনো সম্পর্ক নেই। আমিতো জানতাম না ওই ক্লাবে ক্যাসিনো চালানো হয়।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ আরেকাংশের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই  উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে সরকারের এই পদক্ষেপ যাতে থেমে না যায়।’

তিনি বলেন, ‘জাসদ দীর্ঘদিন যাবৎ সুশাসনের দাবিতে জনমত তৈরি করছে। উন্নয়ন-গণতন্ত্র ও সুশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য এই অভিযানের প্রয়োজন ছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উদ্যোগ সফল করার জন্য জাসদ প্রয়োজনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সহযোগিতা করবে।’

১৪ দলের আরেক শরিক গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি অনিয়ম ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে অভিযান করতে ১৪ দলের মিটিংগুলোতে আমরা বারবার বলে আসছিলাম। ১৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে একদিকে উন্নয়ন হচ্ছে যেমন সত্য, আরেক দিকে কিছুকিছু এলাকায় লুটেরা, দুর্নীতি, মাস্তানও তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের চলমান অভিযানকে স্বাগত জানাই। এই অভিযান অব্যাহত থাকলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। উন্নয়নের ধারা বেগবান হবে। সমাজ বিরোধীরা আইনের আওতায় আসবে।’ অপরাধীরা যে দলের হোক তাদের যেনো কোনো প্রকার ছাড় দেয়া না হয়, এই আশা ডা. শাহাদাতের।

ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের আরেক শরীক গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার বলেন, ‘সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ১৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে কেউ অপরাধ করে ছাড় পাবে না। তবে কোনো নিরাপরাধ মানুষ যাতে এই অভিযানের ভিকটিম না হয়।’

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ এই ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য। যে বা যারাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের ধরা হোক। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এই অভিযান পজেটিভ কাজ। কোনো অপরাধীকে যাতে খাতির করা না হয়।’

সরকারের এই অভিযানে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে তাদের দাবি, শুধু গুটিকয়েকজনকে ধরেই যেনো ক্ষ্যান্ত না হয় এই অভিযান। সারাদেশের সব অপারাধীরাই যেনো আইনের আওতায় আসে এবং কোনো নিরাপরাধ লোক যেন এর শিকার না হয়।

এসইউজে/এসএস

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও