মহাকাশের নিকটে আলোর ঝলকে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫

মহাকাশের নিকটে আলোর ঝলকে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

কে বি আনিস ৩:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৮

print
মহাকাশের নিকটে আলোর ঝলকে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

গত সপ্তাহের ঘটনা। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার পর্যবেক্ষকেরা হঠাৎ রাতের আকাশে অদ্ভুত আলোর ঝলকানি দেখে চমকে উঠেন। মহাশূন্যের অন্ধকার ভেদ করে চকিতে দেখা দেয়া আলো সম্পর্কে আগ্রহ তাদের বেড়ে যায়। তথ্য উপাত্ত পরীক্ষা করে তাদের মনে হয়, নিশ্চয় কোনো নক্ষত্রের অন্তিম পরিণতি ঘটেছে। কিন্তু তাদের সৌরজগতের এতো কাছে?

বিষয়টি আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য মান মন্দিরের গবেষকেরা বিশ্বের বিভ্ন্নি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে তথ্য পাঠান। জানতে চান মহাশূন্যের এতো নিকটে এমন আলোর ঝলক দেখার কারণ কি?

উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে অবস্থিত কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক স্টিফেন স্মার্ট সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘মহাকাশের এতোটা কাছে এর আগে এমন আলো আমার চোখে পড়েনি’। মহাশূন্যে অদ্ভুত আলোর ঝলকটি প্রথমে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত সংস্থা এটলাস সার্ভে’এর নজরে প্রথম পড়ে।

সেই সংস্থারই প্রধান গবেষক স্টিফেন জানান, ‘এটি সুপারনোভা বলেই মনে হচ্ছে। গ্রহ নক্ষত্রের অন্তিম অবস্থায় যে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে থাকে’।

বিরল ঘটনাটির কথা প্রথমে এস্ট্রোনমার্স টেলিগ্রাম নামের একটি অনলাইন সেবা সংস্থার মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। সংস্থাটি মহাশূন্যের এমন সব বিরল ঘটনার কথা নিয়মিত প্রকাশ করে থাকে। সেখান থেকেই জানা যায়, যে স্থানটি থেকে আলোর ঝলক দেখা গেছে তা AT2018cow হতে পারে।

আলোর ঝলকের তথ্য জেনে স্টিফেন স্টিভের প্রথমেই ওই স্থানটির কথাই প্রথমে মাথায় আসে। যদিও সেখানে এমন বিস্ফোরণের ব্যাপারে তার কোনো পূর্ব ধারণাই ছিল না। যে বিষয়টি তাকে সবচেয়ে অবাক করে তা হচ্ছে, সাধারণত যে আকারের সুপারনোভা দেখা যায় এটি ছিল তার চাইতে অন্তত ১০ গুণ বড়।

বিষয়টি দ্রুতই বিশ্বের বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আগ্রহী করে তোলে। সুপারনোভার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বিজ্ঞানীদের অন্তত দুই ডজন দল এটলাস’এর সঙ্গে যোগাযোগ করে এর টেলিস্কোপ ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করছে।

এই বিষয়ে কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং এস্ট্রোনমার্স টেলিগ্রামের প্রধান সম্পাদক বরার্ট রুটলেজ জানান, "আমার মনে হয়েছে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এই ঘটনাটি দ্রুত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।"

কেননা মহাশূন্যে পৃথিবীর এতো কাছে এমন আলোর ঝলক এর আগে দেখা যায়নি বলেই বিজ্ঞানীদের মনে এতো আগ্রহ। আকারের পাশাপাশি এর উজ্জ্বলতাও ছিল কয়েক গুণ বেশি।

অবশ্য বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ এটিকে সুপারনোভা বলেও মানতে চাইছেন না। তাদের দাবি, এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে। কেউ কেউ আবার এই আলোর উৎপত্তি AT2018cow অঞ্চলের নয় বলেও মনে করছেন।

তাদের মতে, আলোটি যেখান থেকে এসেছে বলে মনে হচ্ছে তা মহাকাশের হারকিউলিস নক্ষত্র মণ্ডলের CGCG 137-068 এলাকা থেকেও আসতে পারে। সেটি হলে ধরে নিতে হবে পৃথিবীর মানুষের চোখে আলোটি এসে পৌঁছাতে ২শ’ মিলিয়ন অর্থাৎ ২০ কোটি আলোকবর্ষ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

কিন্তু কোনো কোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মনে প্রশ্ন হচ্ছে, সুপারনোভার ফলে আলোর পাশাপাশি যে কম্পন ধরা পড়ে তা এক্ষেত্রে হয়নি। তাছাড়া এমন ঘটনা অন্য কোনো মানমন্দিরেও ধরা পড়েনি। তাহলে?

কোনো কোনো বিজ্ঞানী একে সংকেত হতে পারে বলেও সন্দেহ করছেন। তবে তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ তাদের হাতে নেই। ফলে রহস্যময় আলোটি নিয়ে নানা প্রশ্নই শুধু জন্ম দিচ্ছে। কিন্তু উত্তর আর মিলছে না।

কেবিএ

 
.



আলোচিত সংবাদ