বিএনপি ঢোড়া সাপের মত ঘাপটি মেরে থাকবে

ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫

বিএনপি ঢোড়া সাপের মত ঘাপটি মেরে থাকবে

আতিক রহমান পূর্ণিয়া ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

বিএনপি ঢোড়া সাপের মত ঘাপটি মেরে থাকবে

যতই মার দেক, হজম করবে বিএনপি। জেল-জুলুম, আটক-নির্যাতনের মুখেও বিধ্বংসী বা আক্রমণাত্মক কোনো ভূমিকা নেবে না দলটি। পাল্টা প্রতিরোধ তো নয়-ই বরং আত্মরক্ষামূলক যত কৌশল আছে, তা নিয়েই চলতে চাইছে বিএনপি।

দেশব্যাপী রোববার রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকশ’ নেতাকর্মী গ্রেফতার বা পলাতক হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আতঙ্ক থাকলেও এই কৌশলেই নেতাকর্মীদের এগোতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, চুপচাপ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বা সরকারের উসকানিতে আপাতত সাড়া না দেয়া ভালো। এ রকম পরিস্থিতিতে সংঘাতে না গিয়ে এক পর্যায়ে একটি রাজনৈতিক সুরাহা হয়েই যায়। সেটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বিএনপির এই কৌশলকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এক ঘনিষ্টজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘ঢোড়া সাপের মত নিরীহ’ আচরণ বলে চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বিষধর সাপের চেয়েও ভয়ংকর হতে পারার ক্ষমতা রাখলেও বিষমুক্ত শান্ত ঢোড়া সাপের মত চুপচাপ থাকবে। তাতে যতই নির্যাতন-নিপীড়ন আসুক না কেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই নির্দেশ দলের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়েছে। নেতাকর্মীরাও সেটি সমর্থন করে কর্মসূচি পালন করছেন।’

বিএনপি নেতারা বলছেন, আমরা এখন অযথা কোনো শক্তি ক্ষয় করতে রাজি নই। তারা জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের শনিবারের বৈঠকেও কেউ কেউ বর্তমান আন্দোলন কর্মসূচির ধরণ নিয়ে সমালোচনা করেন এবং কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন।

এই মতামত মূলত অপেক্ষাকৃত নবীন নেতাদের কাছ থেকে এসেছে। কিন্তু, সিনিয়র নেতারা মনে করেন, কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে তা চূড়ান্ত সফল করার মত শক্তি-সামর্থ এবং বাস্তবতা এখন বিএনপির সামনে নেই। তাই কৌশলগত কারণেই শন্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনার পক্ষে যুক্তি দেখান তারা।

রোববার ২০-দলীয় জোটের বৈঠকেও কোনো কোনো দল কঠোর আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিলে বিএনপি নেতারা একই যুক্তি দেখান।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করেন, একটা-দুইটা হরতাল দিলে তাতে কোনো লাভ হবে না। সরকার কোনো না কোনোভাবে হরতালের দিনগুলো পার করে যাবে। পরে আর তেমন কিছু করার থাকবে না।

এ পরিস্থিতিতে রোববার রাত থেকে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। আইনশৃখলা বাহিনীর লাগাতার ধরপাকড় ও আটকের মুখে আবারও নমনীয় ও সাবধানী অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, খালেদা জিয়াকে জেলে বন্দি রাখা প্রলম্বিত করলে বিএনপিরই লাভ হবে, ক্ষতি হবে বিরোধীদের। জেলে থেকেও, জেলবন্দি খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের মাঝে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন বলেও মনে করেন তারা।

বিএনপি কেন্ত্রীয় কার্যালয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, রোববার রাত থেকে সারাদেশে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুসহ ৮৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত এ সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি বলে দাবি দলটির।

বিএনপি যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করেন, সরকার এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগ বিএনপির ওপর চড়াও হয়েছে। তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনও চালাতে দিচ্ছে না।

সারাদেশে তাদের নেতাকর্মীরা নিজ বাড়িঘরে থাকতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সরকারই আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। সংঘাত শুরু করতে চাইছে।’

তবে বিএনপির সব আন্দোলন কর্মসূচি খালেদা জিয়ার নির্দেশে ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণ হবে বলে জানান তিনি।

এআরপি/আইএম