চাঁপাইয়ে শীতকালেও মধুমাসের সুস্বাদু আম (ভিডিও)

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬

চাঁপাইয়ে শীতকালেও মধুমাসের সুস্বাদু আম (ভিডিও)

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০১৮

সবার কাছেই প্রিয় ফল আম। সুস্বাদু এ ফল খাওয়ার জন্য সবাই অপেক্ষা করেন মধুমাসের। তবে এখন শীতকালেও মধুমাসের আমের স্বাদ নিতে পারবেন আপনি। এজন্য আপনাকে আসতে হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোলালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোড় এলাকায় সেরাজুল ইসলামের আমবাগানে।

অসময়ে আমের এ ফলনে যেন সাড়া পড়েছে আশপাশের সব জেলা-উপজেলায়। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এ আমবাগান দেখতে আসছেন।

শুধু আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ নয়, সারাদেশেই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আমের উৎপাদন। মৌসুমে একসাথে অনেক আম বাজারে চলে আসায় দাম আশানুরুপ না পেয়ে যখন অনেক আমবাগান মালিকের মাথায় হাত, তখনই অসময়ে সেরাজুলের বাগানে থোকা থোকা আম আশা জাগিয়েছে সবার। কারণ অসময়ে আম ফলিয়ে এ বছর সেরাজুলের আয় প্রায় ৪ লাখ টাকা।

তার এ সাফল্যে অমৌসুমী আমের বাগান তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছেন অনেকেই। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তরা বলছেন, অসময়ে আমের উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমকেন্দ্রিক অর্থনীতির চিত্রটা পাল্টে যাবে।

মৌসুমে আমের দরপতন দেখেই অমৌসুমে আম উৎপাদনের চিন্তা আসে সেরাজুল ইসলামের মনে। ঢাকায় থাকা তার বড় ভাইয়ের কাছে জেনে এক নার্সারি থেকে বারমাসী আমের জাত হিসেবে ২২০টি চারা সংগ্রহ করে নিজেদের এক বিঘা জমিতে দুই বছর আগে বাগান তৈরি করেন সেরাজুল।



সেরাজুল ইসলাম বলছিলেন, কিছুটা সংশয় নিয়েই বাগান করি, কিছু দিনের মধ্যেই গাছে মুকুল আসে। তখন থেকেই চিন্তা যখন কোনো আম থাকবে না তখনই আমার গাছে আম ফলাবো। সেই চিন্তা থেকে শীতকালে আম ফলাতে সাধারণ আম মৌসুমে আসা মুকুলগুলো নষ্ট করে দেয়, ফলে কিছুদিন বাদে বাগানে আবারো মুকুল আসে। সেই মুকুল থেকেই ফলেছে এসব আম।

তিনি জানান, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে আম পাড়া শুরু করেছি। তখন খেকে এ কদিনে প্রায় ২ লাখ টাকার আম বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিকেজি আম ৩৪০ টাকা করে বিক্রি করেছি, যেখানে এবার মৌসুমে একমণ আমের দামই ছিলো এ রকম। চাহিদাও ভালো আছে। বাগানে যে আম আছে তা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থাকবে, ধীরে ধীরে বিক্রি করব। আশা করি আরো দুই লাখ টাকার বেশি আয় হবে।

সেরাজুলের সাফল্যে আশা জাগিয়েছে এলাকার অনেকের মনে, তারা প্রতিদিনই তার কাছে এসে পরামর্শ নিচ্ছেন, কীভাবে বাগান করবেন।

সেরাজুলের বাগান ঘুরতে আসা গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের কাজী গ্রামের আমিনুর রহমান বলেন, অসময়ে আমের ফলন দেখে আমার মতো অনেকেই নতুন করে আমবাগান করার জন্য উদ্যোগী হয়েছে।

এদিকে সেরাজুলের মতো আমবাগান করতে অনেকেই আগ্রহী হওয়ায়, স্থানীয় বেশ কয়েকটি নার্সারি মালিক সেরাজুলের বাগানের সায়ন (ডগা) নিয়ে চারা তৈরিও শুরু করেছেন।

সিরাজুলের আমবাগানের খোঁজ পেয়ে সম্প্রতি সেটি পরিদর্শন করেছেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুরুল হুদা ও আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম।

সেরাজুলের আমবাগানের জাত সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, এটি বারি আম-১১। আমরা আমবাগানটি পরিদর্শনে আমের গঠন দেখে এটি নিশ্চিত হয়েছি। বারি আম-১১ জাতটিতে বছরে তিনবার ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে এ জাতের আমবাগান গড়তে আগ্রহী অনেকেই। এই জাতটি সম্প্রসারিত হলে শীতকালেও আমের স্বাদ তিনি পারবেন সবাই। সেই সাথে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বাগান মালিকরা।

সারাবছরই যাতে আম খেতে পারেন সবাই সে লক্ষ্যে আমরা এ রকম আরো জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি বলে জানান ডা. শফিকুল ইসলাম।

এমআর