সাংবাদিক হত্যা: সরকারের পতন ঠেকাতে মন্ত্রীর পদত্যাগ

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

সাংবাদিক হত্যা: সরকারের পতন ঠেকাতে মন্ত্রীর পদত্যাগ

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৮

সাংবাদিক হত্যা: সরকারের পতন ঠেকাতে মন্ত্রীর পদত্যাগ

স্লোভাকিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট কালিনাক সোমবার পদত্যাগ করেছেন। স্লোভাকিয়ার একজন সাংবাদিক ও তার বাগদত্তার খুন হওয়ার পর রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে ইউরোপের দেশটির সরকার।

২৭ বছর বয়সী অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ইয়ান কুসিয়াক ও তার বাগদত্তা মার্টিনা কুসনিরোভাকে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এরপর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হলে সরকারের জোটভুক্ত একটি দলের দাবিতে পদত্যাগ করেন কালিনাক।

স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এখন তার সরকারের পতন ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

কুসিয়াক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন জোচ্চুরির ঘটনার তদন্ত করছিলেন। তার মৃত্যুতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ আরও উস্কে ওঠে। গত শুক্রবার সেখানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভে অংশ নিতে রাজপথে নামে মানুষ।

সমালোচকরা বলছেন, কালিনাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হিসেবে পুলিশ বিভাগের দায়িত্বে থাকলে কুসিয়াক ও তার বাগতদত্তার খুনের সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব হবে না।

কালিনাককে অব্যাহতি দিতে নারাজ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ফিকো। কিন্তু তার জন্য জোটের মোস্ট-হিড দলের সমর্থন হারালে সরকারই টিকিয়ে রাখতে পারতেন না তিনি। একারণে কালিনাককে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

কুসিয়াকের হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উপেক্ষা করতে পারেনি দেশটির সরকার। ১৯৮৯ সালে কম্যুনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর সেখানে এত বড় বিক্ষোভ সমাবেশ আর দেখা যায়নি। শুধু রাজধানী ব্রাতিস্লাভাতেই জড়ো হয় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। দেশটির অন্যান্য শহরেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে।

মাফিয়ার সঙ্গে জড়িত ইতালির যেসব ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান স্লোভাকিয়ায় রয়েছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত করছিলেন কুসিয়াক। কুসিয়াক ইতালির একজন ব্যবসায়ীকে নিয়ে লিখেছিলেন।

ওই ইতালীয় নাগরিক প্রধানমন্ত্রী ফিকোর অফিসের দু’জন সদস্যের সঙ্গে যৌথভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন। ওই দু’জনও কুসিয়াক হত্যার পর পদত্যাগ করেছে, কিন্তু হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

আগে কুসিয়াক একজন রিয়েল স্টেট ডেভলপারের কর ফাঁকি দেয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। তাদেরও কালিনাকের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

এমআর/এমএসআই