কী করবে বিএনপি?

ঢাকা, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬

কী করবে বিএনপি?

মাহমুদুল হাসান ৮:০৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

কী করবে বিএনপি?

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলটির পক্ষ থেকে বারবারই দাবি করা হচ্ছে, ‘অবৈধ, অনৈতিক এবং রাজনৈতিক কারণে’ খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

তবে দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে রাজপথ আন্দোলনে সক্রিয় কোনো কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামতে পারেননি দলটির নেতা-কর্মীরা।

ঘরোয়া সভা-সেমিনারে হুঙ্কার তুলে দায় সেরেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব না’ মেনে নিয়ে ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ সৃষ্টিতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা- এমন দাবি খোদ দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

এ প্রসঙ্গে দলটির একাধিক নেতাকর্মী বলেন, ‘এখন আর লেজগুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না, যেকোনো মূল্যে নেত্রীকে মুক্ত করতে হবে।’

সম্প্রতি খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে নড়েচড়ে বসে বিএনপির নেতাকর্মীরা। গত ২৬ নভেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে হাইকোর্টের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল’-এর ব্যানারে কর্মসূচি পালন শুরু হয়।

এতে অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ, শওকত মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

পরে প্রেসক্লাব থেকে নোমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা কদম ফোয়ারার দিকে মিছিল নিয়ে যান। হাইকোর্টের প্রধান ফটক থেকে মাজার গেট পর্যন্ত তারা অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। হাইকোর্টের ফটকগুলোয় অবস্থান নিতে গিয়ে অনেক নেতাকর্মীরা রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে গত ২৮ নভেম্বর জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন নতুন দিন ঠিক করে দেয়া হয়। একই সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নতুন দিন অনুযায়ী আগামীকাল বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার মামলা শুনানি রয়েছে। বিএনপির নেতারা এই নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। দলের নেতারা বলেছেন, আগামীকালের উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত দেখে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবে বলে জানিয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আমাগীকাল আমাদের নেত্রীর মামলার তারিখ আছে। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত দেখে আমরা দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মামলায় এভাবে কাউকে আটকে রাখার নজির ইতিহাসে নেই। দেখি আগামীকাল কি সিদ্ধান্ত আসে?’

একই কথা বললেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও। তিনি বলেন, ‘দেখি না আগামীকাল কী হয়? আমরা আর কতদিন এভাবে অপেক্ষা করবো?’

বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোটেক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আদালত যদি পবিত্র মন নিয়ে বিচার করে তাহলে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতাই থাকবে না। সংবিধান এবং দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বয়স্ক ও অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া জামিন প্রাপ্য।’

সরকার হস্তক্ষেপ করলে বা জামিনের কোনো রকম ব্যত্যয় ঘটলে দলের সিনিয়র নেতারা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আন্দোলনের কর্মসূচির কথা বিবেচনায় রেখেছেন বলেও জানান আলাল।

বিএনপির সহ-স্থাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হেঁটে আদালতে হাজির হন। পরবর্তীতে যখন তাকে  বিএসএমএমইউতে হেল্থ চেকআপে আনা হয় তখনও তিনি হেঁটে এসেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা খবুই খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি একা উঠে দাঁড়াতে পারছেন না। কারো সাহায্যে তাকে বিছানা থেকে উঠতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সুচিকিৎসার অভাবে রয়েছেন। প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার তার পছন্দ অনুযায়ী ডাক্তারের সেবা গ্রহণ করা। কিন্তু খালেদা জিয়া এটা পাচ্ছেন না। অতীতে তিনি বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাই আমরা বলবো তার চাহিদামতো পছন্দের চিকিৎসক দ্বারা যাবে তিনি চিকিৎসা নিতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘উচ্চ আদালত যে মেডিক্যাল রিপোর্ট চেয়েছেন, আমরা আশা করবো; হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেন কোনো চাপে নত না হয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সঠিক রিপোর্ট যেন আদালতে জমা দেয়।’

গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য পহেলা এপ্রিল বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬১২ নম্বর কেবিনে তাকে রাখা হয়েছে।

এমএইচ/এইচআর

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও