পুরান ঢাকার কিছু ভূতুরে ঘটনা!

ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫

পুরান ঢাকার কিছু ভূতুরে ঘটনা!

পরিবর্তন ডেস্ক ২:২৮ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৮

পুরান ঢাকার কিছু ভূতুরে ঘটনা!

স্বাধীনতারও অনেক আগে বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে ৭০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে গড়ে ওঠা নগরটি এখন পুরান ঢাকা নামে পরিচিত। এর পাশ দিয়ে আধুনিক ঢাকার পরিধি বৃদ্ধি পেলেও বায়ান্ন বাজার তেপ্পান্ন গলি’র এলাকাটির সুখ্যাতি আজও বর্তমান। প্রাচীন স্থাপত্য, ঐতিহ্য, খাবার, সংস্কৃতি সব মিলিয়ে পুরান ঢাকা এখনও তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেছে।

পুরান ঢাকায় বেশ কিছু ভূতুরে গল্প প্রচলিত রয়েছে। তেমনই কিছু কাহিনী নিয়ে পরিবর্তনের এবারের আয়োজন।

১. পুরান ঢাকার মিষ্টির দোকানে রহস্যময় ক্রেতার হানা দেওয়ার গল্প অনেকেই জানেন। মিষ্টির দোকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদি বাসিন্দাদের কাজ থেকেই বিষয়টি জানা যায়। কথিত আছে, পুরান ঢাকার আদি মিষ্টির দোকানগুলোয় রাত ৮টার পর রহস্যময় ক্রেতার আগমন ঘটে।

যে মুহূর্তে সেই ক্রেতার আগমন ঘটে, সেই মুহূর্তেই নাকি এলাকায় লোড শেডিং হয়ে যায়। আবার অনেক সময় সেই ক্রেতাই দোকানের বাতি নিভিয়ে ফেলার অনুরোধ করেন।

অন্ধকারে থাকা সেই ক্রেতা কিন্তু প্রচুর মিষ্টি ক্রয় করেন বলেই জানা যায়। পুরনো ঢাকার প্রবীণদের ধারণা, এরা জীন জাতি। মিষ্টি প্রীতির কারণেই তারা দোকানগুলোয় মানুষের রূপ ধরে আসেন। সাধারণ মানুষের মতো দেখা গেলেও কারও কারও দাবি, আকারে তারা বেশ বড় হয়ে থাকেন।

২. পুরান ঢাকার পাশ দিয়ে স্থাপিত হানিফ ফ্লাইওভারের উপরেও কেউ কেউ রাতে ভৌতিক অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। তাদের বর্ণনায় জানা যায়, গভীর রাতে ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সাদা বর্ণের কুকুর জাতীয় প্রাণী গাড়ির সামনে দৌঁড়ে আসে।

কিন্তু গাড়ি ব্রেক করলে দেখা যায়, সেখানে কিছুই নেই। কেউ কেউ আবার কুকুরের বদলে নারী মূর্তি দেখার দাবিও করেছেন।

৩. পুরান ঢাকার অতি পরিচিত একটি গার্লস স্কুলের সামনে রাত ১২ টার পর অনেকেই ভৌতিক অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, স্কুলের সামনে দিয়ে নব বধুর বেশে এক ছায়ামূর্তিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

কিন্তু সে কোথা থেকে আসে, কিংবা কোথায় চলে যায় সে সম্পর্কে কারও কোনো ধারণা নেই। অনেকের মতে, সেই ছায়ামূর্তিটি নাকি অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।

৪. লালবাগ কেল্লার নিচ দিয়ে অনেকগুলো সুরঙ্গ থাকলেও কেল্লার ভেতরে থাকা একটি সুরঙ্গ পথ নিয়ে ভৌতিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। অনেক দিন ধরেই অবশ্য সুরঙ্গপথের মুখটি বন্ধ হয়েছে।

তবে এলাকার অনেক প্রবীণ ব্যক্তির ছেলেবেলায় এর ভেতরে ঢোকার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে কেউ সুরঙ্গের শেষটা দেখার সাহস দেখাননি।

তাদের মুখ থেকেই জানা যায়, ছেলেবেলায় তারা ওই সুরঙ্গ পথের বদনাম শুনতেন। বলা হতো, কেউ ওই সুরঙ্গটির গভীরে প্রবেশ করে আর ফিরে আসেনি।

বিষয়টি পরীক্ষার জন্য একবার দু’টি কুকুরকে গলায় চেন বেঁধে সুরঙ্গে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল। পরে চেইন টেনে ফেরত আনার পর দেখা গেছে সেখানে কুকুর দুটি নেই!

৫. পুরান ঢাকায় কাজের বুয়া সম্পর্কে ভূতুরে গল্প প্রচলিত রয়েছে। এমন ভূতুরে গল্প যারা জানেন, তারা অচেনা নারীকে বাড়িতে কাজে রাখতে চান না।

কথিত আছে, পুরান ঢাকার বাড়িতে বাড়িতে বুয়ার বেশে পিশাচ কাজের খোঁজ করে। না জেনে বিশ্বাস করে যারা তাকে কাজে রাখেন, তাদের ক্ষতি করে থাকে সে।

কখনও কখনও বাড়ির কর্তা কিংবা শিশু সন্তানকে হত্যাও করে থাকে এসব পিশাচেরা। কিন্তু লক্ষণ দেখে মনে হবে সেই ক্ষতি কিংবা মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক।

৬. পুরান ঢাকার পাশেই আজিমপুর কবরস্থানের অবস্থান। বিশাল এই কবরস্থানে কিন্তু রাত ১১টার পর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মীরাও ভেতরে প্রবেশ করেন না। অবশ্য কেন তাদের ভেতরে প্রবেশ নিষেধ সে সম্পর্কে কোনো উত্তর তারা দেয় না। বিশ্বাস না হলে আপনিও খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন!

কেবিএ