সিরাজগঞ্জে ধানে ব্লাস্ট রোগ-দিশেহারা কৃষক

ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

সিরাজগঞ্জে ধানে ব্লাস্ট রোগ-দিশেহারা কৃষক

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ ৬:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০১৯

সিরাজগঞ্জে ধানে ব্লাস্ট রোগ-দিশেহারা কৃষক

কৃষকের স্বপ্নের ফসল ধানে ব্লাস্ট রোগ আক্রমণ করায় সিরাজগঞ্জে মাঠের পর মাঠ ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না কৃষকেরা। ধান গাছ সতেজ থাকলেও শীষগুলো চিটা হয়ে যাচ্ছে।

ঋণ-ধার ও পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ-কৃষি বিভাগও সময়মত পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে না। এ অবস্থায় সরকারের কাছে ভুর্তুকি দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর সিরাজগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে বেশী ধান আবাদ হয়েছে। জেলার মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল বোরো ধান। ফলনও বেশ ভাল হয়েছিল। শেষ মূহুর্তে ফসল কেটে ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন কৃষকেরা। কিন্ত হঠাৎ করেই দুই-থেকে তিন সপ্তাহ আগে ধানে দেখা দেয় ব্লাস্ট রোগ। গাছগুলো সতেজ থাকলেও ব্লাস্ট রোগে ধানের শীষগুলো সব চিটা হয়ে যাচ্ছে। ব্লাস্ট রোগ কৃষকের স্বপ্নকে ম্লান করে দিচ্ছে।


সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি, কাজিপুর উপজেলার গান্দাইল, রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর, তাড়াশ উপজেলার নওগা, দেশিগ্রাম ও উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়াসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতশত বিঘা জমির ধানে ব্লাস্ট রোগ আক্রমণ করেছে। ওষুধ প্রয়োগ করেও ফল পাচ্ছে না কৃষক।

ঋণ-ধার করে ধান রোপন করেছিলেন উল্লাপাড়ার প্রতাপ গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম, শাহজামাল ও নিজাম উদ্দিন। কিন্তু ব্লাস্ট রোগের কারণে তাদের তিনজনের ১৮ বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ নস্ট হয়ে গেছে।

তারা জানান, ১৫ বিঘা জমিতে ১৫ মণ ধানও হবে না। শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে। 

তেলীপাড়া গ্রামের আয়নুল ও রুহুল আমিন জানান, তাদের প্রায় ৪০ বিঘা জমির ধানে ব্লাস্ট রোগ ধরেছে। ধানগাছ সতেজ থাকলেও শীষগুলো সব চিটা হয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে মনে হয় ধান পেকে গেছে। কিন্তু ধানের ভিতরে কোনো দানা নেই।

মাঠের পর মাঠ ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়লেও কৃষি বিভাগ থেকে কোনো পরামর্শ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

তারা জানান, স্থানীয় কীটনাশকের দোকানদারদের পরামর্শে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না।

বিভিন্ন এনজিও-ব্যাংক থেকে সুদ নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন কৃষক নুরুল ইসলাম, আজমল হোসেন ও শামসুল আলম। একদিকে ধান নষ্ট, অন্যদিকে কিস্তির চাপ। সব মিলিয়ে বেশ হতাশার মধ্যে আছেন তারা।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল হক পরিবর্তন ডটকমকে জানান, প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ব্লাস্ট রোগ যেন বৃদ্ধি না পায় সেজন্য কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, একটি ইউনিয়নে মাত্র ৩জন মাঠকর্মী রয়েছে। তিনজনের পক্ষে কয়েক হাজার কৃষককে পরামর্শ দেয়া কষ্টকর। তারপরেও কৃষি বিভাগ যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এএসটি/

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও