দুই দফা খননেও সুফল মেলেনি গড়াই নদীর

ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

দুই দফা খননেও সুফল মেলেনি গড়াই নদীর

মেজবা উদ্দিন পলাশ, কুষ্টিয়া ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯

দুই দফা খননেও সুফল মেলেনি গড়াই নদীর

দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কাছে একমাত্র মিঠা পানির উৎস কুষ্টিয়ার গড়াই নদী। দুই দফায় খনন কাজ হলেও নদী দেখে তা বোঝার উপায় নেই। খননে শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও দীর্ঘমেয়াদী সুফল পায়নি এলাকাবাসী।

কথাই আছে গড়াই বাচঁলে বাচঁবে মানুষ। তাই এলাকার মানুষের কাছে গড়াই লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। এই নদীকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই সরকার মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

নতুন করে নদী খননে ফের প্রায় ৬শ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরেই শুরু হবে খনন কাজ এমনটাই কথা রয়েছে। তবে এবার দুর্নীতিরোধ করে পরিকল্পিতভাবে নদী খননের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও জেলার সচেতন মহল।

কুষ্টিয়ার পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদী। জীব ও বৈচিত্র্য রক্ষায় এ নদীকে সচল রাখতে সরকারের মহতি উদ্যোগে ইতিমধ্যেই দুই দফা খনন কাজ শেষ হয়েছে। তবে নদী দেখে কোনো পরিবর্তন বোঝা যায় না। নদী যেমন আছে প্রায় তেমনই আছে।

নদীতে পলি পড়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদীর বুকে চর পড়েছে। নদীর বুকে ময়লা আবর্জনা। মানুষ হেঁটে ও সাইকেল চালিয়ে নদী পার হচ্ছে। খানাখন্দে জমে থাকা পানিতে কোনো রকমে গোসল ও কাপড় ধোঁয়ার কাজ করছেন নদীপাড়ের মানুষ।

স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসী বলছেন, সরকারের কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হলেও দীর্ঘমেয়াদী তেমন কোনো সুফল পাননি তারা। নামধারী জেলার কিছু দলীয় লোকজন টাকাগুলো চুরি করে অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছে। ঠকিয়েছে স্থানীয়দের। এবার নদী খননে সরকারের নজর যেনো এদিকে থাকে আর এমন চোর যেনো এই টাকার দিকে নজর দিতে না পারে এমনটাই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম টুকু বলেন, অতীতে গড়াই খনন নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তাই এবার সব ধরনের দুর্নীতিরোধ করে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানাচ্ছি।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডর (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কুষ্ণ কুন্ডু বলেন, গড়াই সচল করতে আবারও এ বছর ৫৯০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। একনেকে পাস হয়েছে প্রকল্পটি। চলতি অর্থ বছরেই কুষ্টিয়ার তালবাড়িয়া উৎসমুখ থেকে খোকসা পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার নদী খনন ও ৭ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, ৪ বছরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। তবে অতীতে সুফল না মেলায় এবার আরো পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মের মধ্যে কাজ করার ওপর জোর দিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নদী বিশেষজ্ঞ ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, গড়াই নদীর মিঠা পানির প্রবাহ হলে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে লোনা পানির আগ্রাসন কমবে। এছাড়া সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মিঠা পানির গুরুত্ব অনেক বেশি। নতুন করে গড়াই খননের পরে সরকারের মহতি উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও জীবনযাত্রার মানবৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক দিকও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, অতীতে প্রশ্ন ওঠায় এবার গড়াই নদী খননে মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

এইচআর