পরশুরামে পানির অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত

ঢাকা, ৩ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

পরশুরামে পানির অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত

ফেনী প্রতিনিধি ৬:০২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

পরশুরামে পানির অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে রবি মৌসুমে বোরো ধান চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।

উপজেলায় চলতি বছরে বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২শ ৭০ হেক্টর জমি চাষাবাদের। কিন্তু নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অন্তত ৫শ হেক্টরে জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা করছে কৃষকরা।

ফলে পরশুরামে কৃষি খাতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি সম্মুখীন হবে।

ওই এলাকার কৃষকরা কৃষি প্রধান দেশের কৃষি উৎপাদনে পানি সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন।

কৃষি অফিস জানায়, পানি সংকটের কারণে পরশুরাম পৌর এলাকার উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া, বাঁশপদুয়া, খোন্দকিয়া, বাউরখুমা, বাউরপাথর, বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর, দক্ষিণ টেটেশ্বর, চিথলিয়া ইউনিয়নের কিসমত ঘনিয়া মোড়া, চিথলিয়া, রাজষপুর, শালধর, ধনিক্ন্ডুা, মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর, কালিকৃষ্ণনগর, মেলাঘর, কালিকাপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামে পানির সংকটে কৃষকদের বোরো ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে।

উত্তর কোলাপাড়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, মুহুরী নদীর উজানের অংশে ভারত সীমান্তে পানি আটকে রাখায় বাংলাদেশের অংশে পানি প্রবাহ কমে গেছে। পানি প্রবাহ না থাকায় কহুয়া নদী একেবারেই শুকিয়ে গেছে। সেচপাম্প চালু করার কিছুক্ষণের মধ্যে পানি সংকটে তা বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, জরুরি ভিত্তিতে পরশুরামের মুহুরী ও কহুয়া নদীর মোহনার মুখে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করলে পৌর এলাকা ও চিথলিয়ার কয়েক হাজার কৃষকের রবি মৌসুমে বোরো ধান চাষাবাদে সেচ পানির সংকট দূর হবে।

এদিকে পরশুরাম পৌর এলাকার কৃষকরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছেও অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য আবেদন করেছেন।

সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান পরশুরাম গেলে তার কাছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা রবি মৌসুমে বোরো ধান চাষাবাদে প্রধান সমস্যা পানির সংকট দূর করতে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, পরশুরামে চলতি রবি মৌসুমে বোরো ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২শ ৭০ হেক্টর। কিন্তু নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অন্তত ৫শ হেক্টরে জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা করছে কৃষকরা। এতে করে কৃষি খাত হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি জানান, প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি সম্মুখীন হতে হবে। মুহুরী ও কহুয়া নদীতে অস্থায়ীভাবে ১৩৭ ফুট দীর্ঘ বালির বস্তা দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রকে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান ভুট্টু জানান, কৃষকদের পানি সংকট বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।

তিনি কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি লাঘবে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

এইচআর

 

ফিচার : আরও পড়ুন

আরও