বিপন্ন প্রজাতির গুই সাপটিকে মেরেই ফেলল ওরা!

ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৬

বিপন্ন প্রজাতির গুই সাপটিকে মেরেই ফেলল ওরা!

জহির শান্ত, কুমিল্লা ৯:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৩, ২০১৯

বিপন্ন প্রজাতির গুই সাপটিকে মেরেই ফেলল ওরা!

দেশে বিলুপ্ত হতে থাকা সরীসৃপ প্রজাতিগুলোর মধ্যে গুইসাপ অন্যতম। এরা সাধারণত শান্ত প্রজাতির প্রাণী। এমনই প্রজাতির একটি গুইসাপ কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার পৌর এলাকার সবারই পরিচিত ছিলো। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাণীটিকে প্রায়ই দেবীদ্বার শান্তিরোড, হাসপাতাল রোড এবং সুজাত আলী কলেজের উত্তর গেইট এবং মহিলা কলেজ রোড পাড়াপাড়ের সময় দেখা যেত।

লম্বার প্রায় ৮ফুটেরও বেশি গুঁই সাপটি দেবীদ্বারের কয়েকটি পরিত্যক্ত পুকুর ও ঝোপঝাঁড়ে বসবাস করত। দীর্ঘ বসবাসের ফলে ক্রমেই সকলের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠা এ সাপটির চলার পথে কেউ বাধা দিতো না, বসবাসে বিরক্ত করতো না। ইচ্ছে-স্বাধীনভাবেই চলছিল তার জীবন-যাপন।

কিন্তু মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের উত্তর গেইট এলাকায় একটি চটপটি দোকানে হঠাৎ লাফিয়ে উঠলে উপস্থিত লোকজন গুঁই সাপটিকে পিটিয়ে মাথা থেতলে মেরে ফেলে।

স্থানীয়রা জানান, সাপটি সবার পরিচিত ছিল, হঠাৎ চটপটি দোকানে লাফিয়ে উঠায় ভয়ে উপস্থিত লোকজন এটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।

অনেকের অভিযোগ, তাদের বাসার মোরগ, কবুতর প্রায় প্রতিদিনই নিখোঁজ হতে থাকত। গুই সাপটির মৃত্যুর পর সবাই মুরগী, কবুতর হারিয়ে যাওয়ার কারণ ওই গুই শাপটিকেই দুষলেন।

হত্যার পর সাপটিকে দেবীদ্বার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সামনের পুকুরের পশ্চিম পাড়ে ফেলে রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুন পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গত রাতেও তার দুটি মোরগ হারিয়ে যায়। যদিও মুরগী-কবুতর নিখোঁজ হওয়ার অন্য কারণও থাকতে পারে। তবে গুই সাপটি মেরে ফেলা ঠিক হয়নি। এ জাতীয় প্রাণী আমাদের দেশে এখন বিরল।

দেবীদ্বার উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গুইসাপ আমাদের দেশে হারিয়ে যাওয়া সরীসৃপ প্রজাতির মধ্যে অন্যতম।  এটি উপকারী প্রাণীও। এটাকে মেরে ফেলা ঠিক হয়নি।

বড় গুই বা রামগাদি দেখতে গাড় বাদামি বা কালচে, তাতে হলুদ রঙের রিং বিদ্যমান। পা ও নখ লম্বাটে। লেজ চ্যাপ্টা ও শিরযুক্ত। এরা দ্রুত গাছে উঠতে পারে। সাঁতরে খাল-বিল-পুকুর সহজেই পাড়ি দিতে পারে।

এদের প্রধান খাদ্য কাঁকড়া, শামুক, ইঁদুর, হাঁস-মুরগির ডিম, পচা-গলা প্রাণীদেহ ও উচ্ছিষ্ট। বড় গুইসাপ মাছ, সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ও পাখি খায়। তারা ছোট কুমির, কুমিরের ডিম ও কচ্ছপও খায়।

বাংলাদেশে তিন প্রজাতির গুইসাপ দেখা যায়। এগুলো হলো সোনা গুই, কালো গুই ও রামগাদি বা বড় গুই। এদের প্রতিটিই বিপন্ন।

কালো গুইসাপ দেশের সর্বত্র দেখা যায়। সোনা গুই পাহাড়ি এলাকায় আর রামগাদির প্রধান আবাস হলো মিঠাপানি ও লোনাপানির সঙ্গম এলাকা, নদীর মোহনা, সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে শুরু করে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চল। বসতি সংকোচন ও চামড়ার জন্য ব্যাপক নিধনের কারণে আজ এরা বিপন্নপ্রায়।

জেডএস/