প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঘুরে বেড়াবে গবেষণা জাহাজ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঘুরে বেড়াবে গবেষণা জাহাজ

প্রান্ত রনি, রাঙ্গামাটি ৪:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঘুরে বেড়াবে গবেষণা জাহাজ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ। ১৯৬১ সালে খরস্রোতা কর্ণফুলীর ওপর বাঁধ দিয়ে গড়ে তোলা হয় কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। ফলে বিশাল এলাকাজুড়ে সৃষ্ট হয় কৃত্রিম হ্রদ। যার আয়তন প্রায় ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর।

এ হ্রদের ‘প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য’ নিয়ে গবেষণার জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্বিবিদ্যালয়ের (সিভাসু) উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে বিশেষায়িত গবেষণা জাহাজ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সিভাসু গবেষণা তরী’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় তাঁর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, সিভাসু’র উপাচার্য প্রফেসর গৌতম বুদ্ধ দাশ, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদে কীভাবে আরও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয় নিয়ে আমরা চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়িত্ব দিই। তারা হ্রদে মাছের বংশবৃদ্ধি, ডিম সংরক্ষণসহ আরো কীভাবে মংস্য উন্নয়ন করা যায় সে বিষয়ে গবেষণা করবে। এতে এই এলাকার যেমন মৎস্য উন্নয়ন হবে, তেমনি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

সিভাসু সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় দেশের কৃত্রিম হ্রদ ‘লেক কেনিয়র’ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিচালনা করে। পরে তারা ওই হ্রদে বিপন্ন প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলে। তাদের সেই হ্রদের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে কাপ্তাই হ্রদে নামানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ ‘সিভাসু গবেষণা তরী’।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জের একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রাঙ্গামাটির পুরনো হেলিপ্যাড এলাকায় এ জাহাজ তৈরির কাজ শুরু করে। চলতি বছর জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ জাহাজ হ্রদে নামানো হয়। ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাহাজের অভ্যন্তরে ল্যাব তৈরি করা হয়।

এ তরীতে প্রায় ১৫টি বিষয় নিয়ে গবেষণার কাজ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে হ্রদের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের হার বের করা, মাছের অভয়াশ্রম সৃষ্টির জন্য স্থান নির্বাচন, সময়ের সঙ্গে হ্রদেন বিভিন্ন ভৌত রাসায়ানিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা, বিলুপ্তপ্রায় মৎস্য প্রজাতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা, হ্রদে চাষযোগ্য সম্ভাব্য প্রজাতি বের করা, বিভিন্ন মাছের প্রজনন ক্ষেত্রের বাস্তব অবস্থা নিরূপণ, প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ ও পদক্ষেপ গ্রহণ, স্থানীয় জনশক্তিকে খাঁচায় ও পেন কালচারের মাধ্যমে মাছচাষে উদ্যোগী করা, ঘোনায় মাছচাষের সুবিধা-অসুবিধাগুলো যাচাই করা, হ্রদের মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যের বিস্মৃতির অবস্থা নিরূপণ, প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে করণীয় নির্ধারণ, হ্রদ ভরাট হওয়ার কারণ উদঘাটন, বিশ্লেষণ ও নিরূপণে উদ্যোগ এবং হ্রদের দূষণ দূরীকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

তরীটি ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর আয়তনের হ্রদে চলাচল করবে। এই জাহাজের মাধ্যমে হ্রদের মাছ কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান ও সংরক্ষণে নানা পরিকল্পনা, উদ্যোগ এবং সিভাসুর এমএস ও পিএইচডি লেভেলের শিক্ষার্থীরা সারা বছর গবেষণা কার্যক্রম চালাতে পারবেন।

এইচআর

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও