যশোরে পৌষকালী মেলায় ভক্তদের ঢল

ঢাকা, বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ | ৩ মাঘ ১৪২৫

যশোরে পৌষকালী মেলায় ভক্তদের ঢল

ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ব্যুরো ৯:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৫, ২০১৯

যশোরে পৌষকালী মেলায় ভক্তদের ঢল

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি সার্বজনীন কালী মন্দির। প্রায় চারশ বছরের প্রাচীন মন্দির। পৌষকালী পূজা ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী মেলা।

শনিবারের হাজারো ভক্তের পদচারণায় মুখরিত ছিল মন্দির প্রাঙ্গণ। মেলায় বসেছে নাগরদোলা, মিষ্টি মিঠাই, কসমেটিস, আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান। কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই।

আয়োজকরা বলছেন, কয়েকশ বছর ধরে পূজা উপলক্ষে মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। আগে একদিনের মেলা হলেও গত ২২ বছর ধরে তিনদিনের মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। সর্বস্তরের মানুষের সমাগমে মেলা এখন পরিপূর্ণ।

যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক ধরে গদখালি বাজার থেকে কয়েকশ গজ এগিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থিত গদখালি সার্বজনীন মন্দির। শনিবার বিকেলে সেখানে গিয়ে ভেতরে ঢুকতে প্রধান ফটকেই ব্যাপক ভিড়। কালীপুজোর প্রসাদ নিতে ভক্তদের তোড়জোড়। সর্বস্তরের মানুষের পদচারণায় মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, হাজারো ভক্তের কেউ আরাধনায়, কেউ দানে, আবার অনেকেই মেলায় কেনাকাটায় ব্যস্ত। কয়েক শত স্টলে কেনাকাটার ধুম পড়ে গেছে। গ্রামীণমেলার ঐতিহ্যের কোনো কিছুর কমতি নেই।

নাগরদোলায় শিশুদের পাশাপাশি নানা বয়সী নারী-পুরুষও আনন্দে মাতোয়ারা। হরেক রকমের খেলনা ও কসমেটিক্সের পসরা নিয়ে বসেছেন দোকানীরা।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা জানালেন, মেলা শুরু হলো আজ, জমছেও ভালো। বেচাকেনা ভালো হবে আশা করছি।

গোপালগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, প্রথমবারের মতো এবার মেলায় দোকান দিয়েছি। বিক্রি মোটামুটি ভালো হচ্ছে। আশাকরি বাকি দুদিন আরও ভালো বিক্রি হবে।

নওয়াপাড়া থেকে আসা অপর ব্যবসায়ী নয়ন মোল্লা জানালেন, কসমেটিক্স জিনিসের চাহিদা বেশি। গ্রামের সব বয়সী মানুষেরা ভিড় করছে। বেচাকেনা ভালো হচ্ছে।



মেলায় দা, কাস্তে, বটি ইত্যাদি জিনিসের পসরা নিয়ে বসা ব্যবসায়ী চন্দ্রা রক্ষিত বলেন, প্রতিবারই মেলায় দোকান দিই। এবারও বসেছি। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।

আসবাবপত্র বিক্রির দোকানও বসেছে। সেখানেও ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ বাহারী মিষ্টি বিক্রির ধুম চোখে পড়েছে। মিষ্টির দোকানীরা ব্যস্ত সময় পার করছে। এছাড়া পাপড়, ফুচকা বিক্রেতাদেরও বিক্রির ধুম ছিল।

ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় এসে উচ্ছ্বসিত দর্শনার্থীরাও। বেনাপোলের সাদীপুর গ্রামের স্কুলছাত্র প্রান্ত কুমার বিশ্বাস (১১) জানায়, মায়ের সঙ্গে এসেছে পৌষকালী পূজা দেখতে। ভিড়ের মধ্যে মায়ের সঙ্গে ঘুরছে। প্রসাদ নিয়ে বাড়ি ফিরবে।

খুলনার দিঘলিয়ার অর্চনা ঘোষ জানান, প্রতিবছর পুজোয় আসি। এবারও মায়ের পুজো দিতে এসেছি। পরিবারের আরো লোকজন আছে।

গদখালি সার্বজনীন কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র ভক্ত পরিবর্তন ডটকমকে জানান, আজ (শনিবার) পৌষকালী পূজা উপলক্ষে তিনদিনের মেলা শুরু হয়েছে। প্রথম দিকে একদিনের মেলা ছিল। ১৯৯৬ সাল থেকে পূজা তিনদিনের মেলার আয়োজন হচ্ছে। প্রতিবছর জমজমাট মেলা হয়। এবার মেলায় ছোট বড় প্রায় ৬শ স্টল বসেছে।

তিনি আরো বলেন, মেলার নিরাপত্তায় ৪০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক দল রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। এছাড়াও মেলায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই বলে তিনি জানান।

এইচআর