বছরে ৬ মাসই জলাবদ্ধ মাঠ পেরিয়ে স্কুলে

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বছরে ৬ মাসই জলাবদ্ধ মাঠ পেরিয়ে স্কুলে

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা ৫:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

বছরে ৬ মাসই জলাবদ্ধ মাঠ পেরিয়ে স্কুলে

বর্ষা মৌসুমের পুরোটা সময় বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকে স্কুল মাঠ। বছরের অর্ধেক সময়জুড়ে এমনই চিত্র দেখা মেলে ভোলার মনপুরা উপজেলার দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এক হাতে বই ও অন্যহাতে জুতা নিয়ে ঢুকতে হয় স্কুলে। এতে অনেক সময় স্কুল মাঠের জলাবদ্ধতায় পড়ে বইসহ স্কুল ড্রেস ভিজে যায়। ভিজা ড্রেসে পাঠদান করতে হয় শিশু শিক্ষার্থীদের।

বছরের অর্ধেকটা সময় জলাবদ্ধ মাঠ থাকায় জাতীয় সংগীতসহ শপথবাক্য পাঠ হয় না স্কুলটিতে। এমনকি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে না পারায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমে।

বছরের পর বছর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিয়েও সুরাহা করতে পারেননি স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

এছাড়াও জলাবদ্ধ মাঠে সাপ ও জোঁকের কামড়ের ভয়ে স্কুল আসেছে না শিক্ষার্থীরা এমন কথাও জানান ওই প্রধান শিক্ষক।

সরেজমিনে দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায়, দলবেঁধে শিক্ষার্থীরা আসছে স্কুলের সামনে। এসেই পরনের প্যান্ট ভাঁজ করে উপরে উঠাচ্ছে। পরে পায়ের জুতা খুলে এক হাতে ও অন্যহাতে বই নিয়ে জলাবদ্ধ মাঠ পেরিয়ে স্কুলে ঢুকছে শিক্ষার্থীরা। কেউ আধা ভেজা ও কেইবা পুরো ভিজে গেছে। এরপর আধা ভেজা ও পুরো ভিজে নিয়ে পাঠদান শুরু। স্কুলমাঠ পানিতে ডুবে থাকায় খেলাধুলা করতে না পেরে ক্লাস রুমে হৈ চৈ করে আনন্দ নেয়ার চেষ্টা শিক্ষার্থীদের।

স্কুলের ৩য় শ্রেণির তানবির, রাহিম , ৪র্থ শ্রেণির রাহাত ও পঞ্চম শ্রেণির তানিয়াসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, এই স্কুলে পড়া-লেখা করতে ভালো লাগে না। খেলার মাঠ পানিতে ডুবে থাকে, খেলতে পারি না। স্কুলে ঢুকতে বেশিরভাগ সময় পানিতে পড়ে গিয়ে কাপড় ভিজে যায়। ভেজা কাপড় পরে থাকতে হয়।

এই সময় একসাথে শিক্ষার্থীরা স্কুলের মাঠ ভরাট করে দেয়ার দাবি করে।

দাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চপলা রাণী দাস জানান, ‘বছরের অর্ধেকটা সময় স্কুলের মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে জাতীয় সংগীতসহ শপথবাক্য পাঠ করানো যায় না। শিক্ষার্থীরা স্কুলে ঢোকার সময় সাপ ও জোঁকের কামড়ের ভয় পায়। পাঠদানে ব্যাহত হচ্ছে।’

তিনি আরোও জানান, ‘দীর্ঘদিনের এই সমস্যাটা প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না।’

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ‘প্রধান শিক্ষক সমস্যাটির কথা জানানোর পর উপজেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’

হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক জানান, ‘স্কুলের মাঠের জলাবদ্ধতার সমস্যা নিয়ে প্রধান শিক্ষক এসেছেন। বর্ষা শেষে আগামী শীতে মাঠ ভরাট করে দেযা হবে।’

এইচআর

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও