টাঙ্গাইলের ভাসানী হল যেন ‘ভূতের বাড়ি’

ঢাকা, ৩ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

টাঙ্গাইলের ভাসানী হল যেন ‘ভূতের বাড়ি’

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৫:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০১৯

টাঙ্গাইলের ভাসানী হল যেন ‘ভূতের বাড়ি’

টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভাসানী হল। জেলার সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্রবিন্দু এ ভাসানী হল দীর্ঘ তিন বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে এখন এটি ‘ভুতুড়ে বাড়ি’তে পরিণত হয়েছে।

আর এ কারণে ব্যাহত হচ্ছে এলাকার সংস্কৃতিচর্চা ও বিনোদন। অথচ এটি সংস্কারে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসী।

এটি দ্রুত সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী বা পুনরায় নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন জেলার সংস্কৃতিকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘টাঙ্গাইল টাউন হল’ নামে এই হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতির শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজল। এরপর ১৯৭৮ সালের ২ এপ্রিল তৎকালীন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার খানে আলম খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই হলের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে এ হলটি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নামে ‘ভাসানী হল’ নাম দেয়া হয়। এরপর থেকেই ভাসানী হল নামে পরিচিত হয়ে আসছে এটি।

টাঙ্গাইলের সংস্কৃতিকর্মীরা বলেন, এক হাজার আসন বিশিষ্ট এই মিলনায়তনটিতেই জেলার সব সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হতো। শুধু তাই নয়, এই মিলনায়তনটি ঘিরেই নাট্যচর্চাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের আড্ডা বসতো নিয়মিত। এর চত্বরেই হতো বইমেলা। এখানে ঈদের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্টের আয়োজন করা হতো। এই ভাসানী হলেই জেলার অনেক রাজনৈতিক সভা-সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংস্কারের অভাবে হলটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রায় তিন বছর আগে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় এই ঐতিহাসিক বিনোদনের একমাত্র মিলনায়তনটি।

এক সময় যে জায়গাটি থাকতো সংস্কৃতিকর্মীদের পদচারণায় মুখর, তা এখন পরিণত হয়েছে ‘ভুতুড়ে বাড়িতে’। সেখানে এখন জমে উঠেছে পানপাতা বিক্রির হাট।

ভাসানী হলে গিয়ে দেখা যায়, এর বারান্দায় শুয়ে আছে ছিন্নমূল মানুষ। কক্ষগুলো সব তালাবদ্ধ। সামনের চত্বরে আগাছা গজিয়েছে, শ্যাওলা জমেছে দেয়ালে। এছাড়া হলের সামনেই বিক্রি করা হচ্ছে পান।

এলাকার নাট্যকর্মী ও সংগীতপ্রেমীরা জানান, টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র এই ভাসানী হল। এই ভাসানী হল চালু না থাকায় নাট্য ও সংস্কৃতিচর্চা ব্যাহত হচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব এটি সংস্কার বা পুনর্নিমাণ প্রয়োজন। এটি পরিত্যক্ত থাকায় জেলার সংস্কৃতিচর্চাও ঝিমিয়ে পড়েছে।

প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী এলেন মল্লিক বলেন, ‘টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মূলকেন্দ্র এই ভাসানী হল। এটি পরিত্যক্ত থাকায় সংস্কৃতিচর্চাও যেন পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে কবি মাহমুদ কামাল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘টাঙ্গাইলের বহু অনুষ্ঠান হয়েছে ভাসানী হলে। এখন এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ হলটি খুব দ্রুতই ব্যবহারের উপযোগী করে টাঙ্গাইলে সাংস্কৃতিক প্রবাহ আনা দরকার।’

টাঙ্গাইলের নাচের প্রশিক্ষক মৌসুমী ইউসুফ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভাসানী হল। সকল শ্রেণির দর্শকের ভেন্যু ছিল এটি। এখানকার মতো দর্শক অন্য কোথাও হতো না। ফলে ভাসানী হলকে খুব তাড়াতাড়িই সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা উচিত। ভাসানী হলের মঞ্চটি সবচেয়ে ভালো’

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোশারফ হোসেন খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ভাসানী হলটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব পাস হয়ে এলেই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’

এইচআর

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও