পর্যটক হারাতে পারে চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজার

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

পর্যটক হারাতে পারে চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজার

এম ইদ্রিস আলী, মৌলভীবাজার ৪:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৯

পর্যটক হারাতে পারে চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজার

ঈদকে ঘিরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা। আর প্রতিবছরে ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির অনন্য লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত পর্যটন জেলা চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখতে লাখো পর্যটকদের সমাগম ঘটে।

অথচ এ বছর ডেঙ্গু ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহালদশায় পর্যটক হারাতে পারে চায়ের রাজধানীখ্যাত পর্যটন নগরী মৌলভীবাজার।

জেলায় পর্যটকদের জন্য রয়েছে নয়নাভিরাম চা বাগান, জীব্যবৈচিত্র্যে ভরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, দেশের বৃহত্তম জলরাশি মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, দুর্গম পাহাড়ের গহিন জঙ্গলে হামহাম জলপ্রপাত, এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, দোসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টার, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, মনু ব্যারেজ এলাকায় রাঙাউটি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধবপুর লেইক, শ্রীমঙ্গলের স্বাধীনতার বধ্যভুমি ৭১, বাইক্কা বিল, টি হেভেন রিসোর্ট, আগরের কারখানা, রাবার বাগান, জুড়ির কমলার বাগান, তুর্কি নকশায় নির্মিত শ্রীমঙ্গলের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ, মনিপুরি তাঁতশিল্প, খাসিয়াদের চাষকৃত পানের বরজ, মৌলভীবাজারের বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক সহ আরো অনেক সুন্দর আকর্ষণীয় স্থান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটক হরানোর মূল কারণ সড়কের বেহালদশা ও ঘন ঘন রেল দুর্ঘটনা। তার সাথে রয়েছে দেশব্যাপী ডেঙ্গু জ্বরের প্রভাব এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যার কারণে পর্যটক কম আসবে। আবার ট্রেনের টিকেট কম থাকায় পর্যটকদের বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয়। বিষয়টি সরকারের দেখা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা আরোও বলছেন, কমলগঞ্জ উপজেলার হামহাম জলপ্রপাত নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু জলপ্রপাতটিতে যাওয়ার সড়ক একেবারে ভালো নয়। এখানে পর্যটকদের যেতে হলে অনেক উঁচু টিলা অতিক্রম করে যেতে হয়। আমরা সরকারকে বলেছি এখানে ক্যাবল কারের ব্যবস্থা করা গেলে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে। এবং পর্যটকদের সংখ্যাও বেড়ে যাবে। যা থেকে সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয় হবে।

জেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, জেলার প্রায় ১৬শ কিলোমিটার পাকা রাস্তার মধ্যে এবারের বন্যায় ৩৩ কিলোমিটার রাস্তা ও ১৫ টি ব্রিজ কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অর্থে এই ক্ষতির পরিমাণ ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকারও বেশি। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সদর, রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলায়।

এদিকে মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপদ সূত্রে জানা যায়, তাদের আওতাধীন ৫ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি হিসেবে ২০ কিলোমিটারের চেয়ে অনেক বেশি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক ও জনপদের মৌলভীবাজার-শমসেরনগর আঞ্চলিক মহাসসড়ক দীর্ঘ ৩ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে কেউই রাস্তাটি মেরামত করেনি। রাস্তাটি যোগাযোগের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই রোড দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা এখন অন্য রোড ব্যবহার করছেন। চাতলাপুর চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াতকারীদেরকেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এছাড়াও জেলার শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ, শমসেরনগর-কুলাউড়া, কুলাউড়া-জুড়ী, জুড়ী-বড়লেখা ও মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। এই রাস্তাগুলোই হচ্ছে জেলার প্রধান সড়ক। কিন্তু এগুলো যোগাযোগের অনেকটা অনুপযোগী। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন যাবত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। তবে কাজ শুরুর বিষয়ে তারা আশ্বস্ত করছেন।

কয়েকজন রেস্ট হাউজ মালিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, অনেক জায়গায় সড়কের সংস্কার কাজ চলায় কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। যার জন্য এসব স্থানে পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তারপরেও আমরা আশাবাদী এ বছর পর্যটকদের সমাগম ঘটবে। আর ভ্রমণ পিপাসুদের ভ্রমণকে আরামদায়ক করতে নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

শ্রীমঙ্গলের নিসর্গ ইকো কটেজের কাজী শামসুল হক বলেন,‘আগের চাইতে ব্যবসা অনেক খারাপ। ঈদ মৌসুমে এখনও আমার সবকটি রুম বুকিং হয়নি। শুধু আমার নয় সবারই একই অবস্থা।

শ্রীমঙ্গল আবাসন সেবা সংস্থার আহ্বায়ক ও টি হেভেন রিসোর্টের স্বত্ত্বাধীকারী আবু সিদ্দিক মো. মুসা জানান, ২০১৫ ও ’১৬ সালে সরকারি ছুটি থাকায় পর্যটক বেশি এসেছিল। ’১৩, ’১৪, ও ’১৮ সালে কম এসেছিল পর্যটক। এ বছর ডেঙ্গুর জন্য পর্যটক কম আসতে পারে।

শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট জোনের পুলিশ পরিদর্শক মঈন উদ্দিন পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন রাখতে থাকছে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত লোকবল। আইনশূঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পর্যটন স্থানগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার থাকবে।

মৌলভীবাজার জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমদ পরিবর্তন ডটকমকে জানান, আমরা এরকম উৎসবের সময়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিয়ে থাকি। উৎসবের আগে, চলাকালীন ও পরে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্ম পরা পুলিশ মোতায়েন করা হয় পর্যটন স্থানগুলোতে এবং পর্যটকমুখর এলাকায় যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে সেজন্য বিশেষ নজরদারি রাখা হয়।

এইচআর

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও