বন্যায় ভেঙে গেছে ২০ গ্রামের মানুষের একমাত্র সেতুটি

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

বন্যায় ভেঙে গেছে ২০ গ্রামের মানুষের একমাত্র সেতুটি

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল ৫:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯

বন্যায় ভেঙে গেছে ২০ গ্রামের মানুষের একমাত্র সেতুটি

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের রাঙ্গাচিড়ায় একটি সেতু এবারের বন্যার পানির প্রবল চাপে ভেঙে গেছে। এতে বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের সঙ্গে কাকুয়ার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ।

এলাকার লোকজন ও ছোট ছোট যানবাহন ভাঙা সেতুর জায়গায় সাময়িকভাবে নির্মিত বাঁশের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশলীর তদারকির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রিজটি দেবে গেছে। প্রায় দু’মাস হলো ব্রিজটি ভেঙে গেলেও এখন পর্যন্ত মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

টাঙ্গাইল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২২ লাখ টাকায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া-বঙ্গবন্ধুসেতু সড়কের রাঙ্গাচিড়া সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের দায়িত্ব পায় মোল্লা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

কাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার আজাদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, রাঙ্গাচিড়ায় নির্মিত সেতুটির নিচে কোনো আরসিসি পিলার ছিল না। স্বল্প ব্যয়ে নির্মিত এ সেতু বন্যার পানির প্রবল স্রোতে গত জুলাই মাসে ধসে পড়েছে।

সরেজমিন সেতু এলাকায় দেখা যায়, ধসে যাওয়া সেতুটির উপর বাঁশের একটি সেতু তৈরি করা হয়েছে। তার মধ্যে কাঠের পাটাতনও লাগানো হয়েছে। এই বাঁশের সেতু দিয়েই সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি, মোটরসাইকেলসহ হালকা যান চলাচল করছে। এসব যানবাহন পারাপারের সময় সেতুটি দুলে উঠতে দেখা যায়।

টাঙ্গাইল থেকে চরপৌলী রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মিনহাজ উদ্দিন জানান, ‘এ সেতু ভেঙে যাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের খুব অসুবিধা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সেতু দিয়ে অটোরিকশা পারাপার করতে হচ্ছে। খুব দ্রুত এটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।’

রাঙ্গাচিড়া গ্রামের হাসমত আলী জানান, ‘এভাবে এ সেতু দিয়ে চলাচল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।’

কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান ফারুক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সেতুটির দরপত্রে পাইলিং করার কোনো নির্দেশনা ছিল না। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সেতুটির নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে দেবে গেছে। এ সেতুর কারণে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ভেঙে পড়া ওই ব্রিজের উপর বাঁশ ও কাঠের পাটাতন দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি চলাচলের জন্য সাময়িক ব্যবস্থা করেছি। ইতিমধ্যে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের জন্য চিঠি দিয়েছি। তারা দ্রুত ব্রিজ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’ 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল গনি বলেন, ‘বন্যায় যেসব ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার তালিকা নেয়া হচ্ছে। এ বছর ব্রিজের টেন্ডার হয়ে গেছে। আগামীতে আমরা অধিকতর গুরুত্ব সম্পন্ন স্থানে যেসব ব্রিজ ধসে গেছে সেসব ব্রিজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করে দেবো।’

এ ব্যপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছরের মধ্যেই রাঙ্গাচিড়ায় ব্রিজের স্থানে নতুন করে ব্রিজ করা হবে।’

এইচআর

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও