রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি প্রতারণা করছে: কাদের

ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি প্রতারণা করছে: কাদের

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১২:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭

print
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি প্রতারণা করছে: কাদের

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষে ‘যানজট ও দূষণমুক্ত নগরায়ণের প্রয়োজন: গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি তো ওখান (রোহিঙ্গা ক্যাম্প) থেকে এলাম ৫ দিন পর। এদের (বিএনপি নেতাদের) কি এ ধৈর্য আছে? তাদের কি এই মানসিকতা বা চেতনা আছে? তারা যা করছে তা হল দায়সারা। জাস্ট লোক দেখানো।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের মুখের কথা আর মনের কথা এক নয়। এটা এতদিনে প্রমাণ হয়ে গেছে। যেখানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হচ্ছে, স্যানিটেশন দেয়া হচ্ছে, মেডিকেশন দেয়া হচ্ছে, খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে; বাস্তবে তারা ওই উখিয়া-টেকনাফ গিয়ে পরিস্থিতি দেখে কথা বলছে না। সুতরাং আমি বলব- তারা লিভ সার্ভিস দিচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি তথাকথিত জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সো কলড জাতীয় ঐক্য ডেকে লিভ সার্ভিস (বক্তৃতা সর্বস্ব) দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। শুধু সরকারের সমালোচনা করলেই কী জাতীয় ঐক্য হয়ে যায়? জাতীয় ঐক্য কি তাদের মুখে না মনে আমি জানতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘সারা দুনিয়া বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার মানবিক ও সাহসিক ভূমিকার প্রশংসা করছে। বাংলাদেশের জনগণ, বিশ্ববাসী বর্তমান সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ঠিক তখন বিএনপি ঢাকায় বসে বসে টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে লিভ সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম প্রথম তারা বলছিল যে, তাদের ত্রাণ দিতে দেয়া হচ্ছে না। আমি যেদিন যাই, দেখি একই প্লেনে বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাহেব ছিলেন। আমি বললাম, আমি এখানে আছি; আপনাদের কে বাধা দেয় জানাবেন। আমি আমার নাম্বার দিয়েছি। আমার সঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির নানক ছিল। তার নাম্বার তারা নিয়ে গেছেন এবং পরের দিন কয়েকবার তাদের আমি জিজ্ঞেস করেছি কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। তারা একটা ক্যাম্প করেছেন। আমি সেটার সামনে দিয়ে গিয়েছি, তারা বলেছেন যে কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না।’

সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, ‘আসলে ৪/৫ লাখ লোক, তাদের ভিতরে ১০/২০ ট্রাক নিয়ে যাবে তা তো লুট হয়ে যাবে যদি নিয়ম না মানেন। আপনার নিজেরও নিরাপত্তা থাকবে না। কী যে অবস্থা তা ভাবতেও পারবেন না। ঢাকায় বসে প্রেস রিলিজ দেওয়া যায়, মায়া কান্না দেখানো যায়।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি মনের দিক থেকেও দরিদ্র। সরকার মেট্রিকুলাসলি ওর্গানাইজ করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করে, বিশ্ব দরবারে জনমত গড়ে ‍তুলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং জাতিসংঘে। তিনি যে প্রধানমন্ত্রী খচিত বক্তব্য রাখলেন, তাতে আমরা আশা করছি বিশ্বের নামি-দামি দেশগুলো মিয়ানমারের এই অমানবিক টর্চারের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হবে। আমি মনে করি, বিএনপি বাস্তবে বক্তৃতা সর্বস্ব কথা বাদ দিয়ে কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ নিবে। যে নেতিবাচক পথ বেছে নিয়েছে তারা, তা থেকে ফিরে আসবে।’

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এন ছিদ্দিক, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউ এন ডি পির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ মুখার্জী, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন উপস্থিত ছিলেন।

মেট্রোপলিন পুলিশ, নিরাপদ সড়ক চাই, পারিবেশবাদী আন্দোলনসহ ৪৬টি সংগঠন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এলআর/আইএম

 
.



আলোচিত সংবাদ