ভোটে মানুষ কেন কমছে, ইসির ব্যাখ্যা ...

ঢাকা, ১ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ভোটে মানুষ কেন কমছে, ইসির ব্যাখ্যা ...

মো. হুমায়ূন কবীর ১:৪২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

ভোটে মানুষ কেন কমছে, ইসির ব্যাখ্যা ...

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে ভোটারের উপস্থিতি বেশি থাকতো। কিন্তু বর্তমানে তেমনটি আর চোখে পড়ছে না। সদ্যসমাপ্ত চার ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনের ভোটের হার দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট বর্জনের সংস্কৃতিকেই ভোটের হার কম হওয়ার মূল কারণ উল্লেখ করছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মাঠপর্যায় থেকে ইসিতে পাঠানো তথ্য থেকে জানা যায়, বিএনপি জোটের ভোট বর্জনে এবার চার ধাপের উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৪৩.৩২%; দ্বিতীয় ধাপে ৪১.২৫%; তৃতীয় ধাপে ৪১.৪১% ও চতুর্থ ধাপে ৩৬.৫০% ভোট পড়ে। সব মিলিয়ে গড়ে ভোট পড়েছে ৪০.৬২%।

প্রথম চার ধাপে ৪৬৫ উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও ভোট হয় ৪১৮ টিতে; একক প্রার্থী থাকায় ৩০টি উপজেলায় ভোটের প্রয়োজন পড়েনি। এসব উপজেলায় ৬ কোটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোটারের মধ্যে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৭ জন ভোট দিয়েছেন। বাকি ১৭ উপজেলার ভোট স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে ১০টি আদালতের আদেশে এবং ৭টি ইসির আদেশে স্থগিত হয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গড়ে ৬১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এরআগে ২০০৯ সালে ভোটের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

অবশ্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৮০%। বিএনপি জোটের ভোট বর্জন করা দশম জাতীয় সংসদে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ১৪৭ আসনে ভোট হয়। তাতে ৪০.০৪% ভোট পড়েছিল। নবম সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৭.১৩%।

সদ্যসমাপ্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে মোট ভোটার ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৯ লাখ ৪২ হাজার ৫৩৯ জন। সেই হিসাবে ভোট পড়ার হার ৩১.০৫ শতাংশ।

এর আগে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ৪৪% ভোট পড়েছিল।

এরই মধ্যে বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের ভোট বর্জনে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন জৌলুসহীন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

চার ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর কম ভোট পড়ায় ব্যাখ্যায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে গেলে অনিয়ম বাড়ত। প্রকৃত কত লোক ভোট কেন্দ্রে আসে, সেটাই চেয়েছি।

তিনি জানান, অনেক রাজনৈতিক দল স্থানীয় এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আবার যারা অংশ নিয়েছে, তাদের স্বঃতস্ফূর্ততার কারণে এ ভোটের হার হয়েছে। এটা তাদের সমর্থকগোষ্ঠীর ভোট বলা যেতে পারে।

ভোটাররা ভোট দিতে আসছেন না। একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বা হুমকি মনে করছেন কি না। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন,  ভোটার আসা উচিত আমি মনে করি। প্রতিনিধি নির্বাচিত কিন্তু ভোটারের মাধ্যমেই হবে। সেক্ষেত্রে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসুক সেটা তো শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, আমরা সবাই চাই।  আমরা নির্বাচন কমিশন কিন্তু ভোটারদের আসার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি। সেটা কিন্তু নির্বাচন কমিশন করছে এবং করবে। ভোটার আনার দায়িত্ব কিন্তু যারা প্রার্থী তাদের। এখন প্রার্থী যদি ভোটার আনতে ব্যর্থ হয় বা ভোটার আনার ব্যাপারে যদি প্রার্থীর ভূমিকা না থাকে। সেক্ষেত্রে কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কিছু করণীয় থাকে না। নির্বাচন কমিশন ততটুকুই করবে- ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে নিরাপদে আসতে পারে, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং নিরাপদে আবার বাড়িতে ফেরত যেতে পারেন। ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ থাকে। এটুকু কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে এনশিওর করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশন এটা অবশ্যই করবে।

এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪০ শতাংশের মতো। এর আগের নির্বাচনগুলোতে আরো অনেক বেশি ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এজন্য দায়ী কি শুধু নির্বাচন কমিশন নাকি দলগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়? জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের সাথে মাঠ পর্যায়ে আছে তাদেরকে প্রার্থীকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে বলেছে নির্বাচন কমিমশন। সেখানে নিরপত্তার জন্য আমরা র‍্যাব, ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করি। পরিবেশটা আমরা সুষ্ঠু রাখছি। ভোটারদের কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার পর নিরাপদে বাড়ি যাওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে থাকি। এখন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব কিন্তু যারা নির্বাচন করছে তাদের। কারণ ভোটতো তারাই চাচ্ছে। তো ভোটারদেরকে আকৃষ্ট করতে হবে তাদেরকে। আর ভোটারদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের সমর্থন থাকে। সব দল অংশগ্রহণ করলে ভোটারাধিক্য হয়তো আরো হতে পারতো। সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না, সে কারণে ভোটার স্বল্পতা হতে পারে।  তবে আমাদের কথা হচ্ছে ভোট কাস্টিং যা হচ্ছে এটাইতো আমরা বলবো এবং কাস্টিংটা ঠিকমত হচ্ছে কিনা সেটা আমাদের দেখার বিষয়।  ২০, ৩০  বা ৫০ শতাংশ হোক। এরা ঠিকমত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে কিনা এটা নির্বাচন কমিশন এনশিওর করছে।

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের কারণে ভোট কম পড়ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাও হতে পারে। বিষয়টা এরকম যে, যে দাঁড়িয়েছে আমি তাকে পছন্দ করছি না।

তিনি বলেন, ভোটার আসার কমবেশি হওয়াটা যদি একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করি, তাহলে সেটি সঠিক হবে না। অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। যেমন- প্রার্থী পছন্দ না হলে আমি ভোটকেন্দ্রে নাও যেতে পারি, প্রতীকের কথা আমি বলবো না। প্রতীকের পেছনে যে লোকটা দাঁড়িয়েছেন- তাকে হয়তো আমি পছন্দ করছি না।

ভোটাররা কিন্তু এখন অনেক সচেতন। আমরা কিন্তু আগের মতো অবস্থানে নেই। কেনো ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছে না এটা কিন্ত, তাদের বিবেচনা। যাকে প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হয়েছে তাকে সে পছন্দ করছে না। অথবা সে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অথবা কোনো কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছে কিনা। এটা সম্পূর্ণ তার ইচ্ছা। তবে আমি যেটা বলতে চাচ্ছি যে, নির্বাচন কমিশন এনশিওর করবে পরিবেশটা যোগ করেন তিনি।

এইচকে/এএসটি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও