‘বঙ্গবন্ধু’ গান এবং একটি দর্শন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

‘বঙ্গবন্ধু’ গান এবং একটি দর্শন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

‘বঙ্গবন্ধু’ গান এবং একটি দর্শন

‘কাঁদো বাঙালি আজ কাঁদো সবাই, কান্নাতে পৃথিবীর পাবে সব সুখ। কোটি মানুষের প্রাণ–স্পন্দনে পিতা, তুমিই বাংলার মুখ।’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে এমনই পঙ্‌ক্তিমালা সাজিয়েছেন গীতিকার দেওয়ান লালন আহমেদ।

দেওয়ান লালন বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট, মোবাইল ফোনকেন্দ্রীক অপরাধ নির্ণয়ে বিশেষ পারদর্শী। পাশাপশি লেখালেখি ও শিল্পচর্চা করেন। তার লেখা গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয়।

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অগাধ ভালবাসা রয়েছে কবি দেওয়ান লালনের। যে কারণে সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষের চিন্তা চেতনায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে উপলব্ধি করাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পুলিশের প্রথম প্রতিরোধ নিয়েও গান লিখেছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। লিখেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের বীরাঙ্গনা মা টেপরি রানীকে নিয়ে।

তার লেখা ‘বীরাঙ্গনা’ শিরোনামের ওই গানের পরই টেপরী রাণী উপহার পান নতুন বাড়ি। সবশেষ চলতি বছরের শোকাবহ আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধু শিরোনামে দেওয়ান লালন আহমেদের গানের ভিডিও নির্মিত হয়। পার্পল ভিশনের ব্যানারে গানটি প্রকাশিত হয় জি সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে।

সাজেদ ফাতেমির অসাধারণ সুরে গানটি গেয়েছেন ফিডব্যাক এর জনপ্রিয় ভোকালিষ্ট লুমিন।

জাতির জনককে নিয়ে লালনের লেখা গানের ভিডিওচিত্রটি নির্মাণ করেন স্বনামধন্য  নির্মাতা সৈয়দ তানভীর আহমেদ। ব্যতিক্রমী এই ভিডিও চিত্রে সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি পেশার মানুষের চেতনায় বঙ্গবন্ধু ও তাদের উপলব্ধিকে তুলে ধরা হয়েছে।যা নতুনভাবে বঙ্গবন্ধুকে প্রকাশ করেছে।

ভিডিও গানটিতে গাড়িয়ালের হাতে শোভা পেয়েছে ব্যতিক্রমী কথা- ‘মুজিব মানেই সোনার বাংলা, মুক্ত মাটির ঘ্রাণ ‘। কৃষকের হাতে শোভা পেয়েছে –’তিনি প্রিয় নেতা চাষী মজুর তাঁতীর বঙ্গবন্ধু তিনি জনক জাতির’।

নতুন প্রজন্মের স্কুল ছাত্রের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা হয়েছে ‘এই ইতিহাস ভুলে যাব আজ আমি কি তেমন সন্তান, যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান’। মন্দিরের পুরোহিতের হাতে- ‘পৃথিবীতে যা কিছু মহৎ তা শোক থেকেই সৃষ্টি, শোক হৃদয়ে শক্তি, সংহতি ও আত্মার শ্বাসে রুপান্তরিত হোক’।

গীর্জার ব্রাদারের হাতে -’হে পিতা পরম পিতা, হে পিতৃদেব আমার; তোমাকে মনে পড়ে, তুমি ছিলে আছো থাকবে।’ মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বের হওয়া ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির হাতেও স্লোগান-’পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবেনা- বঙ্গবন্ধু’।

আদালতের প্রাঙ্গণে আইনজীবির বুকে –’জাতির জনক জাতির সংবিধান’। আর ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরে উদ্দীপ্ত স্নিগ্ধ প্রজন্ম প্রতিনিধিত্বকারী তরুণীর হাতে-’ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বর বাঙ্গালীর সার্বভৌম তীর্থবীজ’। এভাবেই গানটির মাধ্যমে দেওয়ান লালন তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বাংলার প্রতিটি মানুষের মনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে। 

গীতিকার দেওয়ান লালন আহমেদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বুকের মাঝে ধারণ করি বাংলাদেশ, ধারণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধ, ধারণ করি মহান নেতা বঙ্গবন্ধুকে। সেই প্রত্যয় বুকে নিয়েই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে নতুন প্রজন্মের কাছে গানের মাধ্যমে তুলে ধরে যেতে চাই বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাঙালি জাতির পিতা। পাকিস্তানিদের রক্তচক্ষু কখনোই টলাতে পারেনি বঙ্গবন্ধুকে। বিশাল বুকে আগলে রেখেছিলেন বাঙালিকে। সংগ্রামী জীবনে কারাগারই ছিলো বঙ্গবন্ধুর ঠিকানা। চলার পথটা সহজ ছিলো না বঙ্গবন্ধু পরিবারের। ছিল হাজারটা বাধা। সেই দুঃসময়ের স্মৃতিকাতরতা, রক্তঝরা আগস্টের দিনগুলো এখনো হায়েনার মত তাড়া করে বাঙালিকে।

১৯৭৮ সালে টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন দেওয়ান লালন আহমেদ। পড়ালেখা করেছেন ঢাকার নটরডেম কলেজে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে ২৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেন।

লেখালেখির প্রতি তার আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই, স্কুলের দেয়ালিকা থেকে লেখার হাতেখড়ি। অবসরে লেখালেখিতে ব্যস্ত থাকেন, তার লেখা গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ দেশের জাতীয় পত্রিকাগুলোতে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।

দেওয়ান লালন বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র ‘ডিটেক্টিভ’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন। ব্লগার স্বীকৃতি হিসেবে প্রথম আলো ব্লগ থেকে তিনি পুরস্কার পেয়েছেন। তার গ্রন্থ ‘বাবার চোখে মুক্তিযুদ্ধ’ ২০১৬ সালের বইমেলায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০১৭ সালের বইমেলায় তার দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘পুলিশের খেরোখাতা’ প্রকাশ হয়। আর একুশে বইমেলা-২০১৮ তে তার শিশুতোষ বই ‘বিতং বনে বন বনিয়ে’ প্রকাশিত হয়েছে।

পিএসএস/