খালেদার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় অন্যরকম নিরবতা

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

খালেদার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় অন্যরকম নিরবতা

আতিক রহমান পূর্ণিয়া ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৮

খালেদার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় অন্যরকম নিরবতা

সেনানিবাসের বাড়ি হাতছাড়া হওয়ার পর গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাড়িটিতে বসবাস করে আসছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার কারাগারে যাওয়ার আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ওই বাড়িতেই ছিলেন তিনি। তবে তার সাজা হওয়ার পর থেকে বাড়িটিতে অনেকটা শোকের আবহ নেমে আসে। মুষড়ে পড়েন খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া ও তার ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে সাজা দিয়েছেন আদালত। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর বিএনপি চেয়ারপারসনকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখা হয়েছে। যে ভবনটিতে খালেদা জিয়াকে রাখা হচ্ছে সেটি আসামিদের শিশু সন্তানদের জন্য একসময় কিডস ডে-কেয়ার সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ওই ভবনের নিচতলার দুটি কক্ষে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে তার।

খালেদা জিয়ার সাজা ও কারাগারে প্রেরণের খবরে তার আত্মীয়-স্বজন ও কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মুষড়ে পড়েন। গুলশানের বাসায় আসা-যাওয়া করলেও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না আত্মীয়-স্বজনরা। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পারতপক্ষে সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন। গোটা বাসভবন ঘিরে অন্যরকম এক নিরবতা।

গুলশানের বাসভবনে এখন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মচারী খায়রুল, সুমন, ড্রাইভারসহ কয়েকজন অবস্থান করছেন। এছাড়াও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা টিম চেয়াপারসন সিকিউরিটি ফোর্স- সিএসএফ’র পাঁচ সিপাহী ও একজন ডিউটি অফিসারসহ ছয়জন সেখানে অবস্থান করছেন।

এর বাইরে বেগম জিয়ার প্রয়াত ভাই সাইদ ইস্কান্দার, শামীম ইস্কাদেরের স্ত্রী-সন্তানরা, খালেদা জিয়ার দুই মামিসহ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা বাসায় আসা-যাওয়া করছেন।

এসব তথ্য জানিয়ে সিএসএফ সমন্বয়ক লে. কর্নেল (অব.) তৌহিদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই উনাদের মন খারাপ। পরিবারের এমন একটা সময়ে সবারই খারাপ লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব এবং ম্যাডামের জন্য অপেক্ষা করে যাব। শুধু ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি যে একটা পুলিশ স্কট দেয় সেটা নাই, বাকি সব আগের মতো আছে।’

তৌহিদ জানান, ম্যাডাম যাওয়ার আগে সবাইকে বলে গেছেন- সবাই যেন শান্ত থাকে, অতিরঞ্জিত কিছু না করে। নেতাদের নির্দেশনা শোনে এবং ধৈর্য ধারণ করে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বেগম জিয়ার আদালতে যাওয়ার সময়ে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী, পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ যারা আশপাশে ছিলেন তারা মুষড়ে পড়েন। তার বাসার পরিবেশ ছিল ভারি।’

তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নয়, ইতিহাসের এক অন্যতম নেত্রীর সঙ্গে থেকে চলার সূত্র ধরে এ বয়সে তার জেলে যাওয়া দেখা কষ্টের। পরিবারের সবাইকে ছেড়ে নেত্রী থাকতেন বলে তারাও কখনো নেত্রীকে ছেড়ে যাননি।

শায়রুল বলেন, খালেদা জিয়া তার মা এবং ছেলের মৃত্যু দিবসেও আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। আদালতে হাজিরা দিয়ে এসে ছেলের কবর জিয়ারত করেছেন। এসব কাছ থেকে দেখে তাকে মায়ের মতো মেনে গত এক যুগ তারা অনেকে নিজ বাড়িতে গিয়ে নিজ বাবা-মায়ের সাথে ঈদ করতেন না।

এআরপি/এমএসআই