বন্যায় ফসলী জমি নষ্ট, পুষিয়ে নিতে যা ভাবছে দুই মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ৭ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

বন্যায় ফসলী জমি নষ্ট, পুষিয়ে নিতে যা ভাবছে দুই মন্ত্রণালয়

শাহাদাৎ স্বপন ৫:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০১৯

বন্যায় ফসলী জমি নষ্ট, পুষিয়ে নিতে যা ভাবছে দুই মন্ত্রণালয়

সম্প্রতি সারাদেশে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে দেড় লাখ হেক্টরেরও বেশি ফসলী জমি। নষ্ট হয়েছে আমন ধানের বীজতলা। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে আমন রোপণে তৈরি হয়েছে বীজের সংকট। এ কারণে কৃষকদের মাঝে দ্রুত বীজ পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এবছর এখনও আমন সংগ্রহের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়নি। তবে, গত বছর টার্গেট ছিল ৮ লাখ মেট্রিক টন। বন্যার কারণে বীজতলা নষ্ট এবং আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় আমন সংগ্রহের টার্গেট পূরণে হতে পারে অনিশ্চিয়তা।

এছাড়াও দেশের এই সময়ে বন্যার ফলে নষ্ট হয়েছে মাসকালাই, ভুট্টো ও পাট ফসল।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র মাসকালাইয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ৪০ হাজার কৃষকের মধ্যে বীজ ও সার সরবরাহ করবে মন্ত্রণালয়।

এছাড়া ৩১টি জেলার প্রশাসকদের অনুকূলে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় করতে অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ডিমান্ড নোট ঈদের আগে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গভর্নমেন্ট ওয়ার্ডার (সরকারি আদেশ) হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও উপকরণ অনুবিভাগ) মো. আরিফুর রহমান অপু পরিবর্তন ডটকমকে জানান, বন্যা শুরুর আগে রোপণের জন্য বীজতলা তৈরি করেছিলেন কৃষকরা। তা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বীজের সংকটে ধানের চারা রোপণ ব্যাহত হবে এটা স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিআরডিসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে দ্রুত কৃষকদের কাছে বীজ পৌঁছে দেয়ার জন্য।

‘এ সংক্রান্ত বরাদ্দ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়ার আগেই বীজ প্রদান করবে বিআরডিসি,’ যোগ করেন তিনি।

কৃষি অধিদপ্তর বলছে, বন্যায় ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভাসমান বীজতলা তৈরি, নাবী জাতের রোপা আমন ধানের চারা উৎপাদন, বিতরণ ও বীজ বিতরণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ৮৮ লাখ ৪২ হাজার ২৫০ টাকার বিভাজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ৩৭ জেলা প্রশাসকের অনুকূলে ৭০ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ টাকা কৃষি অধিদপ্তরকে প্রদান করেছে।

এছাড়া আমন ধানের চারা উৎপাদন ও বিতরণ বাবদ ২ কোটি ১২ লাখ টাকা ১০ জেলা প্রশাসককে প্র্রদানের জন্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

এদিকে, বন্যায় আমনের ফসল নষ্ট ও রোপণে বিলম্ব হওয়ায় সরকারি ভাবে ধান-চাল সংগ্রহে প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

গেল বছর ফসল ভাল হওয়ায় সংগ্রহ টার্গেট ৬ লাখ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে পরবর্তীতে তা ৮ লাখ মেট্রিক টন করা হয়।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সংগ্রহ ও সরবরাহ) মো. ওমর ফারুক প্রতিবেদককে বলেন, এ মৌসুমে আমনের সংগ্রহ হয়তো কিছুটা কম করেই নির্ধারণ করতে হবে। দেশের ২৮ জেলায় বন্যায় ফসল নষ্টের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ভাসমান বীজতলা তৈরিতে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, এবার আমন সংগ্রহ টার্গেট পূরণ না হলে এটা পুষিয়ে নিতে হয়তো ইরিতে কিছু প্রণোদনার দরকার হবে। এক্ষেত্রে খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

এসএস/এসবি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও