‘সব ধান্দাবাজি, জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল’

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬

‘সব ধান্দাবাজি, জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৩:৫২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

‘সব ধান্দাবাজি, জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল’

সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহুমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে করাগারে আটকে রেখেছেন। তারা(খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) জামিনের জন্য আবেদন করেছেন। জামিন তিনি পেতে পারেন। সবাই বলেছেন খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার অধিকার আছে। আদালত বলল মেডিকেল রিপোর্টের কথা। চিন্তা করতে পারেন এতদিন সময় নেয়ার পর কোর্টকে তা দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বলা হয়, আমরা আইন মানি না। আদালত মানি না। তাহলে বঙ্গবন্ধু হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডে কি আদালত মানেন? যদি মানতো তাহলে তো মেডিকেল রিপোর্ট দিত। এখন বলা হচ্ছে তারা মেডিকেল রিপোর্ট পেয়েছেন, কিন্ত এরমধ্যে কিছু পরীক্ষা বাকী আছে। কেন টেষ্ট বাকী আছে? কালকে আদালত বলতে পারবো, ২৪ ঘণ্টা বা ৪৮ঘন্টার মধ্যে টেষ্টগুলো করে আদালতে জমা দেন।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক নারী ঐক্যের উদ্যোগে দেশে ও মধ্যপ্রাচ্যে নির্যাতনে নারীর মৃত্যু, দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন বৃদ্ধি ও দুর্বিসহ জীবনের অবসানের দাবিতে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘১২ তারিখে কেন আবার শুনানির ডেট দেয়া হলে। কারণ ১৩ তারিখ থেকে আদালত দীর্ষদির জন্য বন্ধ সেই জন্য তো! সব বগিজগি দান্ধাবাজি জনগকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটার পর একটা অপকৌশল।’

তিনি বলেন, ‘মানববন্ধনে যারা দাঁড়িয়েছি কেউ বিএনপি করি না। এটা মনে করি না আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে গেলে বিএনপি আসলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এটা বলি দুই কোটি টাকার জন্য কারো জেল হতে পারে না। লক্ষ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে পাচার হয়েছে গেছে কিন্তু আজকেও রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি। যারা ব্যাংক, শেয়ার মার্কেট ধ্বংসের জন্য দায়ী ওখানে কোনো মামলা হয়নি। ওটাকে বলেন, শুদ্ধি অভিযান। ওই অভিযানও বন্ধ রয়েছে।’

মধ্যপ্রাচ্যে নারী নির্যাতনের কথা তুলে ধরে মান্না বলেন, ‘সরকারের পক্ষ বলা হয়, তারা দেশে বাইরে যান কেন? এই প্রশ্ন আমরাও করি, নারীরা, মেয়েরা আমাদের দেশে চাকরি পায় না কেন?। গৃহকর্মীর চাকরি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যায় কেন?’

তিনি বলেন, ‘এটা বিজয়ের মাস আর ক্ষমতাসীনরা। এটা বলে সারাদেশে উৎসব করে রেড়াচ্ছে। আর মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মা-বোনেরা কাঁদছেন। নির্যাতিত, নিগৃত, ধর্ষিতা হচ্ছেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মারা যাচ্ছেন। ৫০ জনের মত মৃত্যুর খবর পাচ্ছি। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, হাজার হাজার মানুষ কাজে যাই এর মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু তেমন কিছু না। তার মানে আমাদের মন্ত্রীর মানুষের মৃত্যু বিচলিত করে না। তারা কষ্ট পান না, তারা বুঝতে পারেন না, এতে সারাদেশের ইজ্জত যায়।

একটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টে কথা উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, কোন কোনো জায়গায় ব্যর্থ হয়েছেন তা উল্লেখ্য করো হয়েছে। পেঁয়াজের দাম, চালের দাম কমাতে পারেনি। আপনাদেরকে মানুষ ভোট দেয়নি জোর করে ক্ষমতায় দখল করেছন। আপনাদের ক্ষতায় থাকার কোনে অধিকার নেই। আপনরা এখন যা করছেন সবই অবৈধ। আপনারা কোনো জিনির দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছেন না। এখন নতুন করে পায়তারা করছেন বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন। গণশুনিানি যা হয়েছে আপনার বিদ্যুৎ এর দাম বাড়ানোর পক্ষে কোনো যুক্তি দেখাতে পারিনি। অতএব বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারবেন না। জিনিসের দাম কমাতে হবে। বতৃক্তা করার জন্য বলেন, প্লেনে উঠি গেছে পেঁয়াজ। কই সেই পেঁয়াজ? পত্রিকা খুলে বুঝা যায় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কত ভালো!

সরকারের উদ্দেশ্যে মান্না বলেন, ‘যদি এত ভালো কাজ করে থাকেন তাহলে কেন সুষ্ঠু ভোট দিচ্ছে না কেন? ভোট দিতে হবে, ক্ষমতা ছেড়ে যেতে হবে আপনাদের কাছে এর কোনো বিকল্প নেই।

মানববন্ধনে অংশ নেন- নাগরিক নারী ঐক্যের নেতাকর্মীরা।

এমএইচ

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও