খালেদা জিয়ার কিছু হলে সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের: ড্যাব

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬

খালেদা জিয়ার কিছু হলে সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের: ড্যাব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১:০১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

খালেদা জিয়ার কিছু হলে সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের: ড্যাব

বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতারা। বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন ড্যাব ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম।

ডা. শামীম লিখিত বক্তব্যে বলেন, আগামীকাল ৫ই ডিসেম্বর আদালত বিএসএমএমইউ কতৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদীয় নির্বাচনে সবসময় সবকটি আসনে জনগনের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, যিনি সাবেক সেনাপ্রধান, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপাসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট তলব করেছে। ৭৫ বছর বয়স্ক এই মহিয়সী নারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির হাল ধরেন।

দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপোষহীনভাবে নেতৃত্ব দিয়ে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হন এবং বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও ১/১১ পরবর্তী সময় তা ব্যাহত হয়।

তিনি বলেন, ১/১১ সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত একটি ভিত্তিহীন মামলায় আদালতের রায়ে বর্তমানে তিনি কারাবন্দী আছেন। একইসময়ে একই রকম মামলা যা ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের নামেও ছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং অন্যরাও অধিকাংশ জামিনে আছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বেগম খালেদা জিয়া তার স্বাভাবিক আইনগত অধিকার থেকেও বঞ্চিত।

চিকিৎসক এই নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে Highly Active Deforming, Rheamatoid arthritis, Uncontrolled Diabetes Mellitus, Hypertension, Adhesive capsulitis, Recurrent hyponatraemia and Aneamia রোগে ভুগছেন। এমতাবস্থায় তিনি জেলখানায় সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় এবং স্বাভাবিক পরিবেশ না থাকায় উক্ত রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছে।

জটিলতার কারণে তার হাত এবং পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোসহ শরীরের ভিবিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে এবং তাতে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে। যার কারনে জয়েন্টগুলি Stiff (শক্ত) এবং deformed (বাঁকা) হতে চলেছে যা কিনা অচিরেই স্থায়ী রুপ ধারন করতে পারে এবং যার কারণে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, ওঠাবসা এমনকি নিজ হাতে খাবার পর্যন্ত খেতে পারছেন না।

ডাঃ শামীম বলেন, গত পরশুদিন (সোমবার) ডাক্তাররা বেগম খালেদা জিয়ার ওজন মাপতে বারবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তীব্র ব্যাথায় তিনি বিছানা থেকে নামতে পারেননি । তাছাড়া তিনি ব্যাথার কারণে ঘুমাতেও পারছেন না ভালোভাবে। ভয়ংকর ব্যাপার হলো ওনার ডান পায়ে একটি গুটি উঠেছে।

ড্যাবের এই নেতা বলেন, ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে নিজ পায়ে হেটে জেলখানায় প্রবেশ করেন। নিজে হেঁটে দোতলায় তার নির্ধারিত রুমে যান, এমনকি জেলখানা থেকে এর আগের বার যখন বিএসএমএমইউতে আসেন তখন গাড়ী থেকে নেমে নিজে লিফট পর্যন্ত হেঁটে যান। সময়ের পরিক্রমায় তিনি কিভাবে আজকের অবস্থায় উপনীত হলেন- আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে সঠিক চিকিৎসার অভাবে তিনি ধীরে ধীরে এই অবস্থায় উপনীত হয়েছেন। তিনি সুচিকিৎসা পেলে এই অবস্থা হতো না ।

তিনি বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, খালেদা জিয়ার কিছু হলে তার দায়ভার সম্পুর্ণরুপে সরকারকেই বহন করতে হবে। খালেদা জিয়াকে বন্দি করে বিনা চিকিৎসায় আপনি অমানবিক কষ্ট দিচ্ছেন। তার  প্রতি এই নিষ্ঠুরতা বিশ্বের স্বৈরশাসকরা যে আচরণ করে সেই আচরণেরই সমতুল্য। জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আঁচ করতে পারছেন না বলেই বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্তি না দিয়ে তাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার চেষ্টা করছেন। তাই আমরা ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি যে, জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দ্বারা তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক এবং মেডিকেল রিপোর্ট মোতাবেক যে কোনো স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় এই ধরনের মামলায় জামিন হয়।

এসময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ড্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. মো. আবদুস সেলিম, ড্যাব ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ডা. মাসুম বিল্লাহ, ডা. গালিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

এমএইচ/এফএ

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও