মুক্ত পাখির মতো উড়তে চায় প্রতিবন্ধী ভাই-বোন

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

মুক্ত পাখির মতো উড়তে চায় প্রতিবন্ধী ভাই-বোন

শওকত জামান, জামালপুর ৯:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯

মুক্ত পাখির মতো উড়তে চায় প্রতিবন্ধী ভাই-বোন

অদম্য চেষ্টায় প্রতিবন্ধকতা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছে শিশু পরশমনি ও আরমান। পরশমনির বয়স ৯ বছর আর আরমানের ১১। ওরা ভাই-বোন। তাদের বাবা মোবারক হোসেন পেশায় রাজমিস্ত্রি।

প্রতিবন্ধী দুই সন্তান বোঝা না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সেই স্বপ্ন বাবারও। তিনি সন্তানদের ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন ইসলামপুরের পাথর্শীর বুলবুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

আরমান প্রথম শ্রেণি থেকে উন্নীত হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে আর পরশমনি প্রথম শ্রেণিতে।

আরমান ও পরশমনি হাঁটু গেড়ে স্কুলে যাতায়াত করায় দুই পায়ের গোড়ালি ও হাঁটুতে ব্যথা এক পর্যায়ে ক্ষত হয়ে গেছে। সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠতে দম বেরিয়ে যায়। তবুও দমে যায়নি তারা। নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করছে।

তাদের সহপাঠিরা যখন স্কুলের মাঠে দৌড়ে বেড়ায়, খেলাধুলা আর দুরন্তপনায় ব্যস্ত তখন তারা মাঠের কোণে বসে তাকিয়ে থাকে অপলক দৃষ্টিতে। আহ্ আমরাও যদি দৌড়াতে পারতাম, অংশ নিতে পারতাম খেলাধুলায়, ভেবে তাকায় পায়ের দিকে। চোখের কোণে এসে যায় দু’ফোটা অশ্রু। দু’হাত দিয়ে মুছে দু’ভাই-বোন মেতে ওঠে এক্কাদোক্কা খেলায়।

আরমান ও পরশমনির সাথে কথা বলে জানা গেল তাদের এমনই অভিব্যক্তি।

আরমান আরো জানায়, যত কষ্টই হোক আমাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হবে। অন্যের কাঁধে বোঝা হয়ে না থেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। চাই সমাজের মানুষের সহানুভূতি সাহায্য সহযোগিতা। দেখিয়ে দেব আমরাও পারি।

বাবা রাজমিস্ত্রি মোবারক জানান, তার দুই সন্তান জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন নি। সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাওয়া হলেও কোনো সহায়তা পাননি তিনি। এমনকি প্রতিবন্ধী ভাতাও জুটেনি কপালে। শুধু সমাজসেবার আওতায় পড়ালেখার খরচ পাচ্ছে তারা।

তিনি বলেন, পেটের আহার জুগাতেই দিন যায়, সেখানে চলাফেরার হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করবো কিভাবে?

সন্তানদের চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবন্ধী শিশু দু’টির কষ্ট দেখে এগিয়ে আসে লাইফগার্ড নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তারা পরশমনি ও আরমানের স্কুলে যাতায়াতে চলাফেরায় দুটি হুইল চেয়ার দান করেন।

হুইল চেয়ার পেয়ে পরশমনি ও আরমানের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক। শিশু দুটির অসহায় বাবা-মার চোখে আনন্দ অশ্রু।

আর হাঁটুগেড়ে হামাগুড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হবে না পরশমনি ও আরমানের। স্কুলে যাতায়াতসহ চলাফেরা করতে পারবে হুইল চেয়ারে।

প্রতিবন্ধী শিশু পরশমনি ও আরমানের পায়ে অস্ত্রপচার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য নেই অসহায় বাবা মোবারকের।

তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনার একটু সহযোগিতায় ফিরে পেতে পারে আমার প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের স্বাভাবিক জীবন।

এইচআর

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও