আসামে বাংলাদেশি ‘সুখী’র দাপট

ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫

আসামে বাংলাদেশি ‘সুখী’র দাপট

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৮

আসামে বাংলাদেশি ‘সুখী’র দাপট

ভারতের আসাম রাজ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট ‘সুখী’। বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় গর্ভনিরোধক হিসেবে ভারতীয় ‘মালা-ডি’র চেয়ে বাংলাদেশি ‘সুখী’তেই নির্ভর করছেন সেখানকার নারীরা।

প্রসূতি মৃত্যুসহ মহিলা স্বাস্থ্যের উপরে সাম্প্রতিক এক আলোচনা চক্রের বরাতে এমন তথ্য দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট ‘সুখী’ ভারতে স্বীকৃত নয়। তবে ভারতীয় মালা-ডি’র সরবরাহ প্রায় নেই। তাই সীমান্ত পার হয়ে আসা ‘সুখী’তেই নির্ভর করতে হচ্ছে আসামের নারীদের।

‘সুখী’ ট্যাবলেট বাংলাদেশে বিনামূল্যে দেয়া হয়। অবশ্য ভারতে পাচার হয়ে আসা ১০টি ট্যাবলেটের ‘সুখী’র এক পাতার দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা। অন্যদিকে, বাজারে চলতি গর্ভনিরোধকের প্রতি পাতার দাম পড়ে ৭৫ থেকে ১০০ টাকা। 

আসামের গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজের স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান আর কে তালুকদার জানান, রাজ্যের হাসপাতালে ভারতীয় গর্ভনিরোধক বড়ির অনিয়মিত সরবরাহ এবং ওই বড়ি নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন গুজবের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার মহিলারা বাংলাদেশ থেকে আসা ‘সুখী’কেই বেছে নিচ্ছেন।

সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আসামের ২২ শতাংশ মহিলা গর্ভনিরোধক বড়িতেই আস্থা রাখেন। কন্ডোমের ব্যবহার মাত্র ২.৭ শতাংশ। রাজ্যে প্রসূতি মৃত্যুর হার প্রতি লক্ষে ৩০০ জন যা জাতীয় হার ১৬৭ জনের প্রায় দ্বিগুণ।

জানা গেছে, ‘সুখী’র ব্যবহার শুধু আসম নয়, পশ্চিমবঙ্গেও প্রচুর। নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় ‘মালা-ডি’র চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় ‘সুখী’।

মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তা সুজয় রায় জানান, উত্তরবঙ্গেও বিভিন্ন এলাকায় সুখী বহুল প্রচলিত। সেখানকার দোকানগুলো ‘বেআইনি’ জেনেও ‘সুখী’ বিক্রি করছেন।

এমএসআই