ভোলায় তরমুজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

ভোলায় তরমুজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

অচিন্ত্য মজুমদার, ভোলা ৭:২৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৩, ২০১৯

ভোলায় তরমুজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

ভোলার ৭ উপজেলার তরমুজের ক্ষেতে সবুজের সমারোহ হাতছানি দিচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে আবাদ ৩ গুন ছাড়িয়ে ১০ হাজার ৪৯১ হেক্টর জমিতে সম্পন্ন হয়েছে। আর আবাদ টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ১৬০ হেক্টর।

এছাড়া হেক্টর প্রতি তরমুজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ মেট্রিক টন করে। আর মোট তরমুজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন।

এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় অথবা শিলা বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠে তরমুজের অবস্থা বেশ ভালো রয়েছে। বিস্তৃত জমিতে শোভা পাচ্ছে সবুজ তরমুজের সমারোহ।

শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশ্যই এই অঞ্চলে তরমুজের বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষি বিভাগ জানায়।

সরেজমিনে জেলার সদর উপজেলা, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাসন ও তজুমুদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে তরমুজের মাঠে চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ।

তরমুজ চাষিরা ক্ষেত থেকে তরমুজ বাজারজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোনো কোনো ক্ষেতে তরমুজ তুলে স্তুপ করা হচ্ছে। আবার কোনো ক্ষেত থেকে তরমুজ ট্রাক অথবা ট্রলিতে বোঝাই করা হচ্ছে।

প্রতিদিন ঢাকাগামী লঞ্চ, ট্রলার, কার্গো, ট্রাক যোগে জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব তরমুজ বাজারজাত করা হচ্ছে।

এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হওযায় তরমুজ চাষিরা লাভের মুখ দেখবে বলে জানান চরফ্যাশন উপজেলার নীলকোমল ইউনিয়নের সুমন মিয়া।

তিনি বলেন, চরযমুনায় ১৯ একর জমিতে সুপার এমপিআর জাতের তরমুজের আবাদ করেছি। এবছর আশার অধিক ফলন পেয়েছি। শেষ সময় পর্যন্ত যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে সারা বছরের কষ্টের প্রতিদান পাব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, তরমুজে সাধারণত ধানের চাইতে ৪ থেকে ৫ গুন বেশি লাভ হয়। তাই অনেক কৃষক তরমুজ আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কোনো কোনো কৃষক তরমুজ বিক্রিও শুরু করেছেন। প্রথম দিকে তারা বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন। তরমুজের পাতার ও ফলের রোগ সমাধানে কৃষি কর্মকর্তারা সব ধরনের পরামর্শ সেবা দিয়ে আসছে কৃষকদের।

আর ১৫ থেকে ২০ দিন আবহাওয়া ভাল থাকলে তরমুজের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে এখানে তরমুজ আবাদ শুরু করা হয়। অনেকে তারও আগে আগাম আবাদ করেছে। মূলত তরমুজ ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ঘরে তোলে কৃষকরা। বর্তমানে আগাম আবাদ করা তরমুজ বাজারে রয়েছে। এছাড়া অন্যগুলোরও কর্তনের প্রস্তুতি চলছে। কেউ কেউ আবার বাজারেও তুলেছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির বলেন, এই জেলায় সাধারণত ব্ল্যাক বেরি, সুপার এমপিআর, পাকিজা, ব্ল্যাক ডায়মন্ট, ট্রপিক্যাল ড্রাগন, সুইট জায়েন্ট, ড্রাগন, সুলতান, আনার কলি, বিগ ফ্যামেলি ইত্যাদি জাতের আবাদ বেশি করা হয়।

পাশাপাশি এবারই নতুন উন্নত জাত হানিকুইন ও লেন ফাই জাতের আবাদ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হলুদ রঙের এই তরমুজ অত্যন্ত মিষ্টি হওয়ায় কেজি হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। একেকটি তরমুজ ৫ থেকে-৬ কেজি ওজনের হয়। প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তরমুজ চাষিরা জানান, গত বছর মৌসুমের প্রথম দিকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় তরমুজের ফলন আশানুরুপ হয়নি। ফলে অনেক কৃষককে গুনতে হয়েছে লোকসান। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ব্যাপক পরিমাণ তরমুজের আবাদ হয়েছে। তাই আশা করা যাচ্ছে লোকসান পুষিয়ে লাভবান হবেন কৃষকরা।

উপজেলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান ও কবির হোসেন বলেন, তারা প্রায় দেড় একর জমিতে এবছর তরমুজের আবাদ করেছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা তাদের সব ধরনের সেবা দিয়ে আসছেন। আগামী ৮-৯ দিনের মধ্যে তারা প্রথম পর্বের তরমুজ বিক্রি শুরু করবেন।

ধনীয়া ইউনিয়নের তরমুজ চাষি লিয়াকত আলী, আজগর আলী, সুবেদ মিয়া, রহমত মাঝি ও আজাহার হাওলাদার বলেন, তারা প্রত্যেক বছরই তরমুজ আবাদ করে থাকেন। তরমুজ মাঠে প্রথম দিকে ভালো থাকে। কিন্তু শেষ সময়টাতে ভয় বেশি থাকে। কারণ শিলাবৃষ্টি ও অতি বৃষ্টি এর প্রধান শত্রু। যদি এই সময়টাতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হয় তবে তারা লাভবান হবেন।

কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, অতি বৃষ্টির চেয়ে তরমুজের বেশি ক্ষতি হয় শিলাবৃষ্টিতে। তাই শিলাবৃষ্টিতে তরমুজের ক্ষেতের উপর পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া অতি বৃষ্টিতে পানি জমে যাতে গাছের গোড়া পচতে না পারে সেজন্য বিশেষ স্প্রে’র কথা বলেন জেলা কৃষি বিভাগের প্রধান এই কর্মকর্তা।

এএসটি/