কুড়িগ্রামে দেবে যাওয়া সেতু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

কুড়িগ্রামে দেবে যাওয়া সেতু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ৪:০৯ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৯

কুড়িগ্রামে দেবে যাওয়া সেতু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে নির্মাণের এক বছর না যেতেই দেবে গেছে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু।

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে সেতুটি ভেঙে ও দেবে গেছে এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

সেতুটি দেবে যাওয়ায় ৪ বছর ধরে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

দুর্ভোগ কবলিত মানুষেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেবে যাওয়া সেতুটির উপর দিয়ে পারাপার করছে। দুর্ভোগ লাঘবে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেতু পুনঃনির্মাণের জোর দাবি করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বুড়াবুড়ি বাজার হতে জনতারহাট সড়কের সাকোর পাড় বিলের উপর ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ে অর্থায়নে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি বন্যার পানির তোড়ে নির্মাণের এক বছর যেতে না যেতেই ভেঙে ও দেবে যায়। এই সেতুটি নির্মাণ করে মেসার্স হামিদ ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

সেতুটি দেবে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বুড়াবুড়ি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষের। পরবর্তীতে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সেতুর দু’পাশে পায়ে হেঁটে চলাচলের ব্যবস্থা করে।

সেতুটি সাঁকোরপাড় গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখন এই সেতুর উপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনসধারণ তাদের ধান চালসহ বিভিন্ন মালামাল, বহন করতে পারছে না। ফলে বিকল্প পথ দিয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এই অবস্থায় সেতুটি পুনঃনির্মাণ করা জরুরী বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী রেজাউল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাসহ আরও অনেকে জানান, নির্মিত এই সেতুটি এক বছর যেতে না যেতেই বন্যার পানি ঢুকে দু’পাশের মাটি সরে গিয়ে দেবে যায়। পরে এলাকাবাসী মিলে কিছু টাকা চাঁদা তুলে বাঁশ, কাঠ দিয়ে সেতুর দুই দিকে সংযোগ করে দেয়া হয়। এখন এই সেতুর উপর দিয়ে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকমে পারাপার করছি।

তারা সেতুটি পুনঃনির্মাণের দাবি জানান।

উলিপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, ত্রাণ শাখার এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে ২০১৫ সালে। তিনি দেবে যাওয়া সেতুটি দেখতে গেছেন। তার মনে হয়েছে, বিলের আয়তনের চেয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য কম হওয়ায় বন্যার পানির তোড়ে সেতুটি দেবে গেছে। এখানে ৬০ থেকে ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতু দরকার বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, কেন সেতুটি নির্মাণের এক বছর যেতে না যেতে ভেঙে ও দেবে গেল এর তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা করা হবে।

ওয়াইএএ/এএসটি