‘আ’লীগ দুশ্চিন্তায় নেই, মাথাব্যথা না করে নির্বাচনে আসুন’

ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫

‘আ’লীগ দুশ্চিন্তায় নেই, মাথাব্যথা না করে নির্বাচনে আসুন’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৭:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৭

‘আ’লীগ দুশ্চিন্তায় নেই, মাথাব্যথা না করে নির্বাচনে আসুন’

আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার দুশ্চিন্তায় নেই মন্তব্য করে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে এসে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মাথাব্যথার শেষ নেই। এখন এই চিন্তা, তাহলে এর আগের নির্বাচনে তারা কেন আসেনি, তা আমার বোধগম্যতার বাহিরে।’

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আজ আপনারা (বিএনপি) ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন নির্বাচনে আসার জন্য। আমরাও চাই আপনারা নির্বাচনে আসেন। আশা করি আপনারা (বিএনপি) বুঝতে পেরেছেন নির্বাচনে না এলে আপনাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যাবে। আমরা (আওয়ামী লীগ) আগামী নির্বাচনেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

নির্বাচন সংক্রান্ত বিএনপির দাবির ব্যাপারে হানিফ বলেন, সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে একচুলও নড়চড় হবে।

তিনি বলেন, গতকালও (মঙ্গলবার) খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় বিএনপি কর্মীরা রাস্তায় সহিংসতা করেছে। কিন্তু এটা তাদের মনে রাখতে হবে যে তারা যদি আন্দোলনের নামে জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙচুর করে, তবে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী নিজের দোষ ঢাকতেই নানা ধরনের অজুহাত ও মন্তব্য করছেন। আপনার (খালেদা) বিরুদ্ধে মামলা আওয়ামী লীগ দেয়নি। দিয়েছিল আপনারই পছন্দের তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

হানিফ আরো বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণ হঠাৎ করে ঘটা কোনো ঘটনা নয়। এদেশ বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি। যারা নিজের দাবি সম্পর্কে সচেতন ছিল না তাদের জাগিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার ১৮ মিনিটের বক্তব্যের মধ্যেই বাংলাদেশের জন্য সকল ধরনের নির্দেশনা ছিল। এদেশ সৃষ্টি হয়েছিল আপামর বাঙালির মহান ত্যাগের মাধ্যমে। আর এর মূল অনুপ্রেরণা এসেছিল ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে। কিন্তু ৭৫-এর পর এই ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। অগণিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এই ভাষণ বাজানোর কারণে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। বিএনপি-জামায়াত ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমেই এদেশে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে দাবিয়ে রাখা যাবে। আজ এটা প্রমাণিত হয়েছে, যারা বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে সহ্য করতে পারে না, তারা পাকিস্তানের প্রেতাত্মা ছাড়া আর কিছুই নয়। ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো স্বীকৃতি পাওয়ায় আজ তারা (বিএনপি-জামায়াত) ইর্ষান্বিত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে বুধবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের আমিও একজন শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। এই ভাষণের প্রতিটি বাক্য, শব্দ একটা একটা করে বিশ্লেষণ করা যায়। খুবই অর্থবহ ভাষণ ছিল এটি। এটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের খোরাক, অনুপ্রেরণা। এই ভাষণ ইউনেস্কো স্বীকৃতি পাওয়ায় পুরো বাঙালি জাতির বিরাট গৌরব। বিরাট অর্জন। বাংলাদেশ আজ সকল খাতে উন্নত। একটি খাতও বাদ নেই যেখানে উন্নতি হয়নি। কিন্তু বিএনপির আমলে এটি ছিল না। আর এর উজ্জ্বল উদাহরণ রেল। শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের স্বাধীনতার রূপকার। আর তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। তাই আগামী নির্বাচনে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনার সরকারের কোনো বিকল্প নেই। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে নির্বাচিত করতে আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।

এছাড়া আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

কেবিডি/এএল