সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর হার্ডপয়েন্ট হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর হার্ডপয়েন্ট হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র

এইচ এম আলমগীর কবির সিরাজগঞ্জ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর হার্ডপয়েন্ট হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র

উত্তর বঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু ও যমুনা নদীর তীর ঘেষে শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্ট। শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্ট এখন হাজার হাজার মানুষের ভীরে মুখরিত। সিরাজগঞ্জের মানুষের কোনো বিনোদনের জায়গা নেই। হার্ডপয়েন্টে দেখার সুযোগ হয়েছে সূর্যদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য। প্রকৃতির এমন দৃশ্য দেখতে এখন হাজার হাজার মানুষ ভীড় করছে হার্ডপয়েন্টে। সিরাজগঞ্জবাসীর প্রানের দাবি রেলপথ ও সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথ সৃষ্টি করে পর্যটন এলাকা গড়ে তুললে জেলার গুরুত্ব আরও বাড়বে তেমনি অর্থনীতির চাকাও ঘুরতে পারে।

জানা যায়, ১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া বাঁধটি ২০০১ সালে শেষ হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডেরতত্বাবধানে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধটি নিমার্ণে প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয় হয়। সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণী পেশার মানুষ এখন সরকারি ছুটির দিন ছাড়াও বিভিন্ন উৎসব ও দিবসেও বিনোদনের স্থান হিসেবে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ বেছে নিয়েছেন।

বাঁধের হার্ড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য বিনোদন পিপাসুদের বেশি আকৃষ্ট করে। এছাড়াও বন্যার সময় চারিদিকে শুধু পানি আর পানি, পানির উপর দিয়ে বয়ে আসা নির্মল বাতাস এবং শুষ্ক মৌসুমে জেগে ওঠা বড় বড় চর এবং চরের চিক্ চিক্ বালি মানুষের বিনোদনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসবে তরুন-তরুনী থেকে শিশু-কিশোর এমনকি প্রবীণরাও এখানে মেতে উঠছেন আনন্দে ।

বেলকুচি থেকে স্ত্রী সন্তান নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী হাজী আফাজ উদ্দিন তিনি বলেন, জেলার কোথাও বিনোদনের তেমন জায়গা নেই । হার্ডপয়েন্ট এলাকাটি বেড়ানোর বিনোদনের অন্যতম স্থান। এই জায়গাটিকে বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবী জানান তিনি।

কামারখন্দ থেকে আসা দর্শনার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জের মানুষের বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে হার্ডপয়েন্টকে বেছে নিয়েছেন। বিনোদনের কোন জায়গা না থাকায় প্রতি সপ্তাহে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসি হার্ডপয়েন্টে।

সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য নব কুমার কর্মকার বলেন, বিনোদনের কোন জায়গা না থাকায় বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে হার্ডপয়েন্টকে বেছে নিয়েছেন দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে বেড়াতে আসছেন । জায়গাও রয়েছে প্রচুর । বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে এখানে । যমুনা নদীর তীরকে সরকারীভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুললে মানুষের বিনোদনের অভাব পুরণ হওয়ার পাশাপশি সরকার এ থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ইসি/