রায় পড়ার রুদ্ধশ্বাস ১৫ মিনিট

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

রায় পড়ার রুদ্ধশ্বাস ১৫ মিনিট

মাহমুদুল হাসান ৭:০৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৮

রায় পড়ার রুদ্ধশ্বাস ১৫ মিনিট

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণা করতে আদালত ১৫ মিনিট সময় নেন। দুপুরে ২টা ১২ মিনিট থেকে রায় পড়া শুরু করেন তিনি।

রায় ঘোষণার সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন। রায় পড়ার আগেই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) সদস্যদের এজলাস ত্যাগ করতে বলেন বিচারক। সঙ্গে সঙ্গে এজলাস কক্ষ থেকে সিএসএফ সদস্যরা বের হয়ে যান।

এরপর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৬৩২ পৃষ্ঠা রায়ের সংক্ষিপ্তসার পড়তে শুরু করেন বিচারক। প্রথমে মামলার সংক্ষিপ্ত কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এসময় এজলাস কক্ষ ছিল সুনশান।

রায়ে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে আণিত অভিযোগ অপ্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে আসামি পক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৪০৯ এবং ১০৯ বিধান অনুযায়ি শাস্তি যোগ অপরাধ করেছেন।

তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী,  কাজী সালিমুল হক ও শরফুদ্দিন আহমেদ, মনিমুর রহমান বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ১০৯ বিধান অনুযায়ী ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হলো।

আসামি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ৪০৯ এবং ১০৯ বিধান অনুযায়ী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বয়স ও সামাজিক মর্যাদার কারণে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা দেন বিচারক।

রায় শুনেই খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন ‘নো’, ‘নো’ বলে সশব্দে প্রতিবাদ করে উঠেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন এবং অন্য আইনজীবীরা চুপ ছিলেন।

এসময় এজলাসে থাকা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদকে বিমর্ষ দেখায়।

এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রওনা হন। রাস্তায় নেতাকর্মীদের ভিড় আর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ঠেলে তিনি দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে আদালত কক্ষে পৌঁছান। তার পরনে ছিল অফ-হোয়াইট শাড়ি।

তার আগেই সকাল সোয়া ৮টার দিকে মামলার অন্য আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে আদালতে হাজির করা হয়। আর সকাল ১০টা ১৮ মিনিটের দিকে আদালতে আসেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আদালতে প্রবেশের পথে স্ক্যানার বসানো হয়। সবাইকে তল্লাশির পর ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়।

গত ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুদকের দায়ের করা এ মামলায় দু’পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৫ জানুয়ারি। ওইদিনই রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এমএইচ/এমএসআই