১/১১’র সময় ডিভিশন পেয়েছিলেন হাসিনা-খালেদা

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

১/১১’র সময় ডিভিশন পেয়েছিলেন হাসিনা-খালেদা

আতিক রহমান পূর্ণিয়া ৭:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

 ১/১১’র সময় ডিভিশন পেয়েছিলেন হাসিনা-খালেদা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাগারে ডিভিশন পাওয়া নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বিচারক জেলকোড অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তবে কারা অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী যে ডিভিশন পাবেন, এটা জেলকোডের কোথাও নেই। জেলকোডে সাবেক রাষ্ট্রপতির ডিভিশন পাওয়ার কথা উল্লেখ আছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাব জেলে বন্দি ছিলেন সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া। তারা সেসময় ডিভিশন পেয়েছিলেন। সে অনুযায়ী তারা কারাগারের সকল সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেছিলেন।

পরিবর্তন ডটকমকে একথা নিশ্চিত করেছেন সাবেক ডিআইজি প্রিজনস মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। তিনি ১/১১’র সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় সংবাদমাধ্যমকে নিয়মিত ব্রিফ করে দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিলেন এই কর্মকর্তা।

শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, ‘সাব জেল যখন করা হয়েছিল, তখন ডিভিশন দেয়া হয়েছিল। উনাদের তখন সকল মর্যাদা দিয়েই রাখা হয়েছিল। তখন উনারা বিচারাধীন ছিলেন, সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া এখন সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে এসেছেন, কিন্তু তখন তাদের বিচার চলছিল। যখন সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে এসেছেন, তখন যদি তার রায়ে উল্লেখ থাকতো তিনি ডিভিশন পাবেন, তখন আর কারও কিছু বলার থাকে না।’

সাবেক এই ডিআইজি প্রিজনস বলেন, ‘এখন যেটা হয়েছে- রায়ে বলা হয়েছে যে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাই এখন খালেদা জিয়া কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষ তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঠিক করবে তারা ডিভিশন দেবে কিনা।’

তিনি বলেন, কারা ডিভিশন পেতে পারে তার একটা ক্রাইটেরিয়া আছে। যেমন- যারা ভালো চরিত্রের অধিকারী এবং অনভ্যাসগত অপরাধী অর্থাৎ হঠাৎ একটা অপরাধ করে ফেলেছে। এছাড়া সামাজিক মর্যাদা এবং অভ্যাসের কারণে যাদের জীবনযাত্রা উঁচু মানের এবং যারা নৃশংস ও প্রতিহিংসামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়।

শামসুল হায়দার সিদ্দিকী আরো বলেন, ‘মারামারি, আগ্নেয়াস্ত্র বা জমিজমা নিয়ে গণ্ডগোলে যারা জড়িত নয়, তাদের ডিভিশন দেয়া হয়। সব ক’টি ক্রাইটেরিয়া খালেদা জিয়া এখন ডিভিশনপ্রাপ্ত হতে পারেন, আমার ধারণা হবেন।’

আইজি প্রিজনসের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আইজি প্রিজনসের সঙ্গে একমত নই। আইজি প্রিজনস বলেছেন- উনাকে সাধারণ বন্দি হিসাবে রেখেছেন। এটা ঠিক না। সাধারণ বন্দি হিসেবে রাখলে উনি (খালেদা জিয়া) খাট, টেবিল, চেয়ার, এসি আর ভালো ভালো খাবার-দাবার পেতেন না।’

সাবেক এই ডিআইজি প্রিজনস বলেন, ‘যদি কাগজে-কলমে বলা হয় যে, তিনি ডিভিশন পেয়েছেন তাহলে এখন যেমন আছেন, এর চেয়ে তিনি আর ভালো কী সুবিধা পাবেন? ডিভিশন পেলে যা থাকে এখনতো তাই আছে।’

তিনি বলেন, ‘এখনকার সুযোগ-সুবিধাও তো নিশ্চই সরকারের অনুমতি নিয়েই দেয়া হয়েছে। এখন ডিভিশন নাই বলে মানুষের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানুষ মনে করবে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী- উনি যদি ডিভিশন না পান তাহলে কে পাবে?’

শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে এখন যেখানে রাখা হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন দিয়ে সাব জেল ঘোষণা করা না হলেও সাব জেলের সকল নিয়ম, কর্মচারী ও কারা প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার পুরানো ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষে রাখা হয়।

এছাড়া মামলার অপর আসামি বিএনপি প্রধানের ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাদেরকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এআরপি/এমএসআই