গাছে গাছে ভরে গেছে লটকন

ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫

গাছে গাছে ভরে গেছে লটকন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৮

গাছে গাছে ভরে গেছে লটকন

চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। গাছের গোড়া থেকে মগ ডাল পর্যন্ত শুধু ফল আর ফল। মনে হয় যেন প্রকৃতি তার নিপুণ হাতে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন এসব ফল।

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ছিলাহাটি ইউনিয়নের তিস্তাপাড়া গ্রামে এ দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয় লটকন চাষী গকুল চন্দ্র রায় তার নিজস্ব ৭ বিঘা জমিতে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুসহ লটকন বাগান করেছেন। তার এই বাগানে ৫৫ থেকে ৬০টি লটকন গাছ রয়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে লটকন বিক্রি করে আসছেন তিনি। এ বছর ৫৫টি লটকন গাছের ফল তিনি ৩ লাখ টাকায় পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন।

লটকন পাইকাররা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই সব লটকন পাঠিয়ে দেন।

চাষি গকুল চন্দ্র রায় জানান, লটকোন চাষে অনেক লাভ, পরিশ্রম নেই বললেই চলে।

গকুলের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভাতিজা দিপঙ্কর রায় ১ বিঘা জমিতে ২০টি লটকন গাছ লাগিয়েছেন। সেখান থেকে এ বছর তিনি এক লাখ টাকা আয় করেছেন।

তিস্তাপাড়া গ্রামের বাদল চন্দ্র রায় বলেন, তিনি গকুল চন্দ্রের দেখাদেখি লটকন গাছ লাগিয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগে। এ বছর তার ২৫টি লটকন গাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল ধরেছে। স্থানীয় পাইকার এসে তার বাগানটি দেড় লক্ষ টাকায় কিনেছেন।

লটকন চাষ করে তাদের সংসার সুন্দরভাবে চালিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তিস্তাপাড়ার লটকন বাগান দেখতে এসে অনেকেই এ ফল চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বগদুলঝুলা গ্রামের আফিজ উদ্দিন, পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিরহাট এলাকার আ. কাদের জানান, লটকনের ফলন দেখে তারা হতবাক হয়েছেন। এত লটকন চাষ হয়েছে। তারা তিস্তাপাড়া থেকে লটকনের চারা সংগ্রহ করে এ বছরেই লাগাবেন বলে জানান।

জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সামছুল হক বলেন, এ বছর জেলায় ছোট ছোট বাগান আকারে ৩২ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ লটকন চাষীদের সার্বক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

পঞ্চগড়ের উৎপাদিত লটকন আকারে বড়, আকর্ষণীয় রং এবং রসালো হওয়ায় এটার চাহিদা খুবই বেশি। স্থানীয়ভাবে চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে লটকন সরবরাহ করা হচ্ছে। লটকন চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

আগামীতে পঞ্চগড়ে ব্যাপক লটকন চাষের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

কেএ/বিএইচ/