চীনের ঐতিহাসিক গ্রেটওয়াল - বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চীনের ঐতিহাসিক গ্রেটওয়াল - বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:০৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৯

বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হলো চীনের মহাপ্রাচীর বা গ্রেট ওয়াল।

মঙ্গোলিয়ার দস্যুদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতক থেকে শুরু হয়ে–

আড়াই হাজার বছর ধরে চলে পৃথিবীর দীর্ঘতম এই প্রাচীরের নির্মাণ কাজ।

যা আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।

প্রতিদিন বিশ্বের হাজার হাজার পর্যটক চীনের গ্রেট ওয়াল দেখতে ভিড় করেন।

চীনা ভাষায় এই মহাপ্রাচীরের নাম ‘চাংছ্যাং’, যার অর্থ––লম্বা দেয়াল।

২০০০ বছরের পুরনো চীনের মহাপ্রাচীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ হাজার ২৭৬ কিলোমিটার।

দেয়ালের প্রস্থ ৩২ মিটার। চীনের ইতিহাস থেকে জানা যায়,

সে সময় এই দেয়ালের উপর দিয়ে বারোটি ঘোড়া পাশাপাশি দৌঁড়ে যেতে পারতো।

খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে কিন সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট এই মহাপ্রাচীরটি নির্মাণ শুরু করেন।

পরবর্তীতে মিং সাম্রাজ্যের সময় ১৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে এর কাজ শেষ হয়। তখনই এই প্রাচীর আধুনিক রূপ লাভ করে।

চীনের এই গ্রেট ওয়াল তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিলো, প্রতিবেশী দেশ মঙ্গোলিয়ার যাযাবর দস্যুদের হাত থেকে চীনকে রক্ষা করা।

লুটতরাজ ছিলো যাদের জীবিকার প্রধান উৎস।

চীনের উত্তরে ছিলো এই দুর্ধর্ষ মঙ্গলদের বাস।

বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও জানেন এর ইতিহাস।

ঐতিহাসিক গ্রেট ওয়াল দেখতে আসা পর্যটকদের কাছে এটা একটা বিস্ময়কর স্থাপনা।

নিজের দেশকে বাঁচানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম, মেধা আর মননে গড়ে উঠেছে এই ঐতিহাসিক গ্রেট ওয়াল।

যা দেশ রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতি চীনাদের গভীর দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার অনন্য বহি:প্রকাশ।

বর্তমানে প্রাচীরটির অনেক অংশই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে।

যদিও বেইজিংয়ের উত্তর দিকে এবং পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশে সংরক্ষিত রয়েছে।

এসবের কিছু অংশ আবার অনেক বেশি রকমের সংস্কারও করা হয়েছে।

২০১৪ সালে লাইয়াওনিং এবং হেবেই প্রদেশের বর্ডারের কাছের দেয়ালগুলো কনক্রিট দিয়ে নতুন করে সংস্কার করা হয়।

চীন সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগ তখন বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

২০১২ সালের ‘স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশান অভ কালচারাল হেরিটেজ’ কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যমতে–

মিং সাম্রাজ্যের সময় তৈরি হওয়া ২২% প্রাচীরই বা, প্রায় ২,০০০ কি.মি. প্রাচীরই সম্পূর্ণরুপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি এই চীনের মহা প্রাচীরের যে অংশ গানসু প্রদেশে অবস্থিত,

তার ৬০ কি.মি. এরও দীর্ঘ অংশ সামনের ২০ বছরের মাঝেই ধ্বংশ হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কালের আবর্তে আজ শুধু চীনের নয় গোটা বিশ্বের গৌরব চীনের এই প্রাচীর অনেকটাই ধ্বংসের মুখোমুখি।

পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এর প্রতি চীন সরকার যেমন যত্নবান হয়েছেন,

তেমনি উল্টোদিকে এই ব্যাপক পরিচিতির ফলে একে প্রতিনিয়ত সামলাতে হচ্ছে লাখ লাখ পর্যটকদের চাপ।

তবে চীন সরকার যদি এর সংস্কারের প্রতি আরো মনোযোগী হয়ে ওঠে,

তাহলে হয়ত আরো বহুদিন এই মনুষ্য সৃষ্ট বিশ্ব ঐতিহ্যকে এই পৃথিবীর বুকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি দেখুন...

 

ভিডিও: আরও পড়ুন

আরও